ঢাকা ১১:০৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৭ অগাস্ট ২০২৬, ২৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
যশোরে চক্রের দুই সদস্য আটক

কাজী ফার্মসের ভুয়া পরিচালক পরিচয়ে প্রতারণা

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ১০:০৪:৩১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬
  • / ১৪ বার পঠিত

কাজী ফার্মস লিমিটেডের ভুয়া পরিচালক পরিচয় দিয়ে গমের ভূষি আত্মসাতের ঘটনায় যশোরে অভিনব প্রতারক চক্রের দুই সদস্যকে আটক করেছে জেলা পুলিশের সাইবার ইনভেস্টিগেশন টিম। এ সময় প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাৎ করা অর্থ ও মালামালের একটি অংশ উদ্ধার করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিরা হলেন পাবনা জেলার চাটমোহর উপজেলার নটাবাড়িয়া গ্রামের নুরু মোল্লার ছেলে মনিরুল ইসলাম এবং একই উপজেলার দোদারিয়া গ্রামের ইসমাইল হোসেনের ছেলে খালেক সরদার। মনিরুলকে যশোরের নাজির শংকরপুর এলাকা এবং খালেককে শহরের পুরাতন কসবা এলাকা থেকে আটক করা হয়।

পুলিশ জানায়, আটক ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পাবনার পুটে বাজার এলাকায় অভিযান চালানো হলে চক্রের আরেক সদস্য আবুল বাসার পালিয়ে যান। তবে সেখান থেকে প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাৎ করা মালামালের একটি অংশ উদ্ধার করা সম্ভব হয়। এ ঘটনায় বুধবার রাতে যশোর কোতোয়ালি থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

সাইবার ইনভেস্টিগেশন টিম জানায়, অভিযানে প্রতারণার মাধ্যমে বিক্রি করা গমের ভূষির ১০ লাখ ৩ হাজার টাকা, ৭৭ বস্তা গমের ভূষি, প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত সাতটি মোবাইল ফোন, ৫১টি সিমকার্ড, দুটি ল্যাপটপ, একটি মোটরসাইকেল এবং কিছু স্বর্ণালংকার জব্দ করা হয়েছে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ জুলাই প্রতারক চক্রের সদস্যরা নিজেদের কাজী ফার্মস লিমিটেডের ম্যানেজার ও পরিচালক পরিচয় দিয়ে চুয়াডাঙ্গার মেসার্স আর এস ইন্টারন্যাশনালের মালিক মানিক কুমার আগরওয়ালের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তারা প্রতি কেজি ৩২ টাকা দরে মোট ৭৫ মেট্রিক টন গমের ভূষি কেনার চুক্তি করেন। চুক্তি অনুযায়ী ২২ ও ২৫ জুলাই দুই দফায় পাঁচটি ট্রাকে করে গমের ভূষি সরবরাহ করা হয়। এরপর প্রতারকরা ট্রাক ভাড়া, তথাকথিত সিকিউরিটি মানি এবং ভ্যাটের কথা বলে বিভিন্ন বিকাশ নম্বর ও ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের চুয়াডাঙ্গা শাখার একটি হিসাবে কয়েক দফায় অর্থ পাঠাতে ব্যবসায়ীকে রাজি করান। পরবর্তীতে ৩১ জুলাই প্রতারক চক্রটি আরও ৩০ হাজার টাকা ধার চাইলে ব্যবসায়ীর সন্দেহের সৃষ্টি হয়।

গত ২ আগস্ট ব্যবসায়ী মানিক কুমার আগরওয়াল যশোর সদর উপজেলার শান্তলা এলাকায় অবস্থিত কাজী ফার্মস লিমিটেডের কার্যালয়ে গিয়ে জানতে পারেন, প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে গমের ভূষি কেনার কোনো অর্ডারই দেওয়া হয়নি। তখনই তিনি বুঝতে পারেন, ভুয়া পরিচয়ে একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র তার সঙ্গে প্রতারণা করেছে। পরে ট্রাকচালকদের সঙ্গে কথা বলে তিনি জানতে পারেন, গমের ভূষিগুলো যশোরের চুড়ামনকাঠি বাজারসংলগ্ন কাজী নজরুল ইসলাম ডিগ্রি কলেজের সামনের পাকা সড়কে নামিয়ে নিয়ে যায় প্রতারকরা। এ ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির প্রায় ৩৪ লাখ ১৯ হাজার ২৫৬ টাকার গমের ভূষি আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগ পাওয়ার পর যশোর জেলা পুলিশের সাইবার ইনভেস্টিগেশন টিমের উপপরিদর্শক (এসআই) দেবব্রত ঘোষের নেতৃত্বে একটি বিশেষ দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে দুই প্রতারককে আটক করে। একই সঙ্গে উদ্ধার করা হয় আত্মসাৎ করা অর্থ ও মালামালের একটি অংশ। এ প্রতারণা চক্রের পলাতক সদস্যদের গ্রেপ্তার এবং আত্মসাৎ করা অবশিষ্ট মালামাল উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ট্যাগস :

যশোরে চক্রের দুই সদস্য আটক

কাজী ফার্মসের ভুয়া পরিচালক পরিচয়ে প্রতারণা

আপডেট সময় : ১০:০৪:৩১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬

কাজী ফার্মস লিমিটেডের ভুয়া পরিচালক পরিচয় দিয়ে গমের ভূষি আত্মসাতের ঘটনায় যশোরে অভিনব প্রতারক চক্রের দুই সদস্যকে আটক করেছে জেলা পুলিশের সাইবার ইনভেস্টিগেশন টিম। এ সময় প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাৎ করা অর্থ ও মালামালের একটি অংশ উদ্ধার করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিরা হলেন পাবনা জেলার চাটমোহর উপজেলার নটাবাড়িয়া গ্রামের নুরু মোল্লার ছেলে মনিরুল ইসলাম এবং একই উপজেলার দোদারিয়া গ্রামের ইসমাইল হোসেনের ছেলে খালেক সরদার। মনিরুলকে যশোরের নাজির শংকরপুর এলাকা এবং খালেককে শহরের পুরাতন কসবা এলাকা থেকে আটক করা হয়।

পুলিশ জানায়, আটক ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পাবনার পুটে বাজার এলাকায় অভিযান চালানো হলে চক্রের আরেক সদস্য আবুল বাসার পালিয়ে যান। তবে সেখান থেকে প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাৎ করা মালামালের একটি অংশ উদ্ধার করা সম্ভব হয়। এ ঘটনায় বুধবার রাতে যশোর কোতোয়ালি থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

সাইবার ইনভেস্টিগেশন টিম জানায়, অভিযানে প্রতারণার মাধ্যমে বিক্রি করা গমের ভূষির ১০ লাখ ৩ হাজার টাকা, ৭৭ বস্তা গমের ভূষি, প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত সাতটি মোবাইল ফোন, ৫১টি সিমকার্ড, দুটি ল্যাপটপ, একটি মোটরসাইকেল এবং কিছু স্বর্ণালংকার জব্দ করা হয়েছে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ জুলাই প্রতারক চক্রের সদস্যরা নিজেদের কাজী ফার্মস লিমিটেডের ম্যানেজার ও পরিচালক পরিচয় দিয়ে চুয়াডাঙ্গার মেসার্স আর এস ইন্টারন্যাশনালের মালিক মানিক কুমার আগরওয়ালের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তারা প্রতি কেজি ৩২ টাকা দরে মোট ৭৫ মেট্রিক টন গমের ভূষি কেনার চুক্তি করেন। চুক্তি অনুযায়ী ২২ ও ২৫ জুলাই দুই দফায় পাঁচটি ট্রাকে করে গমের ভূষি সরবরাহ করা হয়। এরপর প্রতারকরা ট্রাক ভাড়া, তথাকথিত সিকিউরিটি মানি এবং ভ্যাটের কথা বলে বিভিন্ন বিকাশ নম্বর ও ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের চুয়াডাঙ্গা শাখার একটি হিসাবে কয়েক দফায় অর্থ পাঠাতে ব্যবসায়ীকে রাজি করান। পরবর্তীতে ৩১ জুলাই প্রতারক চক্রটি আরও ৩০ হাজার টাকা ধার চাইলে ব্যবসায়ীর সন্দেহের সৃষ্টি হয়।

গত ২ আগস্ট ব্যবসায়ী মানিক কুমার আগরওয়াল যশোর সদর উপজেলার শান্তলা এলাকায় অবস্থিত কাজী ফার্মস লিমিটেডের কার্যালয়ে গিয়ে জানতে পারেন, প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে গমের ভূষি কেনার কোনো অর্ডারই দেওয়া হয়নি। তখনই তিনি বুঝতে পারেন, ভুয়া পরিচয়ে একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র তার সঙ্গে প্রতারণা করেছে। পরে ট্রাকচালকদের সঙ্গে কথা বলে তিনি জানতে পারেন, গমের ভূষিগুলো যশোরের চুড়ামনকাঠি বাজারসংলগ্ন কাজী নজরুল ইসলাম ডিগ্রি কলেজের সামনের পাকা সড়কে নামিয়ে নিয়ে যায় প্রতারকরা। এ ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির প্রায় ৩৪ লাখ ১৯ হাজার ২৫৬ টাকার গমের ভূষি আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগ পাওয়ার পর যশোর জেলা পুলিশের সাইবার ইনভেস্টিগেশন টিমের উপপরিদর্শক (এসআই) দেবব্রত ঘোষের নেতৃত্বে একটি বিশেষ দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে দুই প্রতারককে আটক করে। একই সঙ্গে উদ্ধার করা হয় আত্মসাৎ করা অর্থ ও মালামালের একটি অংশ। এ প্রতারণা চক্রের পলাতক সদস্যদের গ্রেপ্তার এবং আত্মসাৎ করা অবশিষ্ট মালামাল উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।