জলাবদ্ধতা কমার আশায় কৃষকেরা
পুনঃখননে হরিহর নদে ফিরেছে জোয়ার-ভাটা
- আপডেট সময় : ০৯:১৭:০৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬
- / ২৫ বার পঠিত

যশোরের কেশবপুরে হরিহর নদ ফিরে পেয়েছে তার হারানো যৌবন। দীর্ঘদিন পলি জমে ভরাট হয়ে যাওয়া নদটি পুনঃখননের পর এখন স্বাভাবিক জোয়ার-ভাটা শুরু হয়েছে। প্রবল স্রোত ও পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরে আসায় নদপাড়ের মানুষের মধ্যে দেখা দিয়েছে নতুন আশার সঞ্চার। বিশেষ করে কৃষকেরা আশা করছেন, এবার বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতার দুর্ভোগ কমবে এবং সময়মতো ফসল আবাদ করতে পারবেন।
এলাকাবাসী ও পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, কেশবপুরের বড়েঙ্গা ত্রিমোহনা থেকে আপারভদ্রা নদ হয়ে হরিহর নদের উৎপত্তি। প্রায় ৪০ কিলোমিটার দীর্ঘ নদটি কেশবপুর ও মনিরামপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা দিয়ে প্রবাহিত হয়ে চৌগাছায় গিয়ে মিশেছে।
দীর্ঘদিন পলি জমে নদটি ভরাট হয়ে যাওয়ায় স্বাভাবিক জোয়ার-ভাটা ব্যাহত হচ্ছিল। ফলে বর্ষা মৌসুমে পানি নিষ্কাশনে বাধা তৈরি হয়ে কেশবপুর ও মনিরামপুরের বিভিন্ন এলাকায় দেখা দিত ব্যাপক জলাবদ্ধতা। পানিতে তলিয়ে যেত কৃষিজমি। এতে বছরের একটি বড় সময় অনেক কৃষক ফসল উৎপাদন থেকে বঞ্চিত হতেন।
স্বাভাবিক জোয়ার-ভাটা না থাকায় কেশবপুরের মঙ্গলকোট, পাঁজিয়া, কেশবপুর পৌরসভা ও সদর ইউনিয়ন এবং মনিরামপুরের চালুয়াহাটি, মনোহরপুর, দুর্বাডাঙ্গা ও শ্যামকুড় ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হতো।
তবে এ বছর হরিহর নদ পুনঃখননের পর বদলাতে শুরু করেছে পরিস্থিতি। স্বাভাবিক জোয়ার-ভাটায় নদ দিয়ে দ্রুত পানি নিষ্কাশিত হচ্ছে। পানির প্রবাহ ও স্রোত ফিরে আসায় স্থানীয় বাসিন্দারাও নদপাড়ে ভিড় করছেন। দীর্ঘদিন পর নদটির এমন রূপ দেখে আনন্দ প্রকাশ করছেন তাঁরা।
সরেজমিনে শুক্রবার কেশবপুর শহরের শ্রীগঞ্জ ব্রিজের ওপর থেকে দেখা যায়, জোয়ারের পানিতে হরিহর নদ দুই কূলে ভরে উঠেছে। প্রবল স্রোতে ছুটে চলছে পানি। দীর্ঘদিন পর নদে এমন দৃশ্য দেখতে নদপাড়ে ভিড় করেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
মধ্যকুল এলাকায় কথা হয় কৃষক আয়ুব খানের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘গত ৭-৮ বছর ধরে জলাবদ্ধতার কারণে বর্ষা মৌসুমে ফসল উৎপাদন করতে পারিনি। এ বছর নদটি পুনঃখনন হওয়ায় স্বাভাবিক জোয়ার-ভাটায় এলাকার পানি বেরিয়ে যাচ্ছে। এভাবে জোয়ার-ভাটা অব্যাহত থাকলে জলাবদ্ধতা থাকবে না। এবার সহজেই কৃষিজমিতে ফসল আবাদ করতে পারব বলে আশা করছি।’
একই ধরনের আশার কথা জানান কেশবপুর সদর ইউনিয়নের ব্যাসডাঙ্গা গ্রামের কৃষক কামরুজ্জামান।
বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের কৃষক শওকত হোসেন বলেন, ‘দীর্ঘ ৪-৫ বছর পর নদটিতে স্বাভাবিক জোয়ার-ভাটা দেখে খুবই ভালো লাগছে। নদে পানি চলাচল স্বাভাবিক থাকলে আমাদের এলাকার জলাবদ্ধতার সমস্যাও অনেকটা কমে যাবে।’
২৭ বিল বাঁচাও আন্দোলন কমিটির আহ্বায়ক বাবুর আলী গোলদার বলেন, এলাকার নদ-নদী পুনঃখনন হওয়ায় জলাবদ্ধতা নিরসনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। কৃষকদের মধ্যেও ফসল উৎপাদনে উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যাচ্ছে। তবে আগামী মাঘী পূর্ণিমার আগে ভবদহ অঞ্চলের যেকোনো একটি বিলে টিআরএম (জোয়ারাধার) চালু করা গেলে জলাবদ্ধতা নিরসনে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখবে। এতে কৃষকেরা দীর্ঘমেয়াদে সুফল পাবেন।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী ফিরোজ হোসেন বলেন, হরিহর নদ পুনঃখনন হওয়ায় বর্তমানে স্বাভাবিক জোয়ার-ভাটা চলছে। নদের সঙ্গে সংযুক্ত কয়েকটি খালও খনন করা হয়েছে। ফলে এলাকার পানি দ্রুত নদে এসে পড়ছে এবং নদে স্রোতের গতিও বেড়েছে।
তিনি বলেন, নদে পানি চলাচল স্বাভাবিক থাকায় এবার এলাকার কৃষকেরা সহজেই ফসল উৎপাদন করতে পারবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

























