কুমিল্লায় ধানক্ষেত থেকে যশোরের নিখোঁজ কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার
- আপডেট সময় : ১২:০৪:১৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬
- / ১৫ বার পঠিত

কুমিল্লার লালমাই উপজেলায় ধানক্ষেত থেকে জান্নাতুল তাজমিন (১৫) নামে নিখোঁজ এক কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকালে কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কসংলগ্ন পেরুল উত্তর ইউনিয়নের জগতপুর (মানুমুড়া) এলাকায় মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থলের পাশ থেকে একটি পরিত্যক্ত সিএনজিচালিত অটোরিকশাও জব্দ করেছে পুলিশ।
নিহত জান্নাতুল তাজমিন যশোর সদর উপজেলার চুড়ামনকাটি ইউনিয়নের ছাতিয়ানতলা গ্রামের আবদুল আলীমের মেয়ে। বাবার চাকরির সুবাদে পরিবারের সঙ্গে কুমিল্লায় বসবাস করত সে। তাজমিন কুমিল্লার ফরিদা বিদ্যায়াতনের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
স্থানীয়রা জানান, বৃহস্পতিবার সকালে জগতপুর এলাকার একটি ধানক্ষেতে কিশোরীর মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পরে লালমাই থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। ঘটনাস্থলের কাছেই পরিত্যক্ত অবস্থায় একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা পাওয়া যায়।
পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, প্রায় চার দিন আগে এক বান্ধবীর বাড়িতে যাওয়ার কথা বলে বাসা থেকে বের হয়েছিল তাজমিন। পরে ওই বান্ধবীর সঙ্গে কক্সবাজারে ঘুরতে যায় সে। বুধবার (৭ অক্টোবর) রাতে কক্সবাজার থেকে কুমিল্লার উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা ছিল তার।
ওই রাতে মেয়ের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করেন বাবা আবদুল আলীম। কিন্তু কোনো সাড়া না পেয়ে তিনি উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। পরে রাতেই মেয়ের খোঁজে বের হন তিনি। বৃহস্পতিবার ভোরে লালমাই থানায় গিয়ে ধানক্ষেত থেকে উদ্ধার করা মরদেহটি নিজের মেয়ে জান্নাতুল তাজমিনের বলে শনাক্ত করেন আবদুল আলীম।
লালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
পুলিশ জানিয়েছে, তাজমিনের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এটি দুর্ঘটনা, আত্মহত্যা নাকি হত্যাকাণ্ড—তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনার রহস্য উদঘাটনে পুলিশের একাধিক সংস্থা তদন্ত শুরু করেছে।
নিহতের পরিবার জানিয়েছে, শুক্রবার (৯ অক্টোবর) মরদেহ যশোর সদর উপজেলার চুড়ামনকাটি ইউনিয়নের ছাতিয়ানতলা গ্রামের বাড়িতে নেওয়ার পর পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করার কথা রয়েছে।
তাজমিনের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে এখন ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও পুলিশের তদন্তের ফলাফলের অপেক্ষা করছেন স্বজনরা।
























