মাদারীপুরের নিখোঁজ কন্যাকে ফিরে পেতে আদালতে পিতার মামলা
- আপডেট সময় : ০৮:০১:১১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ২৮ বার পঠিত

মাদারীপুরের রাজৈর থেকে নিখোঁজ সপ্তম শ্রেণির ১৪ বছর বয়সী স্কুলছাত্রী সমাপ্তী বাড়ৈকে ফিরে পেতে নড়াইলের মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা করেছেন তার বাবা কালু বাড়ৈ। মামলায় নড়াইলের আটজনকে মানব পাচারকারী চক্রের সদস্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি ঘটনার অনুসন্ধানে যুক্ত চার সাংবাদিক ও স্থানীয় দেবভোগ ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতিকে সাক্ষী করা হয়েছে।
মামলার বাদী কালু বাড়ৈ মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার চৌরাশী গ্রামের বাসিন্দা। গত ১৫ সেপ্টেম্বর আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে নড়াইল সদর থানাকে এফআইআর করার নির্দেশ দেন। পরদিন ১৬ সেপ্টেম্বর বাদী থানায় উপস্থিত হয়ে মামলার নথিতে স্বাক্ষর করেন।
মামলার বিবরণ ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত অনুসন্ধানী প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, সমাপ্তি বাড়ৈ প্রায় তিন মাস ধরে নিখোঁজ রয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, তাকে নড়াইলে এনে লুকিয়ে রাখা হয়েছে এবং নাম-পরিচয় পরিবর্তন করে জাল নথিপত্রের মাধ্যমে ভারতে পাচারের চেষ্টা করা হয়েছে।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ভারত থেকে আসা বাপ্পি রায় ওরফে আবির নামের এক যুবক অনলাইনে সমাপ্তির সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে তাকে নড়াইলে এনে শেখহাটি ইউনিয়নের দেবভোগ গ্রামের সুব্রত রায়ের বাড়িতে আশ্রয় দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, সমাপ্তির নাম অপরিবর্তিত রেখে তার বাবা-মায়ের নামের স্থলে দেবভোগ গ্রামের প্রসেন রায় ও বিথীকা রাণী রায়ের জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে জন্মনিবন্ধন তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ ঘটনায় মিঠু রাণী ভদ্র নামের এক শিক্ষিকার সহযোগিতার অভিযোগও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া নড়াইল শহরের ইউনাইটেড কম্পিউটারের স্বত্বাধিকারী কৌশিক দাস রায়ের বিরুদ্ধে অনলাইনে জাল নথিপত্র তৈরির মূলহোতা ও পাসপোর্ট অফিসের দালাল হিসেবে সম্পৃক্ততার অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলার অভিযোগে সমাপ্তি বাড়ৈকে ‘রুপসী রায়’ পরিচয়ে একাধিক নথিপত্র তৈরির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, বাঐসোনা ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোক্তা নাঈম হোসেন ও ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মান্নানের যোগসাজশে ডিজিটাল জন্মনিবন্ধন তৈরির ঘটনা ঘটেছে। যদিও জন্মনিবন্ধন গ্রহণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের নিয়ম থাকার কথা, সেখানে অন্য ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ওই জন্মনিবন্ধন তৈরি করা হয়েছে বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, এ ধরনের মানব পাচার চক্রের তৎপরতার ঘটনা নড়াইলে নতুন নয়। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
জানা গেছে, মেয়ের কোনো সন্ধান না পেয়ে সমাপ্তির বাবা কালু বাড়ৈ রাজৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। সেখানে তার মেয়েকে অপহরণ করে মানব পাচারকারী চক্রের হাতে জিম্মি করে রাখার অভিযোগ করা হয়। পরবর্তীতে কোনো হদিস না পেয়ে সাংবাদিকদের সহযোগিতায় নড়াইলের মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন তিনি।
এ বিষয়ে মামলার সাক্ষী ও ঘটনার অনুসন্ধানে যুক্ত নড়াইল জেলার দৈনিক দিনকালের প্রতিনিধি এবং রুর্যাল জার্নালিস্ট ফাউন্ডেশন (আরজেএফ)-এর সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব সাজ্জাদ আলম খান সজল বলেন, আমাদের একটি টিম দীর্ঘদিন ধরে এই মানব পাচারকারী চক্রের তথ্য অনুসন্ধান করছে। নিখোঁজ সমাপ্তি বাড়ৈ সম্পর্কে অনেক তথ্য-প্রমাণ আমরা পেয়েছি। এই চক্রের সঙ্গে রাষ্ট্রীয়ভাবে নিযুক্ত একাধিক ব্যক্তি জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে বলে আমাদের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। আমরা বিজ্ঞ আদালতের কাছে সুষ্ঠু বিচার প্রত্যাশা করছি।
মামলার আরেক সাক্ষী দৈনিক ঘোষণার বিশেষ প্রতিনিধি সাংবাদিক সুমন চক্রবর্তী বলেন, দীর্ঘ অনুসন্ধানে মানব পাচারকারী চক্রের একাধিক তথ্য ও অভিযোগের সত্যতা পেয়েছি। অন্য জেলার ১৪ বছরের একটি মেয়ের নাম-ঠিকানা পরিবর্তন করে একাধিক নথিপত্র তৈরির অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে এই চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং নিখোঁজ সমাপ্তি বাড়ৈকে তার পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়াই আমাদের প্রত্যাশা।
এদিকে, নিখোঁজ মেয়েকে ফিরে পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন তার বাবা-মা কালু বাড়ৈ ও ববিতা বাড়ৈ। মামলার পর পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসন তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করবে বলে আশা করছেন পরিবারের সদস্যরা।























