কেশবপুরে ড্রেনে আফ্রিকান মাগুর চাষ
ভিডিও ভাইরালের পর ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান
- আপডেট সময় : ১০:১০:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬
- / ১৪ বার পঠিত

যশোরের কেশবপুরে ড্রেনের দূষিত পানিতে আফ্রিকান মাগুর মাছ চাষের অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়ে এক ব্যক্তিকে এক হাজার টাকা জরিমানা করেছেন। একই সঙ্গে জব্দ করা মাছ ধ্বংস করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দুপুরে উপজেলা প্রশাসন ও সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে কেশবপুর শহরের মাছ বাজার এলাকায় এ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কাজী মেশকাতুল ইসলাম।
উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, মাছ বাজার এলাকার চায়ের দোকানদার লিয়াকত আলী (৬৫) দীর্ঘদিন ধরে তাঁর দোকানের পাশের একটি ড্রেনের দূষিত পানিতে আফ্রিকান মাগুর মাছ চাষ করে আসছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি ওই মাছের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসে। পরে অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনাস্থলে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী, পুলিশ, আনসার ও ভিডিপি সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
অভিযানকালে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় মৎস্য সংরক্ষণ ও সুরক্ষা আইন, ১৯৫০-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় লিয়াকত আলীকে এক হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়। পরে উদ্ধার করা মাছ উপজেলা পরিষদ চত্বরে গর্ত করে মাটিচাপা দিয়ে বিনষ্ট করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে ভবিষ্যতে এ ধরনের জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার নির্দেশনা দেন।
এ বিষয়ে সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সুদীপ বিশ্বাস বলেন, “নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় এ ধরনের অভিযান নিয়মিত পরিচালনা করা হবে। দূষিত পরিবেশে মাছ চাষ বা খাদ্য হিসেবে বাজারজাত করার কোনো সুযোগ নেই। অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়। এরপর প্রশাসন তদন্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, দূষিত বা অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে উৎপাদিত খাদ্য মানবদেহের জন্য মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই খাদ্য উৎপাদন ও বাজারজাতকরণের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধি এবং প্রচলিত আইন কঠোরভাবে অনুসরণ করা জরুরি।
























