বাড়ির আঙিনায় বেগুন চাষে সাফল্য
সরকারি চাকরিজীবী খান জাহান আলীর ব্যতিক্রমী উদ্যোগ
- আপডেট সময় : ০৫:২১:৩৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬
- / ৫৭ বার পঠিত

সরকারি চাকরির ব্যস্ততার পাশাপাশি বসতবাড়ির পরিত্যক্ত আঙিনাকে কাজে লাগিয়ে বিষমুক্ত বেগুন চাষে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার খান জাহান আলী। নিজের পরিবারের সবজির চাহিদা পূরণের পাশাপাশি আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদেরও বেগুন সরবরাহ করছেন তিনি। তার এই উদ্যোগ এলাকায় ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।
ডুমুরিয়া উপজেলার বাসিন্দা ও সরকারি চাকরিজীবী খান জাহান আলী জানান, বাজারে রাসায়নিক ও কীটনাশকযুক্ত সবজির পরিবর্তে নিরাপদ ও বিষমুক্ত সবজি খাওয়ার চিন্তা থেকেই তিনি বাড়ির আঙিনায় বেগুন চাষ শুরু করেন। বর্তমানে তার বাগানে থোকায় থোকায় বেগুন ধরেছে। চাকরির ব্যস্ততা সামলেও প্রতিদিন সকাল ও সন্ধ্যায় নিজেই গাছের পরিচর্যা করেন।
তিনি বলেন, “নিজেদের প্রয়োজন মেটানোর পাশাপাশি আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদেরও বেগুন দিতে পারছি। এতে যেমন মানসিক তৃপ্তি পাচ্ছি, তেমনি পরিবারের বাজার খরচও কমেছে।”
এ বিষয়ে ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ নাজমুল হুদ বলেন, খান জাহান আলীর উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয় এবং অনুকরণীয়। তিনি বলেন, “এক ইঞ্চি জমিও যেন অনাবাদী না থাকে—সরকারের এই আহ্বান বাস্তবায়নে এমন উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। সরকারি চাকরির পাশাপাশি বাড়ির আঙিনাকে উৎপাদনের আওতায় এনে তিনি অন্যদের জন্য উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন।”
তিনি আরও জানান, ডুমুরিয়ার মাটি ও জলবায়ু বেগুনসহ বিভিন্ন সবজি চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। উপজেলা কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে ‘পারিবারিক পুষ্টি বাগান’ কর্মসূচির আওতায় নিয়মিত কৃষকদের প্রশিক্ষণ, পরামর্শ এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
বেগুন চাষে রোগবালাই সম্পর্কে কৃষি কর্মকর্তা বলেন, ডগা ও ফল ছিদ্রকারী পোকার আক্রমণ বেগুনের প্রধান সমস্যা। তবে রাসায়নিক কীটনাশকের পরিবর্তে সেক্স ফেরোমন ফাঁদ ও জৈব বালাইনাশক ব্যবহারের মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব উপায়ে এসব পোকা দমন করা সম্ভব। এতে উৎপাদিত সবজি নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত থাকে।
তিনি সাধারণ মানুষকে বাড়ির আঙিনা, ছাদ বা খালি জায়গা কাজে লাগিয়ে সবজি চাষের আহ্বান জানিয়ে বলেন, “নিজেদের পুষ্টির চাহিদা পূরণের পাশাপাশি বাড়তি উৎপাদন পরিবার ও সমাজের জন্যও উপকারী। উপজেলা কৃষি অফিস সব ধরনের কারিগরি সহায়তা দিতে প্রস্তুত।”
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, খান জাহান আলীর সাফল্যে এলাকার অনেকেই বাড়ির আঙিনায় সবজি চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। তাদের মতে, এ ধরনের উদ্যোগ একদিকে যেমন নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করবে, অন্যদিকে পারিবারিক ব্যয় কমিয়ে স্বনির্ভরতা অর্জনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।




















