বেইজিং থেকে বাউলিয়া
হাজারো মাইল পেরিয়ে ভালোবাসার ঠিকানায় লি বিং
- আপডেট সময় : ০৯:৪৫:৫০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬
- / ৫৯ বার পঠিত

ভালোবাসার কোনো ভাষা নেই, নেই কোনো ভৌগোলিক সীমারেখা। পৃথিবীর এক প্রান্তের মানুষও কখনো কখনো অন্য প্রান্তের কারও জীবনের সবচেয়ে আপন মানুষ হয়ে ওঠেন। চীনের রাজধানী বেইজিং আর বাংলাদেশের যশোর—দুই দেশের দূরত্ব হাজারো মাইল। কিন্তু সেই দূরত্বকে হার মানিয়েছে দুটি হৃদয়ের টান।
যশোর সদর উপজেলার বাউলিয়া গ্রামের তরুণী তন্দ্রা খাতুনের সঙ্গে চীনের নাগরিক লি বিংয়ের পরিচয় হয়েছিল একটি ভাষা শেখার অ্যাপ হ্যালোটক-এ। উদ্দেশ্য ছিল নতুন ভাষা শেখা, কিন্তু কথোপকথনের ফাঁকে অজান্তেই জন্ম নেয় এক নতুন সম্পর্ক। পরে উইচ্যাট-এ নিয়মিত আলাপচারিতা, একে অপরকে জানার চেষ্টা, সুখ-দুঃখ ভাগাভাগি—সব মিলিয়ে সম্পর্কটি ধীরে ধীরে রূপ নেয় গভীর ভালোবাসায়।
প্রায় আট মাসের সেই ভার্চুয়াল সম্পর্ক একসময় বাস্তবের রূপ নেয়। ভালোবাসার মানুষকে নিজের জীবনের সঙ্গী করতে গত ১৮ জুন বাংলাদেশে পা রাখেন লি বিং। পরদিন দুই পরিবারের উপস্থিতিতে সম্পন্ন হয় তাদের বিয়ে। নতুন জীবনের পথে পা রাখার আগে স্বেচ্ছায় ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন তিনি। ভালোবাসার জন্য নিজের জীবনে নতুন সংস্কৃতি ও নতুন বিশ্বাসকে গ্রহণ করার এই সিদ্ধান্ত অনেকের কাছেই হয়ে উঠেছে অনন্য এক দৃষ্টান্ত।
বর্তমানে লি বিং রয়েছেন শ্বশুরবাড়িতে। গ্রামবাংলার সহজ-সরল পরিবেশ, মানুষের আন্তরিকতা আর শ্বশুরবাড়ির উষ্ণ আতিথেয়তা তাকে মুগ্ধ করেছে। হাসিমুখে তিনি জানান, বাংলাদেশে এসে তিনি নিজেকে কখনোই বিদেশি মনে করেননি। এখানকার মানুষ তাকে পরিবারের একজন সদস্য হিসেবেই গ্রহণ করেছেন।
অন্যদিকে তন্দ্রার জীবনেও যেন নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। তিনি জানান, অনলাইনে শুরু হওয়া পরিচয় একদিন বিয়েতে গড়াবে—এমনটা প্রথমদিকে ভাবেননি। তবে সময়ের সঙ্গে দুজনের পারস্পরিক বিশ্বাস ও সম্মানই তাদের এই সিদ্ধান্ত নিতে সাহস জুগিয়েছে। এখন ভিসার আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলেই স্বামীর সঙ্গে নতুন জীবনের উদ্দেশে চীনে পাড়ি জমাবেন তিনি।
তন্দ্রার মা শিউলি বেগম বলেন, শুরুতে বিষয়টি অবিশ্বাস্য মনে হলেও পরে দুই পরিবারের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ে। একে অপরকে জানার পর সম্মতির ভিত্তিতেই বিয়ের আয়োজন করা হয়। মেয়ের সুখই এখন তাদের সবচেয়ে বড় স্বস্তি।
এদিকে বিদেশি এই জামাইকে একনজর দেখতে প্রতিদিনই তন্দ্রাদের বাড়িতে ভিড় করছেন আশপাশের বিভিন্ন এলাকার মানুষ। কেউ কৌতূহল নিয়ে তার সঙ্গে কথা বলছেন, কেউ ছবি তুলছেন, আবার কেউ বিস্ময় নিয়ে দেখছেন—ভাষা না মিললেও কীভাবে ভালোবাসা মানুষকে এতটা কাছে নিয়ে আসতে পারে।
ডিজিটাল যুগে পৃথিবী যেন ছোট হয়ে এসেছে। কিন্তু প্রযুক্তি কেবল যোগাযোগের পথই খুলে দেয়; সম্পর্ককে পরিণতির পথে নিয়ে যায় পারস্পরিক আস্থা, সম্মান আর ভালোবাসা। বেইজিংয়ের লি বিং ও যশোরের তন্দ্রা খাতুনের গল্প যেন সেই চিরন্তন সত্যকেই নতুন করে মনে করিয়ে দেয়—ভালোবাসা সত্যিই কোনো সীমানা মানে না।






















