ঢাকা ০৬:৫৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৭ অগাস্ট ২০২৬, ২৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
৮ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা

যশোরে জমি বিরোধে নারীকে মারধর ও শ্লীলতাহানির অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৩:৫০:৪৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৭ অগাস্ট ২০২৬
  • / ২০ বার পঠিত

যশোর সদর উপজেলার নরেন্দ্রপুর এলাকায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে এক নারীকে মারধর, শ্লীলতাহানির চেষ্টা, স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নেওয়া এবং গাছপালা ও ফসল নষ্ট করার অভিযোগে আটজনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলাটি করেছেন নরেন্দ্রপুর গ্রামের বাসিন্দা ফুলসুম আক্তার নীলা (৪২)। যশোরের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সদর আমলি আদালতে দায়ের করা মামলায় কবির গাজী, তবিবার গাজী, মোশারেক গাজী, শফিয়ার গাজী, রাশেদ গাজী, রাব্বী গাজী, লতিফা ও রানা গাজীকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, বাদীর স্বামী দীর্ঘদিন ধরে বিদেশে অবস্থান করায় তিনি নিজেই রেজিস্ট্রিকৃত জমির দেখভাল করে আসছিলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২ আগস্ট সকাল আনুমানিক ৮টার দিকে তিনি জমির বেড়া মেরামত করছিলেন। এ সময় আসামিরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘবদ্ধভাবে সেখানে প্রবেশ করে তাকে ঘিরে ফেলে। এরপর তাকে মারধর এবং শ্লীলতাহানির চেষ্টা করা হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

এজাহারে আরও বলা হয়েছে, হামলার সময় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তিনি আহত হন এবং লাঠিপেটায় শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম হন। একই সঙ্গে আসামিরা ঘটনাস্থলের বিভিন্ন গাছপালা কেটে প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার টাকার ক্ষতি করে এবং তার ব্যবহৃত প্রায় ৫ লাখ টাকা মূল্যের আড়াই আউন্স ওজনের স্বর্ণালংকার খুলে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন আহত ফুলসুম আক্তার নীলাকে উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। চিকিৎসাধীন থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে থানায় মামলা করতে না পেরে পরে আদালতের শরণাপন্ন হন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ১৪৭, ১৪৮, ৪৪৭, ৩৫৪, ৩০৭, ৩২৩, ৪২৭, ৩৭৯ ও ১১৪ ধারায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন জানানো হয়েছে।

ঘটনার বিষয়ে মামলার বাদী কুলসুম আক্তার নীলা’র কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, আমার স্বামী একজন প্রবাসী। ২০১৭ সালে এই জমিটি ক্রয় করে রেজিষ্ট্রি করে বিদেশে চলে গেছেন। তারপর থেকে আমি এই জমিতে মাটি ফেলে উচু করে চাষাবাদ করে আসছি। স্থানীয় কয়েকজন নেতা ও আমার দুই চাচা শ্বশুর ওই জমি আত্মসাতের চেষ্টা করছে। আমাকে মারধর করছে এবং বিভিন্নভাবে হুমকি ধামকি দিচ্ছে। আমি আমার সন্তানদের নিয়ে বসবাস করতে ভয় পাচ্ছি। বিধায় জীবন বাচানোর তাগিদে আমি আদালতে মামলা করেছি।

এ বিষয়ে মামলায় অভিযুক্ত কবির গাজীর বক্তব্য জানতে তার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে এ বিষয়ে তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

মামলায় উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে আদালতের আদেশ এবং পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

৮ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা

যশোরে জমি বিরোধে নারীকে মারধর ও শ্লীলতাহানির অভিযোগ

আপডেট সময় : ০৩:৫০:৪৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৭ অগাস্ট ২০২৬

যশোর সদর উপজেলার নরেন্দ্রপুর এলাকায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে এক নারীকে মারধর, শ্লীলতাহানির চেষ্টা, স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নেওয়া এবং গাছপালা ও ফসল নষ্ট করার অভিযোগে আটজনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলাটি করেছেন নরেন্দ্রপুর গ্রামের বাসিন্দা ফুলসুম আক্তার নীলা (৪২)। যশোরের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সদর আমলি আদালতে দায়ের করা মামলায় কবির গাজী, তবিবার গাজী, মোশারেক গাজী, শফিয়ার গাজী, রাশেদ গাজী, রাব্বী গাজী, লতিফা ও রানা গাজীকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, বাদীর স্বামী দীর্ঘদিন ধরে বিদেশে অবস্থান করায় তিনি নিজেই রেজিস্ট্রিকৃত জমির দেখভাল করে আসছিলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২ আগস্ট সকাল আনুমানিক ৮টার দিকে তিনি জমির বেড়া মেরামত করছিলেন। এ সময় আসামিরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘবদ্ধভাবে সেখানে প্রবেশ করে তাকে ঘিরে ফেলে। এরপর তাকে মারধর এবং শ্লীলতাহানির চেষ্টা করা হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

এজাহারে আরও বলা হয়েছে, হামলার সময় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তিনি আহত হন এবং লাঠিপেটায় শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম হন। একই সঙ্গে আসামিরা ঘটনাস্থলের বিভিন্ন গাছপালা কেটে প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার টাকার ক্ষতি করে এবং তার ব্যবহৃত প্রায় ৫ লাখ টাকা মূল্যের আড়াই আউন্স ওজনের স্বর্ণালংকার খুলে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন আহত ফুলসুম আক্তার নীলাকে উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। চিকিৎসাধীন থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে থানায় মামলা করতে না পেরে পরে আদালতের শরণাপন্ন হন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ১৪৭, ১৪৮, ৪৪৭, ৩৫৪, ৩০৭, ৩২৩, ৪২৭, ৩৭৯ ও ১১৪ ধারায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন জানানো হয়েছে।

ঘটনার বিষয়ে মামলার বাদী কুলসুম আক্তার নীলা’র কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, আমার স্বামী একজন প্রবাসী। ২০১৭ সালে এই জমিটি ক্রয় করে রেজিষ্ট্রি করে বিদেশে চলে গেছেন। তারপর থেকে আমি এই জমিতে মাটি ফেলে উচু করে চাষাবাদ করে আসছি। স্থানীয় কয়েকজন নেতা ও আমার দুই চাচা শ্বশুর ওই জমি আত্মসাতের চেষ্টা করছে। আমাকে মারধর করছে এবং বিভিন্নভাবে হুমকি ধামকি দিচ্ছে। আমি আমার সন্তানদের নিয়ে বসবাস করতে ভয় পাচ্ছি। বিধায় জীবন বাচানোর তাগিদে আমি আদালতে মামলা করেছি।

এ বিষয়ে মামলায় অভিযুক্ত কবির গাজীর বক্তব্য জানতে তার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে এ বিষয়ে তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

মামলায় উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে আদালতের আদেশ এবং পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।