ঢাকা ০৯:২৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
মাদ্রাসাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা

সাত ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর উদ্ধার এমপি গোলাম রসুল

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৯:৩৬:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬
  • / ১১ বার পঠিত

যশোর শহরের নীলগঞ্জ এলাকায় একটি মাদ্রাসাকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে যশোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির অধ্যাপক গোলাম রসুল এবং তাঁর মেয়ে অনন্যা প্রায় সাত ঘণ্টা নিজ বাসভবনে অবরুদ্ধ ছিলেন। পরে পুলিশ ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যস্থতায় তাঁদের নিরাপদে উদ্ধার করা হয়।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকাল ১১টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত এ পরিস্থিতি বিরাজ করে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালায়। পরে পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে প্রশাসনের কর্মকর্তারা এবং বিএনপি, জামায়াত, ছাত্রদল ও যুবদলের স্থানীয় নেতাদের মধ্যস্থতায় অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে এমপি ও তাঁর মেয়েকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এমপির বাসভবনের সামনে অবস্থিত আল মাদ্রাসাতুশ শারইয়াহ মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের যাতায়াত ও বিভিন্ন কর্মকাণ্ড নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এমপির পরিবারের সঙ্গে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে সোমবার পুলিশের মধ্যস্থতায় উভয় পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হলেও মঙ্গলবার সকালে গোলাম রসুল ও তাঁর মেয়ে মাদ্রাসায় গেলে শিক্ষক ও অভিভাবকদের সঙ্গে নতুন করে বাকবিতণ্ডার সৃষ্টি হয়।

অভিযোগ রয়েছে, একপর্যায়ে এমপির মেয়ে অনন্যার সঙ্গে কয়েকজন অভিভাবকের হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এতে রেক্সনা নামে এক নারী অভিভাবক আহত হন। এছাড়া নাসির উদ্দিন নামে এক শিক্ষকের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কির ঘটনাও ঘটে। এসব ঘটনার খবর দ্রুত এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিভাবকেরা বিক্ষুব্ধ হয়ে এমপির বাসভবন ঘেরাও করে বিক্ষোভ শুরু করেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে গোলাম রসুল ও তাঁর মেয়ে বাসভবনের ভেতরে অবস্থান নেন।

পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর জামায়াতে ইসলামী যশোর জেলা শাখা ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে। জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি গোলাম কুদ্দুস বলেন, প্রশাসনের প্রাথমিক গাফিলতির কারণে পরিস্থিতির অবনতি হলেও পরে পুলিশ কার্যকর ভূমিকা রেখে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এজন্য তারা পুলিশ প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানান।

যশোরের পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম বলেন, ভুল বোঝাবুঝি থেকেই এ উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টির স্থায়ী সমাধানে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ, অভিভাবক ও স্থানীয়দের নিয়ে আলোচনা করা হবে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে বলে তিনি জানান।

ট্যাগস :

মাদ্রাসাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা

সাত ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর উদ্ধার এমপি গোলাম রসুল

আপডেট সময় : ০৯:৩৬:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬

যশোর শহরের নীলগঞ্জ এলাকায় একটি মাদ্রাসাকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে যশোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির অধ্যাপক গোলাম রসুল এবং তাঁর মেয়ে অনন্যা প্রায় সাত ঘণ্টা নিজ বাসভবনে অবরুদ্ধ ছিলেন। পরে পুলিশ ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যস্থতায় তাঁদের নিরাপদে উদ্ধার করা হয়।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকাল ১১টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত এ পরিস্থিতি বিরাজ করে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালায়। পরে পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে প্রশাসনের কর্মকর্তারা এবং বিএনপি, জামায়াত, ছাত্রদল ও যুবদলের স্থানীয় নেতাদের মধ্যস্থতায় অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে এমপি ও তাঁর মেয়েকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এমপির বাসভবনের সামনে অবস্থিত আল মাদ্রাসাতুশ শারইয়াহ মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের যাতায়াত ও বিভিন্ন কর্মকাণ্ড নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এমপির পরিবারের সঙ্গে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে সোমবার পুলিশের মধ্যস্থতায় উভয় পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হলেও মঙ্গলবার সকালে গোলাম রসুল ও তাঁর মেয়ে মাদ্রাসায় গেলে শিক্ষক ও অভিভাবকদের সঙ্গে নতুন করে বাকবিতণ্ডার সৃষ্টি হয়।

অভিযোগ রয়েছে, একপর্যায়ে এমপির মেয়ে অনন্যার সঙ্গে কয়েকজন অভিভাবকের হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এতে রেক্সনা নামে এক নারী অভিভাবক আহত হন। এছাড়া নাসির উদ্দিন নামে এক শিক্ষকের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কির ঘটনাও ঘটে। এসব ঘটনার খবর দ্রুত এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিভাবকেরা বিক্ষুব্ধ হয়ে এমপির বাসভবন ঘেরাও করে বিক্ষোভ শুরু করেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে গোলাম রসুল ও তাঁর মেয়ে বাসভবনের ভেতরে অবস্থান নেন।

পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর জামায়াতে ইসলামী যশোর জেলা শাখা ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে। জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি গোলাম কুদ্দুস বলেন, প্রশাসনের প্রাথমিক গাফিলতির কারণে পরিস্থিতির অবনতি হলেও পরে পুলিশ কার্যকর ভূমিকা রেখে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এজন্য তারা পুলিশ প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানান।

যশোরের পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম বলেন, ভুল বোঝাবুঝি থেকেই এ উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টির স্থায়ী সমাধানে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ, অভিভাবক ও স্থানীয়দের নিয়ে আলোচনা করা হবে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে বলে তিনি জানান।