ঢাকা ০৯:৫৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ১৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বন্ধুর জানাজা থেকে ফেরার পথে সেনাসদস্য দম্পতির মৃত্যু

নড়াইল সংবাদদাতা
  • আপডেট সময় : ১২:৪৪:২৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬
  • / ১৯ বার পঠিত

বন্ধু ও সহকর্মী সেনাসদস্য মাসুম বিল্লাহর দাফনে অংশ নিতে নড়াইলের নড়াগাতীতে এসেছিলেন সেনাসদস্য সোহেল কাজী। বন্ধুকে শেষ বিদায় জানিয়ে স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে মোটরসাইকেলে শ্বশুরবাড়ির উদ্দেশে রওনা হওয়ার পর ঝিনাইদহে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন তিনি ও তাঁর স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস তুলি। কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে স্বামী-স্ত্রীর এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে নড়াগাতীসহ দুই পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

বুধবার (২৬ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ঝিনাইদহ শহরের ভুটিয়ারগাতী এলাকার বাইপাস সড়কের গ্যাস ডিপো এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত সোহেল কাজী (৩৫) নড়াইলের কালিয়া উপজেলার নড়াগাতী থানার মাউলী ইউনিয়নের চরকলাগাছি গ্রামের মাহাবুর কাজীর ছেলে। তাঁর স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস তুলি (২৭) ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার বড়দাহ গ্রামের বাসিন্দা। সোহেল বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর চট্টগ্রাম বিএমএ শাখায় প্রশিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সোহেল স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে মোটরসাইকেলে নড়াইল থেকে শ্বশুরবাড়ি শৈলকুপার বড়দাহ গ্রামের উদ্দেশে রওনা হন। পথে ঝিনাইদহ শহরের ভুটিয়ারগাতী বাইপাস সড়কের গ্যাস ডিপো এলাকায় পৌঁছালে কুষ্টিয়া থেকে খুলনাগামী ‘গড়াই পরিবহন’-এর একটি যাত্রীবাহী বাস তাঁদের মোটরসাইকেলকে চাপা দেয়।

এতে বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই নিহত হন জান্নাতুল ফেরদৌস তুলি। গুরুতর আহত সোহেল কাজীকে উদ্ধার করে প্রথমে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য যশোর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল (সিএমএইচ)-এ নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুরের দিকে তাঁর মৃত্যু হয়।

দুর্ঘটনায় জড়িত বাসটি পুলিশ আটক করেছে বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

বন্ধুর দাফন শেষে ফেরার পথেই মর্মান্তিক পরিণতি

সোহেল কাজী এসেছিলেন তাঁর দীর্ঘদিনের বন্ধু ও সহকর্মী সেনাসদস্য মাসুম বিল্লাহকে শেষ বিদায় জানাতে। নড়াইলের কালিয়া উপজেলার নড়াগাতী থানার তেলিডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা মাসুম বিল্লাহ (২৯) বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১১ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে কর্মরত ছিলেন। সাভার সেনানিবাসে দায়িত্ব পালনকালে অসুস্থ হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৫ আগস্ট তাঁর মৃত্যু হয়।

মাসুম বিল্লাহর মরদেহ দাফন শেষে স্ত্রীকে নিয়ে মোটরসাইকেলে বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন সোহেল। কিন্তু সেই যাত্রাই হয়ে ওঠে তাঁর জীবনের শেষ যাত্রা। বন্ধুকে শেষ বিদায় জানানোর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নিজেকেই দিতে হলো না-ফেরার দেশের বিদায়। একই দুর্ঘটনায় চিরদিনের জন্য হারিয়ে গেলেন তাঁর জীবনসঙ্গী তুলি।

একদিকে প্রিয় বন্ধু ও সহকর্মী মাসুম বিল্লাহর মৃত্যু, অন্যদিকে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে সোহেল ও তাঁর স্ত্রীর মর্মান্তিক মৃত্যু—সব মিলিয়ে নড়াগাতী, কালিয়া ও নড়াইলজুড়ে নেমে এসেছে শোকের আবহ। স্বজন, সহকর্মী ও এলাকাবাসীর মধ্যে চলছে শোকের মাতম।

বন্ধুকে শেষ বিদায় জানাতে এসে নিজেরই এমন করুণ পরিণতি হবে, তা হয়তো কল্পনাও করেননি সোহেল কাজী। তাঁর আকস্মিক মৃত্যু এবং স্ত্রী তুলির মর্মান্তিক বিদায়ে স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ।

সোহেল কাজী, তাঁর স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস তুলি ও প্রয়াত সেনাসদস্য মাসুম বিল্লাহর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছেন স্বজন, সহকর্মী ও এলাকাবাসী। একই সঙ্গে শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোর প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন তাঁরা।

ট্যাগস :

বন্ধুর জানাজা থেকে ফেরার পথে সেনাসদস্য দম্পতির মৃত্যু

আপডেট সময় : ১২:৪৪:২৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬

বন্ধু ও সহকর্মী সেনাসদস্য মাসুম বিল্লাহর দাফনে অংশ নিতে নড়াইলের নড়াগাতীতে এসেছিলেন সেনাসদস্য সোহেল কাজী। বন্ধুকে শেষ বিদায় জানিয়ে স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে মোটরসাইকেলে শ্বশুরবাড়ির উদ্দেশে রওনা হওয়ার পর ঝিনাইদহে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন তিনি ও তাঁর স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস তুলি। কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে স্বামী-স্ত্রীর এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে নড়াগাতীসহ দুই পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

বুধবার (২৬ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ঝিনাইদহ শহরের ভুটিয়ারগাতী এলাকার বাইপাস সড়কের গ্যাস ডিপো এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত সোহেল কাজী (৩৫) নড়াইলের কালিয়া উপজেলার নড়াগাতী থানার মাউলী ইউনিয়নের চরকলাগাছি গ্রামের মাহাবুর কাজীর ছেলে। তাঁর স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস তুলি (২৭) ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার বড়দাহ গ্রামের বাসিন্দা। সোহেল বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর চট্টগ্রাম বিএমএ শাখায় প্রশিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সোহেল স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে মোটরসাইকেলে নড়াইল থেকে শ্বশুরবাড়ি শৈলকুপার বড়দাহ গ্রামের উদ্দেশে রওনা হন। পথে ঝিনাইদহ শহরের ভুটিয়ারগাতী বাইপাস সড়কের গ্যাস ডিপো এলাকায় পৌঁছালে কুষ্টিয়া থেকে খুলনাগামী ‘গড়াই পরিবহন’-এর একটি যাত্রীবাহী বাস তাঁদের মোটরসাইকেলকে চাপা দেয়।

এতে বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই নিহত হন জান্নাতুল ফেরদৌস তুলি। গুরুতর আহত সোহেল কাজীকে উদ্ধার করে প্রথমে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য যশোর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল (সিএমএইচ)-এ নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুরের দিকে তাঁর মৃত্যু হয়।

দুর্ঘটনায় জড়িত বাসটি পুলিশ আটক করেছে বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

বন্ধুর দাফন শেষে ফেরার পথেই মর্মান্তিক পরিণতি

সোহেল কাজী এসেছিলেন তাঁর দীর্ঘদিনের বন্ধু ও সহকর্মী সেনাসদস্য মাসুম বিল্লাহকে শেষ বিদায় জানাতে। নড়াইলের কালিয়া উপজেলার নড়াগাতী থানার তেলিডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা মাসুম বিল্লাহ (২৯) বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১১ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে কর্মরত ছিলেন। সাভার সেনানিবাসে দায়িত্ব পালনকালে অসুস্থ হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৫ আগস্ট তাঁর মৃত্যু হয়।

মাসুম বিল্লাহর মরদেহ দাফন শেষে স্ত্রীকে নিয়ে মোটরসাইকেলে বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন সোহেল। কিন্তু সেই যাত্রাই হয়ে ওঠে তাঁর জীবনের শেষ যাত্রা। বন্ধুকে শেষ বিদায় জানানোর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নিজেকেই দিতে হলো না-ফেরার দেশের বিদায়। একই দুর্ঘটনায় চিরদিনের জন্য হারিয়ে গেলেন তাঁর জীবনসঙ্গী তুলি।

একদিকে প্রিয় বন্ধু ও সহকর্মী মাসুম বিল্লাহর মৃত্যু, অন্যদিকে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে সোহেল ও তাঁর স্ত্রীর মর্মান্তিক মৃত্যু—সব মিলিয়ে নড়াগাতী, কালিয়া ও নড়াইলজুড়ে নেমে এসেছে শোকের আবহ। স্বজন, সহকর্মী ও এলাকাবাসীর মধ্যে চলছে শোকের মাতম।

বন্ধুকে শেষ বিদায় জানাতে এসে নিজেরই এমন করুণ পরিণতি হবে, তা হয়তো কল্পনাও করেননি সোহেল কাজী। তাঁর আকস্মিক মৃত্যু এবং স্ত্রী তুলির মর্মান্তিক বিদায়ে স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ।

সোহেল কাজী, তাঁর স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস তুলি ও প্রয়াত সেনাসদস্য মাসুম বিল্লাহর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছেন স্বজন, সহকর্মী ও এলাকাবাসী। একই সঙ্গে শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোর প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন তাঁরা।