যশোরে বিএনপির র্যালিপূর্ব সমাবেশে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত
হাসিনার দেখানো পথে চললে নতুন বাংলাদেশ গড়া সম্ভব হবে না
- আপডেট সময় : ০৯:২৭:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬
- / ২৪ বার পঠিত

ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের চেতনা ধরে রেখে সম্মিলিতভাবে নতুন বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক (খুলনা বিভাগ) ও বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি বলেছেন, শেখ হাসিনার দেখানো পথ ও ভাষা অনুসরণ করলে তা গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের রাজনীতির অন্তরায় হয়ে দাঁড়াবে।
বুধবার (৫ আগস্ট) ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থান এবং ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার পতনের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে যশোর জেলা বিএনপি আয়োজিত বর্ণাঢ্য র্যালির আগে মুন্সী মেহেরুল্লাহ ময়দানে অনুষ্ঠিত সংক্ষিপ্ত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সমাবেশ শেষে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক নার্গিস বেগমের নেতৃত্বে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে মনিহার এলাকায় গিয়ে শেষ হয়।
অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও মতের মানুষ আত্মত্যাগ করেছেন। সেই আত্মত্যাগের মূল্যায়ন করে সবাইকে সঙ্গে নিয়েই নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে। তবে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের পর যদি আবার অতীতের দমন-পীড়নের রাজনীতি, ভাষা ও আচরণ অনুসরণ করা হয়, তাহলে তা গণতান্ত্রিক অভিযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করবে। তিনি বলেন, “আমরা নিশ্চয়ই সেই খারাপ দিনে ফিরতে চাই না। তাই গণতন্ত্রের পক্ষের সব শক্তিকে আবারও হাতে হাত ও কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এগিয়ে আসতে হবে।”
বিএনপির এই নেতা বলেন, দেশের জনগণ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নতুন বাংলাদেশ গড়ার সুযোগ দিয়েছেন। জনগণের প্রত্যাশা পূরণে তাঁর নেতৃত্বকে শক্তিশালী করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, গণতন্ত্রের প্রতি আস্থা থাকলে জনগণের রায়কে সম্মান করতে হবে। জনগণ রাজনৈতিক দলগুলোর কর্মকাণ্ড মূল্যায়ন করেই আগামী নির্বাচনেও তাদের মতামত দেবেন। তাই গণতন্ত্রের ভাষা হলো জনগণের রায়ের জন্য অপেক্ষা করা।
তিনি বলেন, ২০০৮ সালে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে শুরু হওয়া ‘মানুষ বাঁচাও, দেশ বাঁচাও’ আন্দোলনের চূড়ান্ত পরিণতি ঘটে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট। দীর্ঘ এই আন্দোলনে গণতন্ত্রকামী মানুষের আত্মত্যাগ, নির্যাতন এবং দলীয় নেতাকর্মীদের অবদানের কথা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন তিনি।
অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, যারা দীর্ঘদিন রাজপথে আন্দোলন করেছেন, কারাবরণ করেছেন কিংবা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, সেই ত্যাগ কাউকে ক্ষমতার অপব্যবহার বা স্বেচ্ছাচারের অধিকার দেয় না। আওয়ামী লীগের মতো জুলুম-নির্যাতনের রাজনীতি অনুসরণের স্বাধীনতা কাউকে দেওয়া হয়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, “যে ব্যক্তি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ থেকে বিচ্যুত হবেন, তাঁর জায়গা বিএনপিতে হবে না।” তিনি নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, আন্দোলনের লক্ষ্য ছিল বৈষম্যহীন, মানবিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা, যেখানে আইনের শাসন, মানবাধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে।
বিএনপির এই নেতা দাবি করেন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে সবচেয়ে বেশি ত্যাগ স্বীকার করেছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। দীর্ঘ আন্দোলনের সময় দলটির কেউ ফ্যাসিস্ট সরকারের সঙ্গে আপস করেননি বা আত্মগোপন করেননি। নতুন বাংলাদেশ গড়ার এই সুযোগ নষ্ট করতে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র এখনো অব্যাহত রয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
বর্তমান সরকারের দায়িত্ব প্রসঙ্গে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, জনগণই সরকারকে দায়িত্ব দিয়েছে। সরকারকে সফল করতে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদেরও দায়িত্ব রয়েছে। এজন্য এমপি বা মন্ত্রী হওয়া জরুরি নয়; বরং জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাকর্মীদের নিজ নিজ এলাকায় মাদক ও সন্ত্রাস দমনে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে।
তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি সীমান্তবর্তী জেলা যশোরে মাদক চোরাচালান ও সন্ত্রাস দমনে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, অতীতে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় মাদক ও সন্ত্রাস বিস্তার লাভ করলেও এখন সে ধরনের কোনো পৃষ্ঠপোষকতা থাকবে না।
সমাবেশে জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু, সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম, মুনির আহমেদ সিদ্দিকী বাচ্চু, গোলাম রেজা দুলু, মিজানুর রহমান খান, এ কে শরফুদ্দৌলা ছোটলু, অ্যাডভোকেট হাজী আনিসুর রহমান মুকুল, সিরাজুল ইসলাম, নগর বিএনপির সভাপতি রফিকুল ইসলাম চৌধুরী মুল্লুক চাঁদ, সাধারণ সম্পাদক এহসানুল হক সেতুসহ জেলা ও মহানগর বিএনপি এবং অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
























