ঢাকা ১১:০৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৭ অগাস্ট ২০২৬, ২৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
কেউ কথা রাখেনি!

সরকারের পর সরকার যায়, কাটেনা দূর্ভোগ!

মণিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ১০:২২:১১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬
  • / ১৪ বার পঠিত

সরকার বদলেছে, জনপ্রতিনিধি বদলেছেন, নির্বাচনের আগে এসেছে একের পর এক প্রতিশ্রুতি। কিন্তু যশোরের মণিরামপুর উপজেলার রোহিতা ইউনিয়নের এড়েন্দা বাজার মোড় থেকে মাঠপাড়া হয়ে সরদারপাড়া পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার কাঁচা সড়কের দুর্ভোগের কোনো পরিবর্তন হয়নি। বর্ষা এলেই কাদা-পানিতে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে সড়কটি। এতে কৃষক, দিনমজুর, ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থীসহ শতাধিক পরিবারের মানুষ প্রতিদিন চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এড়েন্দা বাজারের চার রাস্তার মোড় থেকে তিনটি সড়ক পাকা হলেও মাঠপাড়া-সরদারপাড়ার একমাত্র সংযোগ সড়কটি বছরের পর বছর কাঁচাই রয়ে গেছে। ফলে বর্ষাকালে হাঁটুসমান কাদা মাড়িয়ে চলাচল করা ছাড়া তাদের আর কোনো বিকল্প থাকে না।

সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়ছে শিক্ষার্থীরা। স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিদিন প্রায় ৮০ থেকে ৯০ জন শিক্ষার্থী এড়েন্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও পলাশী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে যাতায়াতের জন্য এই সড়ক ব্যবহার করে। কাদায় পিছলে পড়ে পোশাক নষ্ট হওয়া, বই-খাতা ভিজে যাওয়া এবং বিদ্যালয়ে পৌঁছানোর আগেই বাড়ি ফিরে পোশাক পরিবর্তনের মতো ঘটনাও প্রায়ই ঘটে। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বর্ষা মৌসুমে এ এলাকার অনেক শিক্ষার্থী অনিয়মিত হয়ে পড়ে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কৃষিপণ্য পরিবহন, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং দৈনন্দিন যাতায়াতেও এই সড়কের কারণে দীর্ঘদিন ধরে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। জরুরি প্রয়োজনে অসুস্থ রোগীকেও কাঁধে করে প্রায় দেড় কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে এড়েন্দা বাজারে নিয়ে যেতে হয়, কারণ বর্ষাকালে যানবাহন চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।

স্থানীয়দের দাবি, সর্বশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে তৎকালীন সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট গাজী এনামুল হক এলাকাবাসীকে সড়কটি পাকা করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন। এর আগেও বিভিন্ন সময়ে জনপ্রতিনিধিরা একই প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে কোনো অগ্রগতি হয়নি। ফলে প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন না হওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে।

এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) মণিরামপুর উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় দেড় কিলোমিটার সড়কটির রোড আইডি রয়েছে। তবে চলতি অর্থবছরে এটি গেজেটভুক্ত হয়নি। আগামী অর্থবছরে সড়কটি পাকা করার সুযোগ রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

এদিকে সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট গাজী এনামুল হকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি। তবে তাঁর ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানিয়েছে, দেওয়া প্রতিশ্রুতির বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা মাহমুদুল হাসান সোহাগ, যিনি নিজেও এ সড়কের একজন ভুক্তভোগী, বলেন, “আমাদের এই দুর্ভোগ বহু বছরের। শুধু নির্বাচনের সময় প্রতিশ্রুতি পাওয়া যায়, কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয় না। দ্রুত সড়কটি পাকা করা হলে শতাধিক পরিবারের মানুষের দুর্ভোগ লাঘব হবে।”

এলাকাবাসীর দাবি, জনস্বার্থে এড়েন্দা বাজার মোড় থেকে মাঠপাড়া হয়ে সরদারপাড়া পর্যন্ত সড়কটি দ্রুত পাকা করার উদ্যোগ নেওয়া হোক, যাতে দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটে।

ট্যাগস :

কেউ কথা রাখেনি!

সরকারের পর সরকার যায়, কাটেনা দূর্ভোগ!

আপডেট সময় : ১০:২২:১১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬

সরকার বদলেছে, জনপ্রতিনিধি বদলেছেন, নির্বাচনের আগে এসেছে একের পর এক প্রতিশ্রুতি। কিন্তু যশোরের মণিরামপুর উপজেলার রোহিতা ইউনিয়নের এড়েন্দা বাজার মোড় থেকে মাঠপাড়া হয়ে সরদারপাড়া পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার কাঁচা সড়কের দুর্ভোগের কোনো পরিবর্তন হয়নি। বর্ষা এলেই কাদা-পানিতে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে সড়কটি। এতে কৃষক, দিনমজুর, ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থীসহ শতাধিক পরিবারের মানুষ প্রতিদিন চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এড়েন্দা বাজারের চার রাস্তার মোড় থেকে তিনটি সড়ক পাকা হলেও মাঠপাড়া-সরদারপাড়ার একমাত্র সংযোগ সড়কটি বছরের পর বছর কাঁচাই রয়ে গেছে। ফলে বর্ষাকালে হাঁটুসমান কাদা মাড়িয়ে চলাচল করা ছাড়া তাদের আর কোনো বিকল্প থাকে না।

সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়ছে শিক্ষার্থীরা। স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিদিন প্রায় ৮০ থেকে ৯০ জন শিক্ষার্থী এড়েন্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও পলাশী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে যাতায়াতের জন্য এই সড়ক ব্যবহার করে। কাদায় পিছলে পড়ে পোশাক নষ্ট হওয়া, বই-খাতা ভিজে যাওয়া এবং বিদ্যালয়ে পৌঁছানোর আগেই বাড়ি ফিরে পোশাক পরিবর্তনের মতো ঘটনাও প্রায়ই ঘটে। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বর্ষা মৌসুমে এ এলাকার অনেক শিক্ষার্থী অনিয়মিত হয়ে পড়ে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কৃষিপণ্য পরিবহন, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং দৈনন্দিন যাতায়াতেও এই সড়কের কারণে দীর্ঘদিন ধরে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। জরুরি প্রয়োজনে অসুস্থ রোগীকেও কাঁধে করে প্রায় দেড় কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে এড়েন্দা বাজারে নিয়ে যেতে হয়, কারণ বর্ষাকালে যানবাহন চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।

স্থানীয়দের দাবি, সর্বশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে তৎকালীন সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট গাজী এনামুল হক এলাকাবাসীকে সড়কটি পাকা করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন। এর আগেও বিভিন্ন সময়ে জনপ্রতিনিধিরা একই প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে কোনো অগ্রগতি হয়নি। ফলে প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন না হওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে।

এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) মণিরামপুর উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় দেড় কিলোমিটার সড়কটির রোড আইডি রয়েছে। তবে চলতি অর্থবছরে এটি গেজেটভুক্ত হয়নি। আগামী অর্থবছরে সড়কটি পাকা করার সুযোগ রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

এদিকে সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট গাজী এনামুল হকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি। তবে তাঁর ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানিয়েছে, দেওয়া প্রতিশ্রুতির বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা মাহমুদুল হাসান সোহাগ, যিনি নিজেও এ সড়কের একজন ভুক্তভোগী, বলেন, “আমাদের এই দুর্ভোগ বহু বছরের। শুধু নির্বাচনের সময় প্রতিশ্রুতি পাওয়া যায়, কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয় না। দ্রুত সড়কটি পাকা করা হলে শতাধিক পরিবারের মানুষের দুর্ভোগ লাঘব হবে।”

এলাকাবাসীর দাবি, জনস্বার্থে এড়েন্দা বাজার মোড় থেকে মাঠপাড়া হয়ে সরদারপাড়া পর্যন্ত সড়কটি দ্রুত পাকা করার উদ্যোগ নেওয়া হোক, যাতে দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটে।