ঢাকা ১০:৩১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ১৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
হত্যা নাকি আত্মহত্যা

মণিরামপুরে নববধূ সুমাইয়ার মৃত্যু নিয়ে ধুম্রজাল!

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৮:৫৪:০৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬
  • / ৫১ বার পঠিত

মাত্র চার মাসের সংসার। এরই মধ্যে ১৬ বছর বয়সী নববধূ সিনথিয়া আক্তার সুমাইয়ার রহস্যজনক মৃত্যু। শ্বশুরবাড়ির দাবি, রান্নার তরকারি নিয়ে মনোমালিন্যের জেরে অভিমান করে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন তিনি। তবে নিহতের পরিবারের অভিযোগ, যৌতুকের জন্য নির্যাতনের একপর্যায়ে সুমাইয়াকে হত্যা করে আত্মহত্যার ঘটনা সাজানো হয়েছে।

এ নিয়ে যশোরের মণিরামপুর উপজেলার মথুরাপুর গ্রামের সুমাইয়ার মৃত্যু ঘিরে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন। মৃত্যুর ঘটনায় মণিরামপুর থানায় অপমৃত্যু মামলা হলেও পরে নিহতের মা বিলকিছ বেগম আদালতে হত্যা মামলা করেছেন।

সুমাইয়া যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার গদখালী মটবাড়িয়া গ্রামের হারুন বিশ্বাসের মেয়ে। প্রায় চার মাস আগে মণিরামপুরের মথুরাপুর গ্রামের শুকুর আলীর ছেলে আল আমিনের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়।

নিহতের পরিবারের দাবি, বিয়ের পর কিছুদিন সংসার স্বাভাবিক থাকলেও পরে যৌতুকের জন্য চাপ দেওয়া শুরু হয়। বাবার পক্ষ থেকে জামাইকে নগদ ৫০ হাজার টাকা ও আসবাবপত্র দেওয়া হয়েছিল বলেও দাবি পরিবারের। এরপরও নির্যাতন বন্ধ হয়নি বলে অভিযোগ তাঁদের।

অপমৃত্যু সংক্রান্ত থানার আবেদনে বলা হয়েছে, গত ৩০ জুলাই দুপুরে রান্না করা পেঁপের তরকারি দেওয়া-নেওয়াকে কেন্দ্র করে সুমাইয়ার সঙ্গে তাঁর ননদের মনোমালিন্য হয়। এরপর তিনি মন খারাপ করে ছিলেন। তবে ঘটনার বিষয়ে প্রকাশিত একটি প্রাথমিক প্রতিবেদনে তরকারিতে লবণ কম হওয়াকে কেন্দ্র করে শাশুড়ির বকাঝকার কথা বলা হয়েছিল। ঘটনার সময় ও মৃত্যুর আগে ঠিক কী নিয়ে পারিবারিক বিরোধ হয়েছিল, সেটিও এখন তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

পরিবারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ৩০ জুলাই সন্ধ্যার পর পরিবারের লোকজনের অগোচরে সুমাইয়া তাঁর শয়নকক্ষে যান। পরে শ্বশুরবাড়ির পক্ষ থেকে বলা হয়, ঘরের আড়ার সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে তিনি আত্মহত্যা করেছেন। তবে নিহতের পরিবারের বর্ণনায় উঠে এসেছে ভিন্ন চিত্র।

সুমাইয়ার মা বিলকিছ বেগম থানায় দেওয়া আবেদনে উল্লেখ করেছেন, মেয়ের মৃত্যুর খবর পেয়ে তিনি ও তাঁর স্বামী রাত আনুমানিক ১টা ২০ মিনিটে মথুরাপুরে মেয়ের শ্বশুরবাড়িতে যান। সেখানে গিয়ে তাঁরা সুমাইয়াকে তাঁর স্বামী আল আমিনের শয়নকক্ষে খাটের ওপর কাঁথা দিয়ে ঢাকা অবস্থায় দেখতে পান।

এ থেকেই প্রশ্ন উঠেছে, সুমাইয়া যদি আড়ার সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করে থাকেন, তাহলে তাঁকে কে এবং কখন নামালেন? কে প্রথম তাঁকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান? মরদেহ নামানোর সময় কারা উপস্থিত ছিলেন? ঘটনাস্থলের কোনো আলামত পরিবর্তন করা হয়েছিল কি-না এসব বিষয় তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

নিহতের পরিবার বলছে, সুমাইয়া আত্মহত্যা করেননি। যৌতুকের জন্য নির্যাতনের একপর্যায়ে তাঁকে হত্যা করা হয়েছে এবং পরে মরদেহ খাটের ওপর রেখে আত্মহত্যার ঘটনা সাজানো হয়েছে। এটি নিহতের পরিবারের অভিযোগ। এর সত্যতা তদন্ত ও আদালতের মাধ্যমে প্রমাণিত হওয়ার বিষয়।

অন্যদিকে শ্বশুরবাড়ির পক্ষের বক্তব্য, পারিবারিক মনোমালিন্যের পর অভিমান থেকেই সুমাইয়া আত্মহত্যা করেছেন।

সুমাইয়ার মরদেহ গোসল করিয়েছেন এমন কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে তাঁর পরিবারের সদস্যরা জানান, গোসলের সময় তাঁরা শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন দেখতে পেয়েছেন। তাঁদের দাবি, শরীরের একটি হাড় ভাঙা ছিল।

মরদেহ গোসল করানো ব্যক্তিদের ভাষ্য, তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে মৃতদেহ গোসল করানোর কাজ করলেও এ ধরনের আঘাতের চিহ্ন তাঁরা আগে দেখেননি।

তবে শরীরের এসব চিহ্ন কীভাবে সৃষ্টি হয়েছে, তা ময়নাতদন্ত ও ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। আঘাতের চিহ্ন থাকলেই তা হত্যার প্রমাণ, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।

সুমাইয়ার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। গলায় ফাঁসের চিহ্নের ধরন, শরীরের অন্য কোথাও আঘাতের চিহ্ন ছিল কি না, মৃত্যুর আনুমানিক সময় এবং মৃত্যুর ধরন এসব বিষয় প্রতিবেদনে উঠে আসার কথা।

এ ছাড়া ঘটনাস্থলের ছবি, সুরতহাল প্রতিবেদন, ব্যবহৃত ওড়না, ঘরের দরজা-জানালার অবস্থা, অন্যান্য আলামত এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্যও তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

সুমাইয়ার মৃত্যুর পর ৩১ জুলাই মণিরামপুর থানায় অপমৃত্যু মামলা করা হয়। পরিবারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মামলাটির নম্বর ৫৯/২৬। পরে সুমাইয়ার মা বিলকিছ বেগম যশোরের আমলি আদালতে হত্যা মামলা করেন। ফলে একই মৃত্যুকে কেন্দ্র করে সামনে এসেছে আত্মহত্যা ও হত্যার দুই ধরনের দাবি।

নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে অপমৃত্যু মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মিলন মোল্যার বিরুদ্ধেও অভিযোগ করা হয়েছে। পরিবারের দাবি, ঘটনাটিকে অপমৃত্যু হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করা হচ্ছে এবং তদন্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগও রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে স্বাধীন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি এবং সংশ্লিষ্ট তদন্ত কর্মকর্তার বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।

মেয়ের মৃত্যুর পর থেকে বিলকিছ বেগমকে শোকে ভেঙে পড়তে দেখা গেছে। ঘরের দরজায় বসে মেয়ের ছবি হাতে নিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। একপর্যায়ে কান্না করতে করতে অচেতন হয়ে যান।

সুমাইয়ার মৃত্যুকে কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না তাঁর মা। তাঁর একটাই দাবি, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে মেয়ের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ বের করে দায়ীদের আইনের আওতায় আনা হোক।

মাত্র চার মাসের সংসারের পর ১৬ বছরের এক কিশোরী নববধূর মৃত্যু ঘিরে ওঠা প্রশ্নের উত্তর এখন খুঁজছে তাঁর পরিবার। আত্মহত্যা হয়ে থাকলে এর কারণ কী, আর হত্যার অভিযোগ সত্য হলে কারা জড়িত ময়নাতদন্ত, ফরেনসিক আলামত ও নিরপেক্ষ তদন্তেই তার উত্তর মিলবে।

ট্যাগস :

হত্যা নাকি আত্মহত্যা

মণিরামপুরে নববধূ সুমাইয়ার মৃত্যু নিয়ে ধুম্রজাল!

আপডেট সময় : ০৮:৫৪:০৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬

মাত্র চার মাসের সংসার। এরই মধ্যে ১৬ বছর বয়সী নববধূ সিনথিয়া আক্তার সুমাইয়ার রহস্যজনক মৃত্যু। শ্বশুরবাড়ির দাবি, রান্নার তরকারি নিয়ে মনোমালিন্যের জেরে অভিমান করে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন তিনি। তবে নিহতের পরিবারের অভিযোগ, যৌতুকের জন্য নির্যাতনের একপর্যায়ে সুমাইয়াকে হত্যা করে আত্মহত্যার ঘটনা সাজানো হয়েছে।

এ নিয়ে যশোরের মণিরামপুর উপজেলার মথুরাপুর গ্রামের সুমাইয়ার মৃত্যু ঘিরে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন। মৃত্যুর ঘটনায় মণিরামপুর থানায় অপমৃত্যু মামলা হলেও পরে নিহতের মা বিলকিছ বেগম আদালতে হত্যা মামলা করেছেন।

সুমাইয়া যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার গদখালী মটবাড়িয়া গ্রামের হারুন বিশ্বাসের মেয়ে। প্রায় চার মাস আগে মণিরামপুরের মথুরাপুর গ্রামের শুকুর আলীর ছেলে আল আমিনের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়।

নিহতের পরিবারের দাবি, বিয়ের পর কিছুদিন সংসার স্বাভাবিক থাকলেও পরে যৌতুকের জন্য চাপ দেওয়া শুরু হয়। বাবার পক্ষ থেকে জামাইকে নগদ ৫০ হাজার টাকা ও আসবাবপত্র দেওয়া হয়েছিল বলেও দাবি পরিবারের। এরপরও নির্যাতন বন্ধ হয়নি বলে অভিযোগ তাঁদের।

অপমৃত্যু সংক্রান্ত থানার আবেদনে বলা হয়েছে, গত ৩০ জুলাই দুপুরে রান্না করা পেঁপের তরকারি দেওয়া-নেওয়াকে কেন্দ্র করে সুমাইয়ার সঙ্গে তাঁর ননদের মনোমালিন্য হয়। এরপর তিনি মন খারাপ করে ছিলেন। তবে ঘটনার বিষয়ে প্রকাশিত একটি প্রাথমিক প্রতিবেদনে তরকারিতে লবণ কম হওয়াকে কেন্দ্র করে শাশুড়ির বকাঝকার কথা বলা হয়েছিল। ঘটনার সময় ও মৃত্যুর আগে ঠিক কী নিয়ে পারিবারিক বিরোধ হয়েছিল, সেটিও এখন তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

পরিবারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ৩০ জুলাই সন্ধ্যার পর পরিবারের লোকজনের অগোচরে সুমাইয়া তাঁর শয়নকক্ষে যান। পরে শ্বশুরবাড়ির পক্ষ থেকে বলা হয়, ঘরের আড়ার সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে তিনি আত্মহত্যা করেছেন। তবে নিহতের পরিবারের বর্ণনায় উঠে এসেছে ভিন্ন চিত্র।

সুমাইয়ার মা বিলকিছ বেগম থানায় দেওয়া আবেদনে উল্লেখ করেছেন, মেয়ের মৃত্যুর খবর পেয়ে তিনি ও তাঁর স্বামী রাত আনুমানিক ১টা ২০ মিনিটে মথুরাপুরে মেয়ের শ্বশুরবাড়িতে যান। সেখানে গিয়ে তাঁরা সুমাইয়াকে তাঁর স্বামী আল আমিনের শয়নকক্ষে খাটের ওপর কাঁথা দিয়ে ঢাকা অবস্থায় দেখতে পান।

এ থেকেই প্রশ্ন উঠেছে, সুমাইয়া যদি আড়ার সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করে থাকেন, তাহলে তাঁকে কে এবং কখন নামালেন? কে প্রথম তাঁকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান? মরদেহ নামানোর সময় কারা উপস্থিত ছিলেন? ঘটনাস্থলের কোনো আলামত পরিবর্তন করা হয়েছিল কি-না এসব বিষয় তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

নিহতের পরিবার বলছে, সুমাইয়া আত্মহত্যা করেননি। যৌতুকের জন্য নির্যাতনের একপর্যায়ে তাঁকে হত্যা করা হয়েছে এবং পরে মরদেহ খাটের ওপর রেখে আত্মহত্যার ঘটনা সাজানো হয়েছে। এটি নিহতের পরিবারের অভিযোগ। এর সত্যতা তদন্ত ও আদালতের মাধ্যমে প্রমাণিত হওয়ার বিষয়।

অন্যদিকে শ্বশুরবাড়ির পক্ষের বক্তব্য, পারিবারিক মনোমালিন্যের পর অভিমান থেকেই সুমাইয়া আত্মহত্যা করেছেন।

সুমাইয়ার মরদেহ গোসল করিয়েছেন এমন কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে তাঁর পরিবারের সদস্যরা জানান, গোসলের সময় তাঁরা শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন দেখতে পেয়েছেন। তাঁদের দাবি, শরীরের একটি হাড় ভাঙা ছিল।

মরদেহ গোসল করানো ব্যক্তিদের ভাষ্য, তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে মৃতদেহ গোসল করানোর কাজ করলেও এ ধরনের আঘাতের চিহ্ন তাঁরা আগে দেখেননি।

তবে শরীরের এসব চিহ্ন কীভাবে সৃষ্টি হয়েছে, তা ময়নাতদন্ত ও ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। আঘাতের চিহ্ন থাকলেই তা হত্যার প্রমাণ, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।

সুমাইয়ার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। গলায় ফাঁসের চিহ্নের ধরন, শরীরের অন্য কোথাও আঘাতের চিহ্ন ছিল কি না, মৃত্যুর আনুমানিক সময় এবং মৃত্যুর ধরন এসব বিষয় প্রতিবেদনে উঠে আসার কথা।

এ ছাড়া ঘটনাস্থলের ছবি, সুরতহাল প্রতিবেদন, ব্যবহৃত ওড়না, ঘরের দরজা-জানালার অবস্থা, অন্যান্য আলামত এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্যও তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

সুমাইয়ার মৃত্যুর পর ৩১ জুলাই মণিরামপুর থানায় অপমৃত্যু মামলা করা হয়। পরিবারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মামলাটির নম্বর ৫৯/২৬। পরে সুমাইয়ার মা বিলকিছ বেগম যশোরের আমলি আদালতে হত্যা মামলা করেন। ফলে একই মৃত্যুকে কেন্দ্র করে সামনে এসেছে আত্মহত্যা ও হত্যার দুই ধরনের দাবি।

নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে অপমৃত্যু মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মিলন মোল্যার বিরুদ্ধেও অভিযোগ করা হয়েছে। পরিবারের দাবি, ঘটনাটিকে অপমৃত্যু হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করা হচ্ছে এবং তদন্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগও রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে স্বাধীন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি এবং সংশ্লিষ্ট তদন্ত কর্মকর্তার বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।

মেয়ের মৃত্যুর পর থেকে বিলকিছ বেগমকে শোকে ভেঙে পড়তে দেখা গেছে। ঘরের দরজায় বসে মেয়ের ছবি হাতে নিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। একপর্যায়ে কান্না করতে করতে অচেতন হয়ে যান।

সুমাইয়ার মৃত্যুকে কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না তাঁর মা। তাঁর একটাই দাবি, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে মেয়ের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ বের করে দায়ীদের আইনের আওতায় আনা হোক।

মাত্র চার মাসের সংসারের পর ১৬ বছরের এক কিশোরী নববধূর মৃত্যু ঘিরে ওঠা প্রশ্নের উত্তর এখন খুঁজছে তাঁর পরিবার। আত্মহত্যা হয়ে থাকলে এর কারণ কী, আর হত্যার অভিযোগ সত্য হলে কারা জড়িত ময়নাতদন্ত, ফরেনসিক আলামত ও নিরপেক্ষ তদন্তেই তার উত্তর মিলবে।