সুন্দরবনে ৫৯ জলদস্যুর আত্মসমর্পণ, উদ্ধার ৫৯ অস্ত্র
- আপডেট সময় : ০৬:০৪:৫৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ১২ বার পঠিত

সুন্দরবনে সক্রিয় পাঁচটি জলদস্যু বাহিনীর ৫৯ সদস্য আত্মসমর্পণ করেছেন। একই সঙ্গে গত তিন দিনে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ৫৯টি আগ্নেয়াস্ত্র, ৫৪১ রাউন্ড তাজা গুলি, ১৪টি খালি কার্তুজ ও সাতটি ওয়াকিটকি উদ্ধার করেছে র্যাব।
গত ৩১ আগস্ট সুন্দরবনে সক্রিয় পাঁচটি জলদস্যু বাহিনীর সদস্যরা র্যাবের কাছে আত্মসমর্পণ করেন। আত্মসমর্পণকারীদের মধ্যে বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর ১৬ জন, আনারুল বাহিনীর ১৩ জন, আফজাল ওরফে দুলাভাই বাহিনীর ১৫ জন, আফতাব বাহিনীর ৮ জন এবং মিজান বাহিনীর ৭ জন রয়েছেন।
র্যাব জানায়, আত্মসমর্পণকারীদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এদিকে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে চারটি শর্টগান, ৪৭টি ওয়ান শুটারগান, চারটি পাইপগান, তিনটি এয়ারগান ও একটি পয়েন্ট ২২ বোর রাইফেল উদ্ধার করা হয়। এসব অস্ত্রের পাশাপাশি সাতটি ওয়াকিটকি, ৫৪১ রাউন্ড তাজা গুলি এবং ১৪টি খালি কার্তুজও উদ্ধার করা হয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে সুন্দরবন ও সংলগ্ন উপকূলীয় এলাকায় জলদস্যুতা ও বনদস্যুতার কারণে জেলে, বনজীবীসহ সুন্দরবননির্ভর মানুষকে জিম্মি, নির্যাতন ও অবৈধ চাঁদাবাজির শিকার হতে হয়েছে। দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলের প্রায় ২৫ লাখ মানুষের জীবিকার অন্যতম প্রধান অবলম্বন এই সুন্দরবন।
দস্যুতা নির্মূলে র্যাব, কোস্ট গার্ড, নৌ-পুলিশ, বন বিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বয়ে বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় পাঁচটি বাহিনীর ৫৯ সদস্যের আত্মসমর্পণকে দস্যুমুক্ত সুন্দরবন গড়ার পথে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
এখনো যারা দস্যুতার সঙ্গে জড়িত, তাদের অপরাধের পথ ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছে র্যাব। আত্মসমর্পণ করলে সর্বোচ্চ সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। তবে দস্যুতা ও অপরাধ অব্যাহত রাখলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে।
এদিকে বন্যপ্রাণীর প্রজনন ও বিচরণ নির্বিঘ্ন রাখা এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের লক্ষ্যে গত ১ জুন থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত তিন মাস সুন্দরবনে পর্যটক ও বনজীবীদের প্রবেশ বন্ধ ছিল। নিষেধাজ্ঞা শেষে ১ সেপ্টেম্বর থেকে বিধিবিধান ও অনুমতি সাপেক্ষে সুন্দরবন আবারও পর্যটক ও বনজীবীদের জন্য উন্মুক্ত হয়েছে।
সুন্দরবন উন্মুক্ত হওয়ার ঠিক আগের দিন ৫৯ জলদস্যুর আত্মসমর্পণকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখছে র্যাব। তাদের মতে, এই আত্মসমর্পণ সুন্দরবনে বনজীবীদের নিরাপদে জীবিকা নির্বাহ, পর্যটকদের নিরাপদ চলাচল এবং সুন্দরবনকেন্দ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত রাখা এবং উপকূলীয় মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জিরো টলারেন্স নীতি অব্যাহত রাখার কথাও জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।



















