মেয়েকে মানসিক রোগী দাবি করে ক্ষমা চাইলেন এমপি গোলাম রসুল
- আপডেট সময় : ০৯:৩১:৫৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬
- / ১৫ বার পঠিত

যশোরের নীলগঞ্জে মাদরাসায় যাওয়া-আসার রাস্তা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসীর হামলা ও ভাঙচুরের মুখে পড়েছেন যশোর-৪ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য অধ্যাপক গোলাম রসুল। ঘটনার পর তিনি ফেসবুক লাইভে এসে নিজের মেয়েকে মানসিক রোগী দাবি করে উদ্ভূত পরিস্থিতির জন্য ক্ষমা চান এবং সবার সঙ্গে মিলেমিশে থাকার আহ্বান জানান। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে যশোর শহরের নীলগঞ্জ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
পরে ফেসবুক লাইভে গোলাম রসুল বলেন, তার মেয়ে অনন্যার দীর্ঘদিন ধরে মানসিক সমস্যা রয়েছে। এ কারণে তাকে ভারতের হায়দরাবাদসহ দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা করানো হয়েছে। সাম্প্রতিক ঘটনায় তিনি মর্মাহত উল্লেখ করে বলেন, ‘উদ্ভূত পরিস্থিতির জন্য আমি দুঃখিত। এই ভুলের জন্য আমি ক্ষমাপ্রার্থী। আমরা সবার সঙ্গে মিলেমিশে থাকতে চাই।’
এ বিষয়ে যশোর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুম খান বলেন, পুলিশ সংসদ সদস্য ও তার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কী বলেছেন, সেটি তার ব্যক্তিগত বিষয়। এ বিষয়ে আমাদের কিছু জানা নেই।
পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, গোলাম রসুলের বাসভবনের সামনে অবস্থিত আল মাদ্রাসাতুশ শারইয়াহ ও মসজিদে যাতায়াতের রাস্তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এমপির পরিবারের সঙ্গে মাদরাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্টদের বিরোধ চলছিল।
সোমবার (২৭ জুলাই) এমপির মেয়ে অনন্যা মাদরাসার কয়েকজন শিক্ষার্থীকে ভয়ভীতি দেখান বলে অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় উত্তেজনা সৃষ্টি হলে পুলিশের মধ্যস্থতায় বিষয়টি সাময়িকভাবে মীমাংসা করা হয়। তবে মঙ্গলবার সকালে গোলাম রসুল ও তার মেয়ে পুনরায় মাদরাসায় গেলে শিক্ষক ও অভিভাবকদের সঙ্গে তাদের বাকবিতণ্ডা হয়। অভিযোগ রয়েছে, এ সময় অনন্যা স্থানীয় নারী রেকসোনার মাথায় আঘাত করে তাকে আহত করেন। পরে তিনি নাসির উদ্দিন নামে এক অভিভাবকের ওপরও চড়াও হন।
এ ঘটনার পর এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষুব্ধ লোকজন এমপির বাসভবনে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে গোলাম রসুল ও তার মেয়ে বাসভবনের মূল ফটক বন্ধ করে ভেতরে অবস্থান নেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।




















