ঢাকা ১২:১৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ফিরতে চান বহিষ্কৃতরাও

সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে বিএনপি ৩ ভাগে বিভক্ত

জি এম সাগর হোসেন
  • আপডেট সময় : ১১:২৭:১৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ৯ বার পঠিত

সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির মতনই কালিগঞ্জ উপজেলা বিএনপি কার্যত বর্তমানে ৩ ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। এ সুযোগে মরিয়া হয়ে অস্তিত্ব টেকাতে বিএনপিতে ফিরতে চান বহিষ্কৃত নেতাকর্মীরা।

সাতক্ষীরা জেলা জাতীয়তাবাদী দলে (বিএনপি) দীর্ঘদিন কোন পূর্ণাঙ্গ কমিটি না থাকায় বিভক্তির রাজনীতিতে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে আহ্বায়ক কমিটি দিয়ে। একই ভাবে কালিগঞ্জ উপজেলাতেও বিএনপি ও অধিকাংশ সহযোগী সংগঠনের কোন কমিটি ও কার্যক্রম নাই বললে চলে। এ কারণে সাবেক সিনিয়র নেতাদের নেতৃত্ব মানতে নারাজ দলের অধিকাংশ নেতাকর্মীরা।

কারণ হিসাবে তারা জানান, বিগত পতীত সরকারের সময়ে এই সমস্ত বিএনপির নেতারা আওয়ামী লীগের হয়ে কাজ করে ফয়দা লুটে এখন তারাই সম্মুখ সারির নেতা সেজে বিএনপিকে ধ্বংসের পায়তারায় লিপ্ত হয়েছে।

নাম না প্রকাশ করার শর্তে কয়েকজন বিএনপি নেতা জানান, পতিত আওয়ামী দোসরদের সঙ্গে অনেক কার্যকলাপের প্রমাণের ছবি তাদের কাছে আছে সময় হলে প্রকাশ করা হবে।

২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পরাজিত হয়ে এক বিএনপির কার্য নির্বাহী কমিটির সদস্য সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ্ব কাজী আলাউদ্দিন এবং সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির সদস্য ও জিয়া ফাউন্ডেশনের খুলনা বিভাগীয় কমিটির সমন্বয়ক ইঞ্জিনিয়ার আইয়ুব হোসেন মুকুল একসঙ্গে এক শিবিরে দীর্ঘদিন কাজ করলেও বর্তমানে সম্পর্কে ফাটল ধরায় দলীয় মত পার্থক্যে দুই শিবিরে বিভক্ত হয়ে পড়েছে।

এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সদস্য ও বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত ড্যাব নেতা ডাঃ শহিদুল আলম পন্থীরা বিএনপিতে ফিরতে মরিয়া। এক সময়ের বিএনপির অধিকাংশ ত্যাগী বহিষ্কৃত নেতাকর্মীরা স্বতন্ত্র প্রার্থী ডাঃ শহিদুল আলমের হয়ে কাজ করায় বহিষ্কার হতে হয়েছে।

কারণ অনুসন্ধানে জানা যায় সাতক্ষীরার আলোচিত বিএনপি’র জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব হিসেবে বিগত সংসদ নির্বাচনে ডাঃ শহিদুল আলমকে বিএনপি’র দলীয় প্রার্থী না করায় কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের অধিকাংশ সিনিয়র নেতাকর্মী ও জনগণ তাকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ফুটবল প্রতীক নিয়ে নির্বাচনী মাঠে নামায়।

দলীয় প্রার্থীর দাবিতে এবং কাজী আলাউদ্দিনের প্রার্থিতা বাতিলের দাবিতে লাগাতার ১৯ দিন সড়ক অবরোধসহ দুই উপজেলায় বিক্ষোভ মিছিল, সমাবেশ করে কোন ফল হয়নি। পরে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ফুটবল প্রতীক নিয়ে বিএনপি’র দলীয় প্রার্থী কাজী আলাউদ্দিনের বিপক্ষে ভোট যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়ে দু,জনই জামায়াতের প্রার্থী হাফেজ মুহাদ্দিস রবিউল বাশারের নিকট বিপুল ভোটে পরাজিত হন।

এ কারণে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অপরাধে ডাঃ শহিদুল আলম সহ কালিগঞ্জ উপজেলা বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের প্রায় সাড়ে ৪শ নেতাকর্মীকে ঐ সময়ে দল থেকে বহিষ্কার হতে হয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের তফসিল যে কোনো সময় ঘোষনা করতে পারে নির্বাচন কমিশন। সেটাকে কেন্দ্র করে দলীয় নেতাকর্মীকে উপেক্ষা করে কাজী আলাউদ্দিন বিভিন্ন ইউনিয়নে সভা সমাবেশ করে নিজের পছন্দের দলীয় প্রার্থী ঘোষনা করছেন এমন অভিযোগকে কেন্দ্র করে দলের একটি অংশের নেতাকর্মীরা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন।

কেন্দ্রীয় কোন নির্দেশনা ছাড়া দলীয় নমিনেশন দেওয়াকে কেন্দ্র করে বর্তমান বিএনপি এখন কার্যত দুই শিবিরে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। বিএনপি’র কেন্দ্রীয় ও দলীয় সিদ্ধান্ত নির্দেশনা ছাড়া এমন সিদ্ধান্তের প্রতি ক্ষোভ জানিয়ে জেলা বিএনপি’র সদস্য ইঞ্জিনিয়ার আইয়ুব হোসেন মুকুলের দারস্ত হয়ে ক্ষোভ জানাইছেন অনেক নেতাকর্মীরা। এই বিভেদ চলাকালীন এক সময়কার কাজী আলাউদ্দিনের বিগত সংসদ নির্বাচনের প্রচার প্রচারণা থেকে শুরু করে বিভিন্ন দলীয় নির্বাচনী প্রচার প্রচারণায় প্রধান ভ্যান গার্ড হিসেবে পরিচিত উপজেলা কৃষক দলের আহ্বায়ক রোকনুজ্জামান রোকন।

সাম্প্রতিক বোমা হামলা অগ্নিসংযোগের ঘটনাকে কেন্দ্র করে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির আওতায় নিষিদ্ধ আওয়ামী অগ্নি সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কালীগঞ্জ উপজেলা কৃষক দলের আহবায়ক রোকনুজ্জামান প্রতিবাদ সমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করে। উক্ত কর্মসূচি প্রতিহত করতে কাজী আলাউদ্দিন সমর্থিত বিএনপির জেলা কমিটির সদস্য শেখ এবাদুল ইসলাম সমর্থিত অনুসারীরা প্রতিহত করতে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি ঘোষণা করে।

পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচি পালনে গত ২৩ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার বিকালে কৃষক দলের আহ্বায়ক রোকনুজ্জামান রোকনের নেতৃত্বে কৃষক দল ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী সমর্থক নিয়ে মাঠে নামলে তা প্রতিহত করতে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিতে রাস্তায় নামলে এবাদুল ইসলামের গ্রুপের সঙ্গে আইয়ুব হোসেন মুকুল ও রোকন গ্রুপের সমর্থকরা সংঘর্ষ মারামারিতে জড়িয়ে পড়ে। সেখানে পুলিশ নিয়ন্ত্রণ নিতে ব্যর্থ হলে দুই পক্ষের লাঠি সোটা নিয়ে মারামারিতে ২০-২৫ জন নেতাকর্মী আহত হয়ে হাসপাতালে যায়।

বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সহ বিভিন্ন পত্রিকা ও অনলাইন পোর্টালে ফলাও ভাবে প্রকাশ হলে টনক নড়ে জেলা বিএনপির। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত ২৪ সেপ্টেম্বর রাতে সাতক্ষীরা জেলা বিএনপি’র সদস্য সচিব আবু জাহিদ ডাবলু স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে জানানো হয় জেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক এইচ এম রহমাতুল্লাহ পলাশের নির্দেশক্রমে জেলা বিএনপির সদস্য শেখ এবাদুল ইসলাম, ইঞ্জিনিয়ার আইয়ুব হোসেন মুকুল ও শেখ নুরুজ্জামান কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রম বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির নির্বাহী সদস্য সাবেক সংসদ সদস্য কাজী আলাউদ্দিনের সঙ্গে পরামর্শক্রমে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। এখন এই নির্দেশনা কতটুকু বাস্তবায়ন হবে সেটা দেখার অপেক্ষায় সংশ্লিষ্ট বিএনপির নেতাকর্মীরা।

এর আগে জেলা বিএনপি’র নেতৃবৃন্দ যখন কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সম্মেলনকে কেন্দ্র করে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে উপজেলা জুড়ে বিভিন্ন ইউনিয়নে গিয়ে সার্চ কমিটির মাধ্যমে কমিটি গঠন করে। ঐ সময় দেখা গেছে বিগত ১৬ বছর আওয়ামী লীগের সুবিধাভোগী, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কমিটিতে সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকের মত পদবী ব্যবহার করে আওয়ামী দলীয় কার্যক্রম পরিচালনা ও সুবিধা ভোগ করে এসেছে।

তারাই আবার সুযোগ বুঝে বর্তমান বিএনপি’র ইউনিয়ন কমিটির সভাপতির পদ বাগিয়ে বর্তমান ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী হওয়ার দৌড় ঝাপে এগিয়ে আছে। এমনিতে কালিগঞ্জ উপজেলা বিএনপি বর্তমানে ২ শিবিরে বিভক্ত তার ওপর ক্ষমতাসীন বিএনপির রাজনীতিতে এখন সবচেয়ে আলোচিত বিষয় গুলোর মধ্যে বিভিন্ন সময়ে শৃঙ্খলা ভঙ্গ, দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্যের দায়ে দল থেকে বহিষ্কৃতরা পুনরায় দলে ফিরতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের আশায় বিএনপির চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় প্রহর গুনছে।

আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং সম্ভাব্য একাধিক প্রার্থী হওয়া নিয়ে দলটির জন্য একটি বড় সাংগঠনিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রার্থী নির্বাচন নিয়ে উপজেলার ১২ টি ইউনিয়নে স্থানীয় কোন্দল, গ্রুপিং, স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। মাঠ পর্যায়ের নির্বাচনে সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে দলীয় ভাবে এক জনকে সমর্থন দেওয়াকে কেন্দ্র করে। বাকিরা নিজেদের ইমেজ সংকটে এবং কর্তৃত্ব ও নিজের অবস্থান ধরে রাখার জন্য প্রার্থী হয়ে মরিয়া হয়ে মাঠে নামবে তাতে করে দলীয় প্রার্থীকে জয়লাভ করানো সহজ হবে না।

বিএনপি’র এই সংকটকে কাজে লাগিয়ে বিরোধীদলীয় রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ১২ টি ইউনিয়নে অনেক আগে থেকেই তাদের সম্ভাব্য একক প্রার্থী ঘোষণা দিয়ে মাঠে প্রচার প্রচারণার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। অন্যদিকে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক তৎপরতা না থাকলেও বিএনপি’র আন্ত: কোন্দলে তারা সুবিধাজনক অবস্থানে আছে বলে সচেতন মহলের ধারণা। মামলা, হামলা দিয়ে নির্বাচন থেকে দূরে রাখার চেষ্টা করলেও

নাম না প্রকাশ করার শর্তে উপজেলার ১২ টি ইউনিয়নের অনেক প্রার্থী নির্বাচনী প্রস্তুতি নিয়ে অন্তরালে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। সে ক্ষেত্রে বিএনপি’র একক প্রার্থী নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়া বেশ কষ্টসাধ্য হয়ে পড়বে। বিশেষ করে দলীয় প্রতীকে নির্বাচন না হওয়ার কারণে অধিকাংশ ইউনিয়নে মনোনয়ন বঞ্চিত নেতারা স্বতন্ত্র বা বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে মাঠ কাপাবে এতে কোন সন্দেহ নেই। বিএনপি’র একাধিক দলীয় প্রার্থী ভোটের মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলে বিএনপি’র নিজস্ব ভোট ব্যাংক ভেঙে ভাগ হয়ে যেতে পারে।

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বহিষ্কার, কোন্দল, গ্রুপিংয়ের কারণে কর্মী সমর্থকদের মধ্যে বিভেদ তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। এতে করে নির্বাচনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। যে কারণে বিএনপির হাই কমান্ডকে ভেবে চিন্তে অগ্রসর বা সিদ্ধান্তে আসতে হবে। যে কারণে ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচনে বিএনপি’র বড় চ্যালেঞ্জ একক প্রার্থী বাছাই ও ঘোষণা নিয়ে।

এর মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দলীয় প্রতীক না রেখে ২০ টি প্রতীকে নির্বাচন করা হয়েছে। নির্বাচনে চেয়ারম্যান, সংরক্ষিত সদস্য, সাধারণ সদস্য পদে পৃথক প্রতীক নির্বাচন করা হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন বিধিমালা (সংশোধন) প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী চেয়ারম্যান, সংরক্ষিত সদস্যদের জন্য ১০ টি এবং সাধারণ সদস্যদের জন্য ১২ টি প্রতীক গত ২৩ সেপ্টেম্বর প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়েছে।

যেহেতু এখানে দলীয়ভাবে প্রার্থী ঘোষনা করলেও দলীয় প্রতীক না থাকায় সাধারণ ভোটারদের মাঝে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে কাজ করা সহ ভোট প্রদানে নানান সমীকরণ সৃষ্টি হতে পারে। যে কারণে বিএনপি’র দলীয় প্রার্থীর গ্রহণযোগ্যতা ও দলীয় সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় ভোটার এবং সাধারণ নেতাকর্মীরা।

ট্যাগস :

ফিরতে চান বহিষ্কৃতরাও

সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে বিএনপি ৩ ভাগে বিভক্ত

আপডেট সময় : ১১:২৭:১৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির মতনই কালিগঞ্জ উপজেলা বিএনপি কার্যত বর্তমানে ৩ ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। এ সুযোগে মরিয়া হয়ে অস্তিত্ব টেকাতে বিএনপিতে ফিরতে চান বহিষ্কৃত নেতাকর্মীরা।

সাতক্ষীরা জেলা জাতীয়তাবাদী দলে (বিএনপি) দীর্ঘদিন কোন পূর্ণাঙ্গ কমিটি না থাকায় বিভক্তির রাজনীতিতে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে আহ্বায়ক কমিটি দিয়ে। একই ভাবে কালিগঞ্জ উপজেলাতেও বিএনপি ও অধিকাংশ সহযোগী সংগঠনের কোন কমিটি ও কার্যক্রম নাই বললে চলে। এ কারণে সাবেক সিনিয়র নেতাদের নেতৃত্ব মানতে নারাজ দলের অধিকাংশ নেতাকর্মীরা।

কারণ হিসাবে তারা জানান, বিগত পতীত সরকারের সময়ে এই সমস্ত বিএনপির নেতারা আওয়ামী লীগের হয়ে কাজ করে ফয়দা লুটে এখন তারাই সম্মুখ সারির নেতা সেজে বিএনপিকে ধ্বংসের পায়তারায় লিপ্ত হয়েছে।

নাম না প্রকাশ করার শর্তে কয়েকজন বিএনপি নেতা জানান, পতিত আওয়ামী দোসরদের সঙ্গে অনেক কার্যকলাপের প্রমাণের ছবি তাদের কাছে আছে সময় হলে প্রকাশ করা হবে।

২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পরাজিত হয়ে এক বিএনপির কার্য নির্বাহী কমিটির সদস্য সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ্ব কাজী আলাউদ্দিন এবং সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির সদস্য ও জিয়া ফাউন্ডেশনের খুলনা বিভাগীয় কমিটির সমন্বয়ক ইঞ্জিনিয়ার আইয়ুব হোসেন মুকুল একসঙ্গে এক শিবিরে দীর্ঘদিন কাজ করলেও বর্তমানে সম্পর্কে ফাটল ধরায় দলীয় মত পার্থক্যে দুই শিবিরে বিভক্ত হয়ে পড়েছে।

এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সদস্য ও বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত ড্যাব নেতা ডাঃ শহিদুল আলম পন্থীরা বিএনপিতে ফিরতে মরিয়া। এক সময়ের বিএনপির অধিকাংশ ত্যাগী বহিষ্কৃত নেতাকর্মীরা স্বতন্ত্র প্রার্থী ডাঃ শহিদুল আলমের হয়ে কাজ করায় বহিষ্কার হতে হয়েছে।

কারণ অনুসন্ধানে জানা যায় সাতক্ষীরার আলোচিত বিএনপি’র জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব হিসেবে বিগত সংসদ নির্বাচনে ডাঃ শহিদুল আলমকে বিএনপি’র দলীয় প্রার্থী না করায় কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের অধিকাংশ সিনিয়র নেতাকর্মী ও জনগণ তাকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ফুটবল প্রতীক নিয়ে নির্বাচনী মাঠে নামায়।

দলীয় প্রার্থীর দাবিতে এবং কাজী আলাউদ্দিনের প্রার্থিতা বাতিলের দাবিতে লাগাতার ১৯ দিন সড়ক অবরোধসহ দুই উপজেলায় বিক্ষোভ মিছিল, সমাবেশ করে কোন ফল হয়নি। পরে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ফুটবল প্রতীক নিয়ে বিএনপি’র দলীয় প্রার্থী কাজী আলাউদ্দিনের বিপক্ষে ভোট যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়ে দু,জনই জামায়াতের প্রার্থী হাফেজ মুহাদ্দিস রবিউল বাশারের নিকট বিপুল ভোটে পরাজিত হন।

এ কারণে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অপরাধে ডাঃ শহিদুল আলম সহ কালিগঞ্জ উপজেলা বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের প্রায় সাড়ে ৪শ নেতাকর্মীকে ঐ সময়ে দল থেকে বহিষ্কার হতে হয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের তফসিল যে কোনো সময় ঘোষনা করতে পারে নির্বাচন কমিশন। সেটাকে কেন্দ্র করে দলীয় নেতাকর্মীকে উপেক্ষা করে কাজী আলাউদ্দিন বিভিন্ন ইউনিয়নে সভা সমাবেশ করে নিজের পছন্দের দলীয় প্রার্থী ঘোষনা করছেন এমন অভিযোগকে কেন্দ্র করে দলের একটি অংশের নেতাকর্মীরা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন।

কেন্দ্রীয় কোন নির্দেশনা ছাড়া দলীয় নমিনেশন দেওয়াকে কেন্দ্র করে বর্তমান বিএনপি এখন কার্যত দুই শিবিরে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। বিএনপি’র কেন্দ্রীয় ও দলীয় সিদ্ধান্ত নির্দেশনা ছাড়া এমন সিদ্ধান্তের প্রতি ক্ষোভ জানিয়ে জেলা বিএনপি’র সদস্য ইঞ্জিনিয়ার আইয়ুব হোসেন মুকুলের দারস্ত হয়ে ক্ষোভ জানাইছেন অনেক নেতাকর্মীরা। এই বিভেদ চলাকালীন এক সময়কার কাজী আলাউদ্দিনের বিগত সংসদ নির্বাচনের প্রচার প্রচারণা থেকে শুরু করে বিভিন্ন দলীয় নির্বাচনী প্রচার প্রচারণায় প্রধান ভ্যান গার্ড হিসেবে পরিচিত উপজেলা কৃষক দলের আহ্বায়ক রোকনুজ্জামান রোকন।

সাম্প্রতিক বোমা হামলা অগ্নিসংযোগের ঘটনাকে কেন্দ্র করে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির আওতায় নিষিদ্ধ আওয়ামী অগ্নি সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কালীগঞ্জ উপজেলা কৃষক দলের আহবায়ক রোকনুজ্জামান প্রতিবাদ সমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করে। উক্ত কর্মসূচি প্রতিহত করতে কাজী আলাউদ্দিন সমর্থিত বিএনপির জেলা কমিটির সদস্য শেখ এবাদুল ইসলাম সমর্থিত অনুসারীরা প্রতিহত করতে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি ঘোষণা করে।

পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচি পালনে গত ২৩ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার বিকালে কৃষক দলের আহ্বায়ক রোকনুজ্জামান রোকনের নেতৃত্বে কৃষক দল ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী সমর্থক নিয়ে মাঠে নামলে তা প্রতিহত করতে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিতে রাস্তায় নামলে এবাদুল ইসলামের গ্রুপের সঙ্গে আইয়ুব হোসেন মুকুল ও রোকন গ্রুপের সমর্থকরা সংঘর্ষ মারামারিতে জড়িয়ে পড়ে। সেখানে পুলিশ নিয়ন্ত্রণ নিতে ব্যর্থ হলে দুই পক্ষের লাঠি সোটা নিয়ে মারামারিতে ২০-২৫ জন নেতাকর্মী আহত হয়ে হাসপাতালে যায়।

বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সহ বিভিন্ন পত্রিকা ও অনলাইন পোর্টালে ফলাও ভাবে প্রকাশ হলে টনক নড়ে জেলা বিএনপির। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত ২৪ সেপ্টেম্বর রাতে সাতক্ষীরা জেলা বিএনপি’র সদস্য সচিব আবু জাহিদ ডাবলু স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে জানানো হয় জেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক এইচ এম রহমাতুল্লাহ পলাশের নির্দেশক্রমে জেলা বিএনপির সদস্য শেখ এবাদুল ইসলাম, ইঞ্জিনিয়ার আইয়ুব হোসেন মুকুল ও শেখ নুরুজ্জামান কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রম বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির নির্বাহী সদস্য সাবেক সংসদ সদস্য কাজী আলাউদ্দিনের সঙ্গে পরামর্শক্রমে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। এখন এই নির্দেশনা কতটুকু বাস্তবায়ন হবে সেটা দেখার অপেক্ষায় সংশ্লিষ্ট বিএনপির নেতাকর্মীরা।

এর আগে জেলা বিএনপি’র নেতৃবৃন্দ যখন কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সম্মেলনকে কেন্দ্র করে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে উপজেলা জুড়ে বিভিন্ন ইউনিয়নে গিয়ে সার্চ কমিটির মাধ্যমে কমিটি গঠন করে। ঐ সময় দেখা গেছে বিগত ১৬ বছর আওয়ামী লীগের সুবিধাভোগী, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কমিটিতে সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকের মত পদবী ব্যবহার করে আওয়ামী দলীয় কার্যক্রম পরিচালনা ও সুবিধা ভোগ করে এসেছে।

তারাই আবার সুযোগ বুঝে বর্তমান বিএনপি’র ইউনিয়ন কমিটির সভাপতির পদ বাগিয়ে বর্তমান ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী হওয়ার দৌড় ঝাপে এগিয়ে আছে। এমনিতে কালিগঞ্জ উপজেলা বিএনপি বর্তমানে ২ শিবিরে বিভক্ত তার ওপর ক্ষমতাসীন বিএনপির রাজনীতিতে এখন সবচেয়ে আলোচিত বিষয় গুলোর মধ্যে বিভিন্ন সময়ে শৃঙ্খলা ভঙ্গ, দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্যের দায়ে দল থেকে বহিষ্কৃতরা পুনরায় দলে ফিরতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের আশায় বিএনপির চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় প্রহর গুনছে।

আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং সম্ভাব্য একাধিক প্রার্থী হওয়া নিয়ে দলটির জন্য একটি বড় সাংগঠনিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রার্থী নির্বাচন নিয়ে উপজেলার ১২ টি ইউনিয়নে স্থানীয় কোন্দল, গ্রুপিং, স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। মাঠ পর্যায়ের নির্বাচনে সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে দলীয় ভাবে এক জনকে সমর্থন দেওয়াকে কেন্দ্র করে। বাকিরা নিজেদের ইমেজ সংকটে এবং কর্তৃত্ব ও নিজের অবস্থান ধরে রাখার জন্য প্রার্থী হয়ে মরিয়া হয়ে মাঠে নামবে তাতে করে দলীয় প্রার্থীকে জয়লাভ করানো সহজ হবে না।

বিএনপি’র এই সংকটকে কাজে লাগিয়ে বিরোধীদলীয় রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ১২ টি ইউনিয়নে অনেক আগে থেকেই তাদের সম্ভাব্য একক প্রার্থী ঘোষণা দিয়ে মাঠে প্রচার প্রচারণার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। অন্যদিকে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক তৎপরতা না থাকলেও বিএনপি’র আন্ত: কোন্দলে তারা সুবিধাজনক অবস্থানে আছে বলে সচেতন মহলের ধারণা। মামলা, হামলা দিয়ে নির্বাচন থেকে দূরে রাখার চেষ্টা করলেও

নাম না প্রকাশ করার শর্তে উপজেলার ১২ টি ইউনিয়নের অনেক প্রার্থী নির্বাচনী প্রস্তুতি নিয়ে অন্তরালে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। সে ক্ষেত্রে বিএনপি’র একক প্রার্থী নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়া বেশ কষ্টসাধ্য হয়ে পড়বে। বিশেষ করে দলীয় প্রতীকে নির্বাচন না হওয়ার কারণে অধিকাংশ ইউনিয়নে মনোনয়ন বঞ্চিত নেতারা স্বতন্ত্র বা বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে মাঠ কাপাবে এতে কোন সন্দেহ নেই। বিএনপি’র একাধিক দলীয় প্রার্থী ভোটের মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলে বিএনপি’র নিজস্ব ভোট ব্যাংক ভেঙে ভাগ হয়ে যেতে পারে।

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বহিষ্কার, কোন্দল, গ্রুপিংয়ের কারণে কর্মী সমর্থকদের মধ্যে বিভেদ তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। এতে করে নির্বাচনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। যে কারণে বিএনপির হাই কমান্ডকে ভেবে চিন্তে অগ্রসর বা সিদ্ধান্তে আসতে হবে। যে কারণে ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচনে বিএনপি’র বড় চ্যালেঞ্জ একক প্রার্থী বাছাই ও ঘোষণা নিয়ে।

এর মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দলীয় প্রতীক না রেখে ২০ টি প্রতীকে নির্বাচন করা হয়েছে। নির্বাচনে চেয়ারম্যান, সংরক্ষিত সদস্য, সাধারণ সদস্য পদে পৃথক প্রতীক নির্বাচন করা হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন বিধিমালা (সংশোধন) প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী চেয়ারম্যান, সংরক্ষিত সদস্যদের জন্য ১০ টি এবং সাধারণ সদস্যদের জন্য ১২ টি প্রতীক গত ২৩ সেপ্টেম্বর প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়েছে।

যেহেতু এখানে দলীয়ভাবে প্রার্থী ঘোষনা করলেও দলীয় প্রতীক না থাকায় সাধারণ ভোটারদের মাঝে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে কাজ করা সহ ভোট প্রদানে নানান সমীকরণ সৃষ্টি হতে পারে। যে কারণে বিএনপি’র দলীয় প্রার্থীর গ্রহণযোগ্যতা ও দলীয় সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় ভোটার এবং সাধারণ নেতাকর্মীরা।