ঢাকা ০৮:৩৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মণিরামপুরে আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতি

মনিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৭:৫২:১২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬
  • / ২০ বার পঠিত

দিন গেলই মণিরামপুরের জনপদ অনিরাপদ হয়ে উঠছে। উপজেলা বাসী ভুগছে সর্বস্ব চোর আতঙ্কে ! ছিনতাই – ডাকাতি, হুমকি-হামলা,ধর্ষণ-খুন আর জুয়া-মাদকে ১৭টি ইউনিয়ন জুড়ে বিরাজ করছে চরম বিশৃঙ্খলা। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সহনীয়তার মাত্রা ছাড়িয়ে চরম বিশৃঙ্খলায় রূপ নিয়েছে।

এমন কি, অনুসন্ধানী টিমের সদস্যরাও তথ্য সংগ্রহে গিয়ে হুমকির সম্মুখীন হয়েছে। প্রাপ্ত তথ্য প্রচারে বাঁধা প্রয়োগে ব্যার্থ হয়ে সাংবাদিকের বাসা বাড়ির গেটে হত্যার হুমকি স্বরুপ ‘কাফনের কাপড়’ রেখে দিয়ে অপরাধীরা সমাজের কাছে আইনশৃঙ্খলাকে করেছে প্রশ্নবিদ্ধ।

‎জুন-জুলাই-আগস্ট মাসের প্রেক্ষাপট পর্যালোচনা, ৩টি পুলিশ ক্যাম্প ও মণিরামপুর থানা পুলিশের আইনি সহায়তার বিপরীতে সাধারণ মানুষের সাথে খামখেয়ালীর মাধ্যমে গণতন্ত্রের গলা চেপে প্রহসন করা হয়েছে বলে মনে করছে সচেতন মহলের ব্যাক্তিবর্গ। শুধুই পুলিশ নই, উপজেলা প্রশাসনের নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় ও সহকারি কমিশনার ভূমি মণিরামপুরের কার্যক্রমেও ভেসে উঠেছে প্রশাসনের নড়বড়ে চিত্র।

বাস্তবচিত্রে প্রশাসন এতটাই ভঙ্গুর যে, দেশের বৃহত্তম এ উপজেলার মানুষ চুরি-ডাকাতির হাত থেকে রক্ষা পেতে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছে। রাত জেগে পাহারার একটি ফুটেজে দেখা গেছে, উপজেলার ভোজগাতী ইউনিয়নের বেগারীতলা এলাকাবাসী দলবেঁধে পাহারা জোরদার রেখেছে।

বিগত দিনে তথ্য ও প্রযুক্তির ব্যবহারে ২৪ ঘন্টার ব্যবধানে অনেক ক্লু-লেস অপরাধের রহস্য উন্মোচন করে দোষিকে আইনের আওতায় আনলেও মণিরামপুর উপজেলাব্যাপী চুরির হিড়িক, ছিনতাই, ডাকাতিসহ বিভিন্ন বিশৃঙ্খলার ঘটনায় প্রশাসনের নড়বড়ে অবস্থানে প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে মণিরামপুর উপজেলা ও থানা প্রশাসন।

‎তথ্যচিত্র বলছে, গত তিন মাসে উেপজেলা ও পৌরসভা জুড়ে অর্ধশত চুরি ও বিভিন্ন বিশৃঙ্খলা ঘঠেছে। বিশেষ করে গরু চুরি,ব্যাবসা প্রতিষ্ঠানে ডাকাতি, বসতবাড়িতে সংঘবদ্ধ লুটপাট, ছিনতাইয়ের একাধিক ঘটনায় ভুক্তভোগীরা মণিরামপুর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ করলেও থানা পুলিশের তেমন কোন তৎপরতা দেখা যায়নি। সর্বশেষ পৌরসভার দূর্গাপুর, কামালপুর, জুড়ানপুর, বিজয়রামপুর ও গাংড়ায় বেশ কয়েকটি বিশৃঙ্খলার খবর পাওয়া গেছে।

উপজেলা ভিত্তিক তথ্য আছে, বসত বাড়িতে সংঘবদ্ধ লুটপাট, গরু চুরি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান লুটের কয়েকটি ঘটনার মধ্য উপজেলার ভোজগাতী ইউনিয়ন এনামুলের বাড়িতে এক মাসে ২বার চুরির ঘঠনা ঘঠেছে। তিনি দাবী করেন, মণিরামপুর থানা পুলিশের কাছে অভিযোগ দিলেও তদন্ত পর্যন্ত করেনি।

পরিস্থিতি এতটায় হৃদয়বিদারক যে, যুবক এনামুলের পিতা আক্ষেপ করে বলেছে- চল আমাদের সবকিছু বিক্রি করে দিয়ে অন্য কোথাও চলে যায়। একই এলাকার জামতলা মোড়ে ২টি দোকানে চুরি হয়, ২৭শে আগষ্ট রাতে একই এলাকার বেগারীতলাতলা বাজারে মারুফের গ্রিলের দোকানে চুরির ঘঠনায় স্থানীয় জনতা প্রশাসনের দায়িত্বহীনতায় নিজেদের জানমালের নিরাপত্তায় রাত জেগে পাহারা দিতে শুরু করেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ বিগত সময়ে বেগারীতলার জামতলা মোড়ে নিয়মিত পুলিশ টহল দিতো। বেশ সময় অবস্থান করতো। এখন তো কোন টহল আসেনা।

থানা প্রশাসনের সাথে কয়েকজন ভুক্তভোগী ও স্থানীয় গণমাধ্যমের একাংশের তথ্য মোতাবেক, অবৈধ দখলদারিত্ব, প্রভাব বিস্তারকারি, ব্যাক্তি মালিকানা জমি ভোগদখলের বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সম্রাট হোসেন ও উপজেলা সহকারি কমিশনার ভূমি মাহির দায়ান আমিনকে অবগত করলেও এসব বিষয়ে তেমন কোন পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি।

গত কয়েক মাস আগে উপজেলার ঢাকুরিয়া বাজারস্থ বাওড়ের উপর মার্কেট নির্মানের অভিযোগে দখলদার শিহাব হোসেনের বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি জাতীয় ও স্থানীয় দৈনিকে ফলোআপ সংবাদ প্রচার হলেও উপজেলা সহকারি কমিশনার ভূমি মাহির দায়ান আমিন ব্যবস্থা নিতে চাইলেও এখনো অব্দি দেখা যায়নি কোন পদক্ষেপ।

এছাড়াও, কয়েকটি ঘেরের কারনে এলজিইডির সরকারি সড়কের ক্ষতিগ্রস্তের বেহাল অবস্থার বিষয়ে বারবার বলা হলেও অজানা কোন কারনে দেখা যায়নি সাদৃশ্য কোন অভিযান,নেওয়া হয়নি কোন ব্যবস্থা। এদিকে আগস্টের ২৪ তারিখে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের ফটকে বোরখা পরিহিত এক বয়স্ক নারী দীর্ঘ সময় দাড়িয়ে সেবা না পেয়ে ফিরে যাওয়ার ঘঠনা ঘঠেছে।

সোমবার (২৪শে আগষ্ট)  ঘন্টার পর ঘন্টা দাড়িয়ে কালো বোরকা পরিহিত মধ্য বয়সী ঐ নারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ সম্রাট হোসেনের সাথে অভিযোগের ব্যাবস্থা নেওয়ার বেপারে খবর নিতে এসেছিলেন বলে জানা গেছে। এদিকে পৌরসভার ভেতরে কয়েক চুরি, ছিনতাই, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, কিশোর গ্যাং দৌরাত্ম, মাদক সিন্ডিকেটের স্বক্রিয়তা, টেন্ডারবাজির অধিপত্যে বিস্তারকে কেন্দ্র করে কয়েকটি বিশৃঙ্খলার ঘঠনায় পৌরসভা জুড়ে জনমনে আতংক বিরাজ করছে।

তথ্য আছে, ২/৩ মাস ধরে পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডে ছিঁচকে চোর হতে বেশ কয়েকটি ডাকাতির ঘঠনা ঘঠেছে। তাহেরপুর, জুড়ানপুর, বিজয়রামপুর, দূর্গাপুর ও কামালপুর গ্রামের ৮/১০টি বাড়ি থেকে মুঠোফোন, স্বর্নালংকার,আসবাবপত্র এমনকি এক সপ্তাহের ব্যবধানে কামালপুর গ্রামের আঃ লতিফ, মিজানুর রহমানের বাড়ি হতে হালের চাষের গরু চুরির ঘঠনা ঘঠেছে।

একই রাতে সংগঠিত একাধিক বাড়িতে কয়েকটি গরু চুরির মধ্য মণিরামপুর সহকারি পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনের বাড়ি হতে দরিদ্র আওয়ালের ১টি গাভী ও ১টি বড় এড়ে গরু সার্কেল এএসপির কার্যালয়ের ফটকের সামনে দিয়ে চোরেরা প্রধান সড়কে গাড়ি রেখে সেখান থেকেই গাড়িতে তুলে চলে যায়। এ বিষয়ে কয়েকটি সিসি ফুটেজে গরু চোর চক্রের যাওয়ার দৃশ্যের ভিডিও থাকলেও শনাক্তকরনে ব্যার্থ হয়েছে প্রশাসন।

ভুক্তভোগী মিজানের ছেলে ও আওয়ালের ছোট ভাই দাবী করেন ইতিপূর্বে চুরির ঘঠনায় মণিরামপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করলেও কোন রকম তদন্তে আসেনি পুলিশ! বরং খোজ নিতে গেলে থানা থেকে অবহেলা করে বলে – যান দেখবানে।

সাদ্দাম হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করেন যে, আমার ভাই (আওয়াল) তার দৈনিক উপার্জনের অর্থে ২টি গরুর ভরনপোষণ করতো, যে মুহূর্তে গরু ২টা বিক্রির যোগ্য হয়েছে তখনই চুরি হলো।তিনি আরো বলেন, এএসপির কার্যালয়ের সামনে গাড়ি দাড় করিয়ে চোরেরা গরু লোড দিয়ে নিয়ে গেলো তবুও কোন ব্যবস্থা নিতে দেখা গেলোনা।

এদিকে গত জুন মাসে পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ড তাহেরপুর হতে ভ্যান চালক গোলদারের বাড়ির বারান্দা হতে চোরেরা ঐ দিনমজুরের একমাত্র সম্বল ভ্যানটি চুরি করে নিয়ে যায়। ঘঠনা জানতে গোলাদারের সাথে কথা হলে তিনি দাবী করেন, আমি আর ভ্যান কেনবো না,চালাবো না ভ্যান,দেখি চোরে কি নেই। তিনি অভিযোগ করেন, আমার বাড়ির আশপাশে সব চোর!

উপজেলা ও পৌরসভা ব্যাপী গরু চুরির হিড়িকসহ বিভিন্ন বিশৃঙ্খলার ঘঠনায় মণিরামপুর থানা পুলিশের ভূমিকা জানতে চাইলে থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু সাঈদের গতানুগতিক মন্তব্য- আমরা এসমস্ত বিষয়ে কাজ করছি। গোয়েন্দা পুলিশের সহযোগিতা নেওয়া হয়েছে,তদন্ত শেষ হলে জানানো হবে।

তবে উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটি প্রতিমাসেই মিটিং করে,যারা উপস্থিত থাকে হয়তো সেখানে সমস্যা উত্থাপন হয় কিন্তু সমাধানকল্পে কার্যক্রমে হঠাৎ তড়িঘড়ি দেখিয়ে পরে আর কোন ব্যবস্থা না নেওয়ায় অপরাধীরা একের পর এক অপারাধে সম্পৃক্ত হচ্ছে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ভুক্তভোগী ও সচেতন মহল।

‎তবে ১৭টি ইউনিয়ন ও এক পৌরসভাতে আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতির বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও মণিরামপুর উপজেলা আইনশৃংখলা কমিটির সভাপতি সম্রাট হোসেন জানান, উপজেলা আইন শৃঙ্খলা কমিটির সভায় আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সার্বিকভাবে আলোচনা  করা হয় এবং সেই আলোকে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যসহ আমরা আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখাসহ জনস্বার্থে নিরন্তর কাজ করছি।

ট্যাগস :

মণিরামপুরে আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতি

আপডেট সময় : ০৭:৫২:১২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬

দিন গেলই মণিরামপুরের জনপদ অনিরাপদ হয়ে উঠছে। উপজেলা বাসী ভুগছে সর্বস্ব চোর আতঙ্কে ! ছিনতাই – ডাকাতি, হুমকি-হামলা,ধর্ষণ-খুন আর জুয়া-মাদকে ১৭টি ইউনিয়ন জুড়ে বিরাজ করছে চরম বিশৃঙ্খলা। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সহনীয়তার মাত্রা ছাড়িয়ে চরম বিশৃঙ্খলায় রূপ নিয়েছে।

এমন কি, অনুসন্ধানী টিমের সদস্যরাও তথ্য সংগ্রহে গিয়ে হুমকির সম্মুখীন হয়েছে। প্রাপ্ত তথ্য প্রচারে বাঁধা প্রয়োগে ব্যার্থ হয়ে সাংবাদিকের বাসা বাড়ির গেটে হত্যার হুমকি স্বরুপ ‘কাফনের কাপড়’ রেখে দিয়ে অপরাধীরা সমাজের কাছে আইনশৃঙ্খলাকে করেছে প্রশ্নবিদ্ধ।

‎জুন-জুলাই-আগস্ট মাসের প্রেক্ষাপট পর্যালোচনা, ৩টি পুলিশ ক্যাম্প ও মণিরামপুর থানা পুলিশের আইনি সহায়তার বিপরীতে সাধারণ মানুষের সাথে খামখেয়ালীর মাধ্যমে গণতন্ত্রের গলা চেপে প্রহসন করা হয়েছে বলে মনে করছে সচেতন মহলের ব্যাক্তিবর্গ। শুধুই পুলিশ নই, উপজেলা প্রশাসনের নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় ও সহকারি কমিশনার ভূমি মণিরামপুরের কার্যক্রমেও ভেসে উঠেছে প্রশাসনের নড়বড়ে চিত্র।

বাস্তবচিত্রে প্রশাসন এতটাই ভঙ্গুর যে, দেশের বৃহত্তম এ উপজেলার মানুষ চুরি-ডাকাতির হাত থেকে রক্ষা পেতে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছে। রাত জেগে পাহারার একটি ফুটেজে দেখা গেছে, উপজেলার ভোজগাতী ইউনিয়নের বেগারীতলা এলাকাবাসী দলবেঁধে পাহারা জোরদার রেখেছে।

বিগত দিনে তথ্য ও প্রযুক্তির ব্যবহারে ২৪ ঘন্টার ব্যবধানে অনেক ক্লু-লেস অপরাধের রহস্য উন্মোচন করে দোষিকে আইনের আওতায় আনলেও মণিরামপুর উপজেলাব্যাপী চুরির হিড়িক, ছিনতাই, ডাকাতিসহ বিভিন্ন বিশৃঙ্খলার ঘটনায় প্রশাসনের নড়বড়ে অবস্থানে প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে মণিরামপুর উপজেলা ও থানা প্রশাসন।

‎তথ্যচিত্র বলছে, গত তিন মাসে উেপজেলা ও পৌরসভা জুড়ে অর্ধশত চুরি ও বিভিন্ন বিশৃঙ্খলা ঘঠেছে। বিশেষ করে গরু চুরি,ব্যাবসা প্রতিষ্ঠানে ডাকাতি, বসতবাড়িতে সংঘবদ্ধ লুটপাট, ছিনতাইয়ের একাধিক ঘটনায় ভুক্তভোগীরা মণিরামপুর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ করলেও থানা পুলিশের তেমন কোন তৎপরতা দেখা যায়নি। সর্বশেষ পৌরসভার দূর্গাপুর, কামালপুর, জুড়ানপুর, বিজয়রামপুর ও গাংড়ায় বেশ কয়েকটি বিশৃঙ্খলার খবর পাওয়া গেছে।

উপজেলা ভিত্তিক তথ্য আছে, বসত বাড়িতে সংঘবদ্ধ লুটপাট, গরু চুরি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান লুটের কয়েকটি ঘটনার মধ্য উপজেলার ভোজগাতী ইউনিয়ন এনামুলের বাড়িতে এক মাসে ২বার চুরির ঘঠনা ঘঠেছে। তিনি দাবী করেন, মণিরামপুর থানা পুলিশের কাছে অভিযোগ দিলেও তদন্ত পর্যন্ত করেনি।

পরিস্থিতি এতটায় হৃদয়বিদারক যে, যুবক এনামুলের পিতা আক্ষেপ করে বলেছে- চল আমাদের সবকিছু বিক্রি করে দিয়ে অন্য কোথাও চলে যায়। একই এলাকার জামতলা মোড়ে ২টি দোকানে চুরি হয়, ২৭শে আগষ্ট রাতে একই এলাকার বেগারীতলাতলা বাজারে মারুফের গ্রিলের দোকানে চুরির ঘঠনায় স্থানীয় জনতা প্রশাসনের দায়িত্বহীনতায় নিজেদের জানমালের নিরাপত্তায় রাত জেগে পাহারা দিতে শুরু করেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ বিগত সময়ে বেগারীতলার জামতলা মোড়ে নিয়মিত পুলিশ টহল দিতো। বেশ সময় অবস্থান করতো। এখন তো কোন টহল আসেনা।

থানা প্রশাসনের সাথে কয়েকজন ভুক্তভোগী ও স্থানীয় গণমাধ্যমের একাংশের তথ্য মোতাবেক, অবৈধ দখলদারিত্ব, প্রভাব বিস্তারকারি, ব্যাক্তি মালিকানা জমি ভোগদখলের বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সম্রাট হোসেন ও উপজেলা সহকারি কমিশনার ভূমি মাহির দায়ান আমিনকে অবগত করলেও এসব বিষয়ে তেমন কোন পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি।

গত কয়েক মাস আগে উপজেলার ঢাকুরিয়া বাজারস্থ বাওড়ের উপর মার্কেট নির্মানের অভিযোগে দখলদার শিহাব হোসেনের বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি জাতীয় ও স্থানীয় দৈনিকে ফলোআপ সংবাদ প্রচার হলেও উপজেলা সহকারি কমিশনার ভূমি মাহির দায়ান আমিন ব্যবস্থা নিতে চাইলেও এখনো অব্দি দেখা যায়নি কোন পদক্ষেপ।

এছাড়াও, কয়েকটি ঘেরের কারনে এলজিইডির সরকারি সড়কের ক্ষতিগ্রস্তের বেহাল অবস্থার বিষয়ে বারবার বলা হলেও অজানা কোন কারনে দেখা যায়নি সাদৃশ্য কোন অভিযান,নেওয়া হয়নি কোন ব্যবস্থা। এদিকে আগস্টের ২৪ তারিখে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের ফটকে বোরখা পরিহিত এক বয়স্ক নারী দীর্ঘ সময় দাড়িয়ে সেবা না পেয়ে ফিরে যাওয়ার ঘঠনা ঘঠেছে।

সোমবার (২৪শে আগষ্ট)  ঘন্টার পর ঘন্টা দাড়িয়ে কালো বোরকা পরিহিত মধ্য বয়সী ঐ নারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ সম্রাট হোসেনের সাথে অভিযোগের ব্যাবস্থা নেওয়ার বেপারে খবর নিতে এসেছিলেন বলে জানা গেছে। এদিকে পৌরসভার ভেতরে কয়েক চুরি, ছিনতাই, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, কিশোর গ্যাং দৌরাত্ম, মাদক সিন্ডিকেটের স্বক্রিয়তা, টেন্ডারবাজির অধিপত্যে বিস্তারকে কেন্দ্র করে কয়েকটি বিশৃঙ্খলার ঘঠনায় পৌরসভা জুড়ে জনমনে আতংক বিরাজ করছে।

তথ্য আছে, ২/৩ মাস ধরে পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডে ছিঁচকে চোর হতে বেশ কয়েকটি ডাকাতির ঘঠনা ঘঠেছে। তাহেরপুর, জুড়ানপুর, বিজয়রামপুর, দূর্গাপুর ও কামালপুর গ্রামের ৮/১০টি বাড়ি থেকে মুঠোফোন, স্বর্নালংকার,আসবাবপত্র এমনকি এক সপ্তাহের ব্যবধানে কামালপুর গ্রামের আঃ লতিফ, মিজানুর রহমানের বাড়ি হতে হালের চাষের গরু চুরির ঘঠনা ঘঠেছে।

একই রাতে সংগঠিত একাধিক বাড়িতে কয়েকটি গরু চুরির মধ্য মণিরামপুর সহকারি পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনের বাড়ি হতে দরিদ্র আওয়ালের ১টি গাভী ও ১টি বড় এড়ে গরু সার্কেল এএসপির কার্যালয়ের ফটকের সামনে দিয়ে চোরেরা প্রধান সড়কে গাড়ি রেখে সেখান থেকেই গাড়িতে তুলে চলে যায়। এ বিষয়ে কয়েকটি সিসি ফুটেজে গরু চোর চক্রের যাওয়ার দৃশ্যের ভিডিও থাকলেও শনাক্তকরনে ব্যার্থ হয়েছে প্রশাসন।

ভুক্তভোগী মিজানের ছেলে ও আওয়ালের ছোট ভাই দাবী করেন ইতিপূর্বে চুরির ঘঠনায় মণিরামপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করলেও কোন রকম তদন্তে আসেনি পুলিশ! বরং খোজ নিতে গেলে থানা থেকে অবহেলা করে বলে – যান দেখবানে।

সাদ্দাম হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করেন যে, আমার ভাই (আওয়াল) তার দৈনিক উপার্জনের অর্থে ২টি গরুর ভরনপোষণ করতো, যে মুহূর্তে গরু ২টা বিক্রির যোগ্য হয়েছে তখনই চুরি হলো।তিনি আরো বলেন, এএসপির কার্যালয়ের সামনে গাড়ি দাড় করিয়ে চোরেরা গরু লোড দিয়ে নিয়ে গেলো তবুও কোন ব্যবস্থা নিতে দেখা গেলোনা।

এদিকে গত জুন মাসে পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ড তাহেরপুর হতে ভ্যান চালক গোলদারের বাড়ির বারান্দা হতে চোরেরা ঐ দিনমজুরের একমাত্র সম্বল ভ্যানটি চুরি করে নিয়ে যায়। ঘঠনা জানতে গোলাদারের সাথে কথা হলে তিনি দাবী করেন, আমি আর ভ্যান কেনবো না,চালাবো না ভ্যান,দেখি চোরে কি নেই। তিনি অভিযোগ করেন, আমার বাড়ির আশপাশে সব চোর!

উপজেলা ও পৌরসভা ব্যাপী গরু চুরির হিড়িকসহ বিভিন্ন বিশৃঙ্খলার ঘঠনায় মণিরামপুর থানা পুলিশের ভূমিকা জানতে চাইলে থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু সাঈদের গতানুগতিক মন্তব্য- আমরা এসমস্ত বিষয়ে কাজ করছি। গোয়েন্দা পুলিশের সহযোগিতা নেওয়া হয়েছে,তদন্ত শেষ হলে জানানো হবে।

তবে উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটি প্রতিমাসেই মিটিং করে,যারা উপস্থিত থাকে হয়তো সেখানে সমস্যা উত্থাপন হয় কিন্তু সমাধানকল্পে কার্যক্রমে হঠাৎ তড়িঘড়ি দেখিয়ে পরে আর কোন ব্যবস্থা না নেওয়ায় অপরাধীরা একের পর এক অপারাধে সম্পৃক্ত হচ্ছে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ভুক্তভোগী ও সচেতন মহল।

‎তবে ১৭টি ইউনিয়ন ও এক পৌরসভাতে আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতির বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও মণিরামপুর উপজেলা আইনশৃংখলা কমিটির সভাপতি সম্রাট হোসেন জানান, উপজেলা আইন শৃঙ্খলা কমিটির সভায় আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সার্বিকভাবে আলোচনা  করা হয় এবং সেই আলোকে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যসহ আমরা আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখাসহ জনস্বার্থে নিরন্তর কাজ করছি।