ঢাকা ০৬:৫৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৭ অগাস্ট ২০২৬, ২৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাঙামাটিতে পাহাড় ধস ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে খাদ্য সহায়তা

রাঙামাটি সংবাদদাতা
  • আপডেট সময় : ০৩:৫৬:১০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৭ অগাস্ট ২০২৬
  • / ১৭ বার পঠিত

টানা বৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল ও পাহাড় ধসে ক্ষতিগ্রস্ত রাঙামাটি পৌর এলাকার ১ হাজার ৩০০ পরিবারের মধ্যে খাদ্য সহায়তা বিতরণ করেছে রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ। শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকালে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বিশেষ বরাদ্দের আওতায় পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের তবলছড়ি এডিসি হিলস্থ ওমদামিয়া হিল পৌর জুনিয়র হাই স্কুল প্রাঙ্গণে এ খাদ্য সহায়তা বিতরণ করা হয়।

রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের পৌর এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্য হাবীব আজমের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এ কার্যক্রম পরিচালিত হয়। সংশ্লিষ্টরা জানান, সাম্প্রতিক দুর্যোগে বহু পরিবার বসতঘর হারিয়েছে এবং অনেকের ঘরবাড়ি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি নিম্নআয়ের অসংখ্য মানুষ কর্মহীন হয়ে খাদ্য সংকটে পড়েছেন। তাদের তাৎক্ষণিক সহায়তা দিতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাঙামাটি পৌর বিএনপির সভাপতি শফিউল আজম শফি, সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল বাসেত অপু, জেলা বিএনপির সহ-যুববিষয়ক সম্পাদক মো. নুরনবীসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

এ সময় বক্তারা বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে অনেক পরিবার ঘরবাড়ি, আসবাবপত্র ও জীবিকার উৎস হারিয়ে চরম দুর্ভোগে রয়েছে। এই সংকটময় সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো সামাজিক ও মানবিক দায়িত্ব। সেই দায়িত্ববোধ থেকেই পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বিশেষ বরাদ্দে জেলা পরিষদ খাদ্য সহায়তা কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে।

বক্তারা আরও জানান, শুধু ৪ নম্বর ওয়ার্ড নয়, পর্যায়ক্রমে রাঙামাটি পৌরসভার সব ৯টি ওয়ার্ডের দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের কাছেও খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হবে, যাতে কোনো অসহায় পরিবার সহায়তা থেকে বঞ্চিত না হয়।

খাদ্য সহায়তা বিতরণকে সুশৃঙ্খল রাখতে রাঙামাটি কোতোয়ালি থানা পুলিশ সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। উপকারভোগীরা শান্তিপূর্ণভাবে লাইনে দাঁড়িয়ে ত্রাণ গ্রহণ করেন এবং নিরাপত্তা রক্ষায় পুলিশের ভূমিকার প্রশংসা করেন।

সহায়তা পাওয়া পরিবারগুলোর সদস্যরা জানান, পাহাড় ধস ও বন্যার কারণে তাদের ঘরে খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে। এমন কঠিন সময়ে এই সহায়তা তাদের জন্য অনেক স্বস্তির। তারা পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের পাশাপাশি দুর্যোগ-পরবর্তী পুনর্বাসন কার্যক্রম আরও জোরদারের দাবি জানান।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, এ ধরনের মানবিক উদ্যোগ ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের তাৎক্ষণিক খাদ্য সংকট লাঘবের পাশাপাশি তাদের মধ্যে নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর আশাবাদ সৃষ্টি করে। সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে সক্ষম হবে।

ট্যাগস :

রাঙামাটিতে পাহাড় ধস ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে খাদ্য সহায়তা

আপডেট সময় : ০৩:৫৬:১০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৭ অগাস্ট ২০২৬

টানা বৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল ও পাহাড় ধসে ক্ষতিগ্রস্ত রাঙামাটি পৌর এলাকার ১ হাজার ৩০০ পরিবারের মধ্যে খাদ্য সহায়তা বিতরণ করেছে রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ। শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকালে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বিশেষ বরাদ্দের আওতায় পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের তবলছড়ি এডিসি হিলস্থ ওমদামিয়া হিল পৌর জুনিয়র হাই স্কুল প্রাঙ্গণে এ খাদ্য সহায়তা বিতরণ করা হয়।

রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের পৌর এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্য হাবীব আজমের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এ কার্যক্রম পরিচালিত হয়। সংশ্লিষ্টরা জানান, সাম্প্রতিক দুর্যোগে বহু পরিবার বসতঘর হারিয়েছে এবং অনেকের ঘরবাড়ি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি নিম্নআয়ের অসংখ্য মানুষ কর্মহীন হয়ে খাদ্য সংকটে পড়েছেন। তাদের তাৎক্ষণিক সহায়তা দিতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাঙামাটি পৌর বিএনপির সভাপতি শফিউল আজম শফি, সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল বাসেত অপু, জেলা বিএনপির সহ-যুববিষয়ক সম্পাদক মো. নুরনবীসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

এ সময় বক্তারা বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে অনেক পরিবার ঘরবাড়ি, আসবাবপত্র ও জীবিকার উৎস হারিয়ে চরম দুর্ভোগে রয়েছে। এই সংকটময় সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো সামাজিক ও মানবিক দায়িত্ব। সেই দায়িত্ববোধ থেকেই পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বিশেষ বরাদ্দে জেলা পরিষদ খাদ্য সহায়তা কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে।

বক্তারা আরও জানান, শুধু ৪ নম্বর ওয়ার্ড নয়, পর্যায়ক্রমে রাঙামাটি পৌরসভার সব ৯টি ওয়ার্ডের দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের কাছেও খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হবে, যাতে কোনো অসহায় পরিবার সহায়তা থেকে বঞ্চিত না হয়।

খাদ্য সহায়তা বিতরণকে সুশৃঙ্খল রাখতে রাঙামাটি কোতোয়ালি থানা পুলিশ সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। উপকারভোগীরা শান্তিপূর্ণভাবে লাইনে দাঁড়িয়ে ত্রাণ গ্রহণ করেন এবং নিরাপত্তা রক্ষায় পুলিশের ভূমিকার প্রশংসা করেন।

সহায়তা পাওয়া পরিবারগুলোর সদস্যরা জানান, পাহাড় ধস ও বন্যার কারণে তাদের ঘরে খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে। এমন কঠিন সময়ে এই সহায়তা তাদের জন্য অনেক স্বস্তির। তারা পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের পাশাপাশি দুর্যোগ-পরবর্তী পুনর্বাসন কার্যক্রম আরও জোরদারের দাবি জানান।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, এ ধরনের মানবিক উদ্যোগ ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের তাৎক্ষণিক খাদ্য সংকট লাঘবের পাশাপাশি তাদের মধ্যে নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর আশাবাদ সৃষ্টি করে। সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে সক্ষম হবে।