হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর, চেম্বারে নেই চিকিৎসক!
- আপডেট সময় : ০৩:০৬:১৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
- / ৭০ বার পঠিত

খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকদের নিয়মিত অনুপস্থিতি ও দায়িত্ব পালনে গাফিলতির অভিযোগে রোগী ও স্বজনদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। অভিযোগ উঠেছে, সরকারি দায়িত্ব পালনের নির্ধারিত সময়ে অনেক চিকিৎসক নিজ নিজ চেম্বারে অনুপস্থিত থাকছেন এবং কেউ কেউ বেসরকারি ক্লিনিকে সময় দিয়ে পরে হাসপাতালে আসছেন। ফলে চিকিৎসাসেবা নিতে এসে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছেন না সাধারণ মানুষ।
বুধবার (১০ জুন) সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে সরেজমিনে ডুমুরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যায়, বহির্বিভাগে রোগীদের উপস্থিতি থাকলেও অধিকাংশ চিকিৎসকের কক্ষ ফাঁকা। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী সকাল ৯টায় অফিস কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা থাকলেও কয়েকটি চেম্বারে চিকিৎসকদের দেখা মেলেনি।
হাসপাতালের সহকারী কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বললে তারা জানান, কয়েকজন চিকিৎসক ওপরের ওয়ার্ডে রোগী দেখছেন। পরে হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে একজন মেডিকেল অফিসারকে রোগী দেখতে দেখা গেলেও অন্য কয়েকজন চিকিৎসককে খুঁজে পাওয়া যায়নি।
রোগী ও স্বজনদের অভিযোগ, এটি নতুন কোনো ঘটনা নয়। প্রায় প্রতিদিনই নির্ধারিত সময়ের অনেক পরে চিকিৎসকরা হাসপাতালে আসেন। আবার দুপুর হওয়ার আগেই কেউ কেউ কর্মস্থল ত্যাগ করেন। এতে দূরদূরান্ত থেকে আসা রোগীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
একাধিক ভুক্তভোগী দাবি করেন, সরকারি হাসপাতালে দায়িত্ব পালনের আগে বা নির্ধারিত কর্মঘণ্টার মধ্যে অনেক চিকিৎসক নিকটবর্তী বেসরকারি ক্লিনিকে রোগী দেখে থাকেন। যদিও এ অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কাজল মল্লিক বলেন, “হাজিরা খাতায় উপস্থিতি থাকলেও কয়েকজন চিকিৎসককে নির্ধারিত কক্ষে পাওয়া যায়নি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। রোগীদের সেবা নিশ্চিত করতে আমরা বদ্ধপরিকর। দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে সংশ্লিষ্টদের কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছে এবং তাদের জবাব চাওয়া হয়েছে।”
বিষয়টি নিয়ে জেলা সিভিল সার্জনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে। সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। গণমাধ্যমের এমন তদারকি প্রশংসনীয়।”
এদিকে হাসপাতালের অনিয়মের বিষয়ে ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সবিতা সরকার বলেন, “সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসকদের অনুপস্থিতি এবং রোগীদের সেবা থেকে বঞ্চিত করার বিষয়টি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্টদের শোকজ করেছেন। তাদের জবাব সন্তোষজনক না হলে জেলা প্রশাসন ও সিভিল সার্জনের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় বিভাগীয় ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তিনি আরও বলেন, “সরকারি বিধিমালা অনুযায়ী চিকিৎসকদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে আকস্মিক পরিদর্শন বাড়ানো হবে। স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে প্রশাসন জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করবে।”
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, শুধু শোকজ নয়, অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে দোষীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। অন্যথায় সরকারি স্বাস্থ্যসেবায় দীর্ঘদিনের এ অনিয়ম বন্ধ হবে না এবং সাধারণ মানুষ সেবা বঞ্চিতই থেকে যাবে।






















