ঢাকা ১১:০৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৭ অগাস্ট ২০২৬, ২৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
মহাসড়ক না বালুরহাট

‎মণিরামপুরে চার ঘন্টার ব্যবধানে পৃথক দূর্ঘটনায় নিহত ১

এস এম তাজাম্মুল, মণিরামপুর
  • আপডেট সময় : ১০:৩৪:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬
  • / ১৩ বার পঠিত

যশোর-সাতক্ষীরা মহাসড়কের মণিরামপুর সরকারি কলেজসংলগ্ন এলাকায় সড়কের এক পাশে সারিবদ্ধভাবে বালুভর্তি ট্রাক দাঁড়িয়ে থাকার কারণে আবারও দুটি পৃথক সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। চার ঘণ্টার ব্যবধানে সংঘটিত এ দুই দুর্ঘটনায় এক ট্রাকের হেলপার নিহত হয়েছেন। অপরদিকে একটি যাত্রীবাহী বাসের প্রায় অর্ধশত যাত্রী অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পেয়েছেন।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) রাত ৯টার দিকে প্রথম দুর্ঘটনাটি ঘটে। সাতক্ষীরা থেকে ঢাকাগামী মামুন এন্টারপ্রাইজের একটি যাত্রীবাহী বাস, যাতে প্রায় ৫০ থেকে ৫২ জন যাত্রী ছিলেন, মণিরামপুর সরকারি কলেজসংলগ্ন এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে একটি বৈদ্যুতিক খুঁটিতে ধাক্কা দেয়।

বাসচালকের দাবি, মহাসড়কের এক পাশে সারিবদ্ধভাবে বালুভর্তি ট্রাক দাঁড়িয়ে থাকায় সড়ক সংকুচিত হয়ে পড়ে। বিপরীত দিক থেকে আসা একটি মোটরসাইকেল ও একটি ইঞ্জিনচালিত ভ্যানকে পাশ কাটাতে গিয়ে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বৈদ্যুতিক খুঁটিতে আঘাত করে। তবে চালকের দক্ষতায় বড় ধরনের প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হয়।

এর প্রায় চার ঘণ্টা পর, রাত আনুমানিক ১টার দিকে একই স্থানে যশোরমুখী একটি মালবাহী মিনি পিকআপ সড়কে দাঁড়িয়ে থাকা একটি বালুভর্তি ট্রাকের পেছনে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে পিকআপটির সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায়। গুরুতর আহত হন হেলপার। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ওই এলাকায় প্রায়ই সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। তাদের দাবি, মহাসড়কের ওপর নিয়মিত বালুভর্তি ট্রাক দাঁড়িয়ে থাকায় যান চলাচলে ঝুঁকি সৃষ্টি হচ্ছে। গত এক বছরে একই স্থানে ২৫ থেকে ৩০টি দুর্ঘটনা ঘটেছে বলেও দাবি করেন তারা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলা প্রশাসন থেকে একাধিকবার সতর্ক করা হলেও সন্ধ্যার পর থেকে কুষ্টিয়াসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা বালুভর্তি ট্রাক মহাসড়কের একাংশ দখল করে দাঁড়িয়ে থাকে এবং সেখানেই বালু কেনাবেচা চলে।

ঘটনাস্থল পরিদর্শনকারী মণিরামপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) উবাইদুল ইসলাম বলেন, মহাসড়কের ওপর সারিবদ্ধভাবে বালুভর্তি ট্রাক দাঁড়িয়ে থাকায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে। মানুষের জীবন রক্ষায় এ ধরনের পার্কিং বন্ধ করা প্রয়োজন।

অন্যদিকে বালুর হাট ও ট্রাক মালিক সমিতির সভাপতি আলমগীর হোসেন বলেন, নির্ধারিত ট্রাক টার্মিনাল না থাকায় চালকরা বাধ্য হয়ে মহাসড়কের পাশে ট্রাক রাখেন। তিনি দাবি করেন, ট্রাক মালিকরা নিয়মিত সরকারি কর পরিশোধ করেন এবং বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তিনি জানান, টার্মিনাল সংস্কারের জন্য সম্প্রতি উপজেলা প্রশাসন অর্থ বরাদ্দ দিয়েছে।

এ বিষয়ে মণিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সম্রাট হোসেন বলেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। মহাসড়কে ট্রাক দাঁড় করিয়ে রাখার কারণে দুর্ঘটনা এড়াতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয়দের দাবি, মহাসড়কে অবৈধভাবে বালুভর্তি ট্রাক পার্কিং ও বালু বিক্রি বন্ধ করে বিকল্প টার্মিনালের ব্যবস্থা করা না হলে ভবিষ্যতেও বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা থেকেই যাবে।

ট্যাগস :

মহাসড়ক না বালুরহাট

‎মণিরামপুরে চার ঘন্টার ব্যবধানে পৃথক দূর্ঘটনায় নিহত ১

আপডেট সময় : ১০:৩৪:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬

যশোর-সাতক্ষীরা মহাসড়কের মণিরামপুর সরকারি কলেজসংলগ্ন এলাকায় সড়কের এক পাশে সারিবদ্ধভাবে বালুভর্তি ট্রাক দাঁড়িয়ে থাকার কারণে আবারও দুটি পৃথক সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। চার ঘণ্টার ব্যবধানে সংঘটিত এ দুই দুর্ঘটনায় এক ট্রাকের হেলপার নিহত হয়েছেন। অপরদিকে একটি যাত্রীবাহী বাসের প্রায় অর্ধশত যাত্রী অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পেয়েছেন।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) রাত ৯টার দিকে প্রথম দুর্ঘটনাটি ঘটে। সাতক্ষীরা থেকে ঢাকাগামী মামুন এন্টারপ্রাইজের একটি যাত্রীবাহী বাস, যাতে প্রায় ৫০ থেকে ৫২ জন যাত্রী ছিলেন, মণিরামপুর সরকারি কলেজসংলগ্ন এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে একটি বৈদ্যুতিক খুঁটিতে ধাক্কা দেয়।

বাসচালকের দাবি, মহাসড়কের এক পাশে সারিবদ্ধভাবে বালুভর্তি ট্রাক দাঁড়িয়ে থাকায় সড়ক সংকুচিত হয়ে পড়ে। বিপরীত দিক থেকে আসা একটি মোটরসাইকেল ও একটি ইঞ্জিনচালিত ভ্যানকে পাশ কাটাতে গিয়ে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বৈদ্যুতিক খুঁটিতে আঘাত করে। তবে চালকের দক্ষতায় বড় ধরনের প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হয়।

এর প্রায় চার ঘণ্টা পর, রাত আনুমানিক ১টার দিকে একই স্থানে যশোরমুখী একটি মালবাহী মিনি পিকআপ সড়কে দাঁড়িয়ে থাকা একটি বালুভর্তি ট্রাকের পেছনে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে পিকআপটির সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায়। গুরুতর আহত হন হেলপার। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ওই এলাকায় প্রায়ই সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। তাদের দাবি, মহাসড়কের ওপর নিয়মিত বালুভর্তি ট্রাক দাঁড়িয়ে থাকায় যান চলাচলে ঝুঁকি সৃষ্টি হচ্ছে। গত এক বছরে একই স্থানে ২৫ থেকে ৩০টি দুর্ঘটনা ঘটেছে বলেও দাবি করেন তারা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলা প্রশাসন থেকে একাধিকবার সতর্ক করা হলেও সন্ধ্যার পর থেকে কুষ্টিয়াসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা বালুভর্তি ট্রাক মহাসড়কের একাংশ দখল করে দাঁড়িয়ে থাকে এবং সেখানেই বালু কেনাবেচা চলে।

ঘটনাস্থল পরিদর্শনকারী মণিরামপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) উবাইদুল ইসলাম বলেন, মহাসড়কের ওপর সারিবদ্ধভাবে বালুভর্তি ট্রাক দাঁড়িয়ে থাকায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে। মানুষের জীবন রক্ষায় এ ধরনের পার্কিং বন্ধ করা প্রয়োজন।

অন্যদিকে বালুর হাট ও ট্রাক মালিক সমিতির সভাপতি আলমগীর হোসেন বলেন, নির্ধারিত ট্রাক টার্মিনাল না থাকায় চালকরা বাধ্য হয়ে মহাসড়কের পাশে ট্রাক রাখেন। তিনি দাবি করেন, ট্রাক মালিকরা নিয়মিত সরকারি কর পরিশোধ করেন এবং বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তিনি জানান, টার্মিনাল সংস্কারের জন্য সম্প্রতি উপজেলা প্রশাসন অর্থ বরাদ্দ দিয়েছে।

এ বিষয়ে মণিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সম্রাট হোসেন বলেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। মহাসড়কে ট্রাক দাঁড় করিয়ে রাখার কারণে দুর্ঘটনা এড়াতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয়দের দাবি, মহাসড়কে অবৈধভাবে বালুভর্তি ট্রাক পার্কিং ও বালু বিক্রি বন্ধ করে বিকল্প টার্মিনালের ব্যবস্থা করা না হলে ভবিষ্যতেও বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা থেকেই যাবে।