ঢাকা ০৪:২৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬, ১৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বন্ধকী জমিতে ব্যাংক ঋণের দাবিতে রাঙামাটিতে পিসিএনপির বিক্ষোভ

রাঙামাটি সংবাদদাতা
  • আপডেট সময় : ০৪:৫৭:৩১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬
  • / ২৮ বার পঠিত

রাঙামাটিসহ পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলায় বাজারফান্ড এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা ভূমি হস্তান্তর, বন্ধকি দলিল রেজিস্ট্রি ও জমি বন্ধক রেখে ব্যাংক ঋণ কার্যক্রম পূর্বের ন্যায় চালুর দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ (পিসিএনপি) ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনগুলো।

শনিবার (২৯ আগস্ট) সকালে রাঙামাটি শহরের হ্যাপি মোড় থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়ে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে বনরূপা পুলিশ বক্সের সামনে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে অনুষ্ঠিত হয় বিক্ষোভ সমাবেশ। পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদ (পিসিসিপি) কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক হাবীব আজমের সঞ্চালনায় সমাবেশে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ (পিসিএনপি) কেন্দ্রীয় কমিটির চেয়ারম্যান কাজী মজিবর রহমান।

সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন পিসিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি ও স্থায়ী কমিটির সদস্য রেজাউল করিম মাস্টার, চট্টগ্রাম ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক কলেজের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান, পিসিএনপি রাঙামাটি জেলা সভাপতি মাওলানা আবু বক্কর সিদ্দিক, খাগড়াছড়ি জেলা আহ্বায়ক আব্দুল মজিদ, বান্দরবান জেলা সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন, রাঙামাটি জেলা সাধারণ সম্পাদক মো. ইব্রাহিম, পার্বত্য চট্টগ্রাম যুব পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূর হোসেন, মহিলা পরিষদের সভাপতি মোরশেদা আক্তার, পিসিসিপি রাঙামাটি জেলা সভাপতি তাজুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক মো. আলমগীরসহ সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান, এই তিন জেলায় দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে বাজারফান্ডের জমি নিয়ে প্রশাসনিক জটিলতা বিরাজ করছে। এর ফলে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা নিজেদের জমি বন্ধক রেখে ব্যাংক ঋণ নেওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

বক্তারা দাবি করেন, বাজারফান্ডের জমি বন্ধক রেখে ঋণ নিতে না পারায় ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা চরম অর্থসংকটে পড়েছেন। অনেক ব্যবসায়ী নতুন করে বিনিয়োগ করতে পারছেন না। ফলে ব্যবসার পরিধি সংকুচিত হওয়ার পাশাপাশি নতুন উদ্যোক্তা তৈরির সুযোগও কমে যাচ্ছে। এর প্রভাব পড়ছে কর্মসংস্থানের ওপর এবং বাড়ছে বেকারত্ব। একই সঙ্গে বাজারফান্ডের জমিকে কেন্দ্র করে ঋণ কার্যক্রম বন্ধ থাকায় পার্বত্য অঞ্চলের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোও অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে দাবি করেন বক্তারা।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, ২০১৭ সালে রাঙামাটির তৎকালীন জেলা প্রশাসক বাজারফান্ড এলাকার ভূমি রেজিস্ট্রি ও মিউটেশন মামলা স্থগিত করেন। পরবর্তীতে বিভিন্ন দেন-দরবারের মাধ্যমে কার্যক্রম চালু হলেও ২০১৯ সালে আবার তা বন্ধ হয়ে যায়। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে ভূমি হস্তান্তর, বন্ধকি দলিল রেজিস্ট্রি ও ব্যাংক ঋণ কার্যক্রমে জটিলতা তৈরি হয়েছে বলে দাবি পিসিএনপির।

তাদের ভাষ্য, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে পাহাড়ের ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ আরও সংকুচিত হবে। দ্রুত প্রশাসনিক জটিলতার সমাধান করে বাজারফান্ডের জমি নিয়ে স্বাভাবিক ভূমি ব্যবস্থাপনা ও ঋণ কার্যক্রম চালুর দাবি জানান তারা।সমাবেশ থেকে বাজারফান্ড এলাকার জমি নিয়ে বিদ্যমান জটিলতা নিরসনে একাধিক দাবি তুলে ধরেন পিসিএনপির নেতারা। এর মধ্যে রয়েছে বাজারফান্ড প্লটের লিজের মেয়াদ ৯৯ বছরে উন্নীত করা এবং বন্ধ থাকা ব্যাংক ঋণ কার্যক্রম পূর্বের ন্যায় চালু করা।

এছাড়া জমি ক্রয়-বিক্রয় ও নামজারির ক্ষেত্রে তিন দফা এলআর ফান্ড বন্ধ করে দেশের অন্যান্য জেলার মতো ভূমি ব্যবস্থাপনা ও রেজিস্ট্রেশন ব্যবস্থা চালু, জমি ক্রয়-বিক্রয়, ব্যবসা, চাকরি ও শিক্ষাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সার্কেল চিফের সনদ প্রদানের বাধ্যবাধকতা বাতিল এবং হেডম্যান কার্যালয়ের পরিবর্তে সব উপজেলা ভূমি অফিসে ভূমির কর/খাজনা পরিশোধের অবাধ সুযোগ সৃষ্টির দাবি জানানো হয়।পাশাপাশি সার্বভৌমত্ব রক্ষা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং জনগণের জানমালের নিরাপত্তার স্বার্থে প্রত্যাহার করা ব্রিগেড ও ২৪৬টি সেনাক্যাম্প পুনঃস্থাপনের দাবিও জানান বক্তারা।

বক্তারা বলেন, বাজারফান্ডের জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক জটিলতার কারণে পার্বত্য অঞ্চলের ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এই সমস্যা আর দীর্ঘায়িত করা হলে পাহাড়ের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও বাধাগ্রস্ত হবে।তারা অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সমস্যার স্থায়ী সমাধান এবং বাজারফান্ডের জমি বন্ধক রেখে ব্যাংক ঋণসহ বন্ধ থাকা অন্যান্য কার্যক্রম চালুর দাবি জানান।

দাবিগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করা না হলে পিসিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে তিন পার্বত্য জেলায় আরও কঠোর আন্দোলন কর্মসূচি দেওয়া হবে বলেও সমাবেশ থেকে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।

ট্যাগস :

বন্ধকী জমিতে ব্যাংক ঋণের দাবিতে রাঙামাটিতে পিসিএনপির বিক্ষোভ

আপডেট সময় : ০৪:৫৭:৩১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬

রাঙামাটিসহ পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলায় বাজারফান্ড এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা ভূমি হস্তান্তর, বন্ধকি দলিল রেজিস্ট্রি ও জমি বন্ধক রেখে ব্যাংক ঋণ কার্যক্রম পূর্বের ন্যায় চালুর দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ (পিসিএনপি) ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনগুলো।

শনিবার (২৯ আগস্ট) সকালে রাঙামাটি শহরের হ্যাপি মোড় থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়ে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে বনরূপা পুলিশ বক্সের সামনে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে অনুষ্ঠিত হয় বিক্ষোভ সমাবেশ। পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদ (পিসিসিপি) কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক হাবীব আজমের সঞ্চালনায় সমাবেশে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ (পিসিএনপি) কেন্দ্রীয় কমিটির চেয়ারম্যান কাজী মজিবর রহমান।

সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন পিসিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি ও স্থায়ী কমিটির সদস্য রেজাউল করিম মাস্টার, চট্টগ্রাম ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক কলেজের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান, পিসিএনপি রাঙামাটি জেলা সভাপতি মাওলানা আবু বক্কর সিদ্দিক, খাগড়াছড়ি জেলা আহ্বায়ক আব্দুল মজিদ, বান্দরবান জেলা সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন, রাঙামাটি জেলা সাধারণ সম্পাদক মো. ইব্রাহিম, পার্বত্য চট্টগ্রাম যুব পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূর হোসেন, মহিলা পরিষদের সভাপতি মোরশেদা আক্তার, পিসিসিপি রাঙামাটি জেলা সভাপতি তাজুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক মো. আলমগীরসহ সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান, এই তিন জেলায় দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে বাজারফান্ডের জমি নিয়ে প্রশাসনিক জটিলতা বিরাজ করছে। এর ফলে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা নিজেদের জমি বন্ধক রেখে ব্যাংক ঋণ নেওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

বক্তারা দাবি করেন, বাজারফান্ডের জমি বন্ধক রেখে ঋণ নিতে না পারায় ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা চরম অর্থসংকটে পড়েছেন। অনেক ব্যবসায়ী নতুন করে বিনিয়োগ করতে পারছেন না। ফলে ব্যবসার পরিধি সংকুচিত হওয়ার পাশাপাশি নতুন উদ্যোক্তা তৈরির সুযোগও কমে যাচ্ছে। এর প্রভাব পড়ছে কর্মসংস্থানের ওপর এবং বাড়ছে বেকারত্ব। একই সঙ্গে বাজারফান্ডের জমিকে কেন্দ্র করে ঋণ কার্যক্রম বন্ধ থাকায় পার্বত্য অঞ্চলের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোও অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে দাবি করেন বক্তারা।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, ২০১৭ সালে রাঙামাটির তৎকালীন জেলা প্রশাসক বাজারফান্ড এলাকার ভূমি রেজিস্ট্রি ও মিউটেশন মামলা স্থগিত করেন। পরবর্তীতে বিভিন্ন দেন-দরবারের মাধ্যমে কার্যক্রম চালু হলেও ২০১৯ সালে আবার তা বন্ধ হয়ে যায়। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে ভূমি হস্তান্তর, বন্ধকি দলিল রেজিস্ট্রি ও ব্যাংক ঋণ কার্যক্রমে জটিলতা তৈরি হয়েছে বলে দাবি পিসিএনপির।

তাদের ভাষ্য, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে পাহাড়ের ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ আরও সংকুচিত হবে। দ্রুত প্রশাসনিক জটিলতার সমাধান করে বাজারফান্ডের জমি নিয়ে স্বাভাবিক ভূমি ব্যবস্থাপনা ও ঋণ কার্যক্রম চালুর দাবি জানান তারা।সমাবেশ থেকে বাজারফান্ড এলাকার জমি নিয়ে বিদ্যমান জটিলতা নিরসনে একাধিক দাবি তুলে ধরেন পিসিএনপির নেতারা। এর মধ্যে রয়েছে বাজারফান্ড প্লটের লিজের মেয়াদ ৯৯ বছরে উন্নীত করা এবং বন্ধ থাকা ব্যাংক ঋণ কার্যক্রম পূর্বের ন্যায় চালু করা।

এছাড়া জমি ক্রয়-বিক্রয় ও নামজারির ক্ষেত্রে তিন দফা এলআর ফান্ড বন্ধ করে দেশের অন্যান্য জেলার মতো ভূমি ব্যবস্থাপনা ও রেজিস্ট্রেশন ব্যবস্থা চালু, জমি ক্রয়-বিক্রয়, ব্যবসা, চাকরি ও শিক্ষাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সার্কেল চিফের সনদ প্রদানের বাধ্যবাধকতা বাতিল এবং হেডম্যান কার্যালয়ের পরিবর্তে সব উপজেলা ভূমি অফিসে ভূমির কর/খাজনা পরিশোধের অবাধ সুযোগ সৃষ্টির দাবি জানানো হয়।পাশাপাশি সার্বভৌমত্ব রক্ষা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং জনগণের জানমালের নিরাপত্তার স্বার্থে প্রত্যাহার করা ব্রিগেড ও ২৪৬টি সেনাক্যাম্প পুনঃস্থাপনের দাবিও জানান বক্তারা।

বক্তারা বলেন, বাজারফান্ডের জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক জটিলতার কারণে পার্বত্য অঞ্চলের ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এই সমস্যা আর দীর্ঘায়িত করা হলে পাহাড়ের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও বাধাগ্রস্ত হবে।তারা অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সমস্যার স্থায়ী সমাধান এবং বাজারফান্ডের জমি বন্ধক রেখে ব্যাংক ঋণসহ বন্ধ থাকা অন্যান্য কার্যক্রম চালুর দাবি জানান।

দাবিগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করা না হলে পিসিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে তিন পার্বত্য জেলায় আরও কঠোর আন্দোলন কর্মসূচি দেওয়া হবে বলেও সমাবেশ থেকে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।