আট বছরের অপেক্ষার অবসান
দুই মাসের মধ্যেই চালু হচ্ছে কালিয়া সেতু
- আপডেট সময় : ০৭:৩৭:৩৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২৬
- / ১১ বার পঠিত

দীর্ঘ আট বছরের প্রতীক্ষা, নকশা পরিবর্তন, কারিগরি জটিলতা এবং একাধিক দফায় প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধির পর শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে নড়াইলের বহুল প্রত্যাশিত কালিয়া সেতুর নির্মাণকাজ। ইতোমধ্যে প্রকল্পের প্রায় ৯৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। বর্তমানে চলছে শেষ ধাপের ঢালাই, সংযোগ সড়ক (অ্যাপ্রোচ রোড) নির্মাণ এবং ফিনিশিংয়ের কাজ। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে আগামী দুই মাসের মধ্যেই সেতুটি উদ্বোধনের জন্য প্রস্তুত হবে বলে জানিয়েছে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ।
সওজ সূত্র জানায়, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রকল্পটি অনুমোদন পায়। ২০১৮ সালের ১৮ এপ্রিল প্রায় ৬৫ কোটি ৩ লাখ টাকা ব্যয়ে সেতু নির্মাণের কার্যাদেশ দেওয়া হয়। ২০১৯ সালের ৩০ জুন প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও নকশাগত পরিবর্তন, নৌযান চলাচল নির্বিঘ্ন রাখতে স্টিল আর্চ স্প্যান সংযোজন, নির্মাণাধীন পিলারে একাধিকবার বালুবোঝাই বাল্কহেডের ধাক্কা এবং বিভিন্ন কারিগরি জটিলতার কারণে প্রকল্পের মেয়াদ সাত দফা বাড়াতে হয়। সেই সঙ্গে ব্যয়ও বেড়ে প্রায় দ্বিগুণ হয়ে দাঁড়ায় ১৩৫ কোটি ৯২ লাখ টাকায়।
প্রকল্প-সংশ্লিষ্টরা জানান, নির্মাণাধীন ৯ নম্বর পিলারে বারবার বাল্কহেডের ধাক্কা লাগায় প্রকল্পে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে হয়। পরে নতুন নকশায় স্টিল আর্চ স্প্যান যুক্ত করে নির্মাণকাজ এগিয়ে নেওয়া হয়। বর্তমানে মূল সেতুর কাঠামো, স্টিল স্প্যান এবং অন্যান্য প্রধান কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
নড়াইল-কালিয়া আঞ্চলিক মহাসড়কের ২১তম কিলোমিটারে বারইপাড়া এলাকায় নবগঙ্গা নদীর ওপর নির্মাণাধীন ৬৫১ দশমিক ৮৩ মিটার দীর্ঘ ও ১০ দশমিক ২৫ মিটার প্রশস্ত সেতুটি চালু হলে নড়াইল সদর ও কালিয়া উপজেলার মধ্যে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ প্রতিষ্ঠিত হবে। এতে নবগঙ্গা নদীর দুই পাড়ের প্রায় তিন লাখ মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান ঘটবে বলে আশা করা হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুস সাত্তার বলেন, “একটি সেতুর জন্য বছরের পর বছর অপেক্ষা করেছি। খেয়া পার হয়ে স্কুল-কলেজ, হাসপাতাল ও বাজারে যেতে হয়েছে। এখন কাজ প্রায় শেষ। মনে হচ্ছে, বহুদিনের স্বপ্ন পূরণ হতে যাচ্ছে।”
ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম বলেন, “সেতু চালু হলে কৃষিপণ্য পরিবহন সহজ হবে, ব্যবসা-বাণিজ্যে গতি আসবে এবং পরিবহন ব্যয় কমবে। এতে পুরো এলাকার অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।”
কালিয়ার ব্যবসায়ী হাজী আলমগীর কবিরের ভাষ্য, “এই সেতু শুধু কালিয়ার নয়, নড়াইল, গোপালগঞ্জ ও খুলনাসহ বৃহত্তর অঞ্চলের মানুষের যোগাযোগ সহজ করবে। উপজেলা সদরে যাতায়াতের সময় অনেক কমে যাবে।”
মাছ ব্যবসায়ী মহিদুল ইসলাম বলেন, “খেয়াঘাট পার হতে প্রতিদিন অনেক সময় নষ্ট হয়। দ্রুত মাছ বাজারে পৌঁছাতে না পারায় লোকসান গুনতে হয়। সেতু চালু হলে ব্যবসা অনেক সহজ হয়ে যাবে।”
নির্মাণকাজে নিয়োজিত প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা আবদুল ওয়াদুদ খান লিটন বলেন, “সেতুর মূল স্ট্রাকচারাল কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এখন শেষ পর্যায়ের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কাজ শেষ করে সেতুটি হস্তান্তর করা সম্ভব হবে।”
নড়াইল সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নজরুল ইসলাম বলেন, “মূল কাঠামো ও স্টিল স্প্যানের কাজ শেষ হয়েছে। এখন সামান্য কিছু ঢালাই এবং সংযোগ সড়কের কাজ চলছে। বর্তমানে প্রকল্পে কোনো জটিলতা নেই। আশা করছি, আগামী দুই মাসের মধ্যেই সেতুটি উদ্বোধনের জন্য প্রস্তুত হবে। এরপরই যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হবে।”
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর কালিয়া সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পথে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, নির্ধারিত সময়েই সেতুটি চালু হলে শুধু যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নই নয়, ব্যবসা-বাণিজ্য, কৃষি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায়ও নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে।
























