ঢাকা ০৩:২৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
অপহরণ, নির্যাতন নাকি আত্মহত্যা

যশোরে আবারও যুবদল নেতার মরদেহ উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৪:৪৭:২০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
  • / ৩৩ বার পঠিত

যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলায় প্রকাশ্যে যুবদল নেতা রুবেল হোসেন হত্যার ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার সদর উপজেলার ইছালী ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সহ-সভাপতি বিপুল কুমার ঘোষের (৩৫) রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার হয়েছে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার বারোবাজার এলাকা থেকে। ঘটনাটি ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনসহ স্থানীয় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহতের পরিবার এটিকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড দাবি করলেও পুলিশ বলছে, তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে।

পুলিশ জানায়, শুক্রবার সকালে বারোবাজার এলাকার রেললাইনের পাশ থেকে স্থানীয়দের দেওয়া খবরের ভিত্তিতে বিপুল কুমার ঘোষের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। ময়নাতদন্ত শেষে শনিবার সকাল ১০টার দিকে তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়।

নিহতের পরিবার ও স্থানীয় একাধিক সূত্রের অভিযোগ, গত ১৫ জুলাই রাত সাড়ে ১০টার দিকে কয়েকজন যুবক বিপুলকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। এরপর পাশের একটি শ্মশানে তাকে রাতভর আটকে রেখে নির্যাতন করা হয়। এ সময় তার কাছে চাঁদা দাবি করা হয় এবং প্রাণনাশের পাশাপাশি বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তারা।

পরিবারের দাবি, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের পেছনে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী রাজনৈতিক পক্ষের আশ্রয়-প্রশ্রয় রয়েছে। তাদের ভাষ্য, ঘটনার রাতে ইউনিয়ন বিএনপির কয়েকজন নেতা বিপুলের বাড়িতে গিয়ে পরিবারকে আশ্বস্ত করেছিলেন। কিন্তু পরদিন সকালে তারা জানতে পারেন, ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার বারোবাজার এলাকায় রেললাইনের পাশ থেকে বিপুলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

স্বজনদের অভিযোগ, ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে প্রকৃত ঘটনা আড়াল করারও চেষ্টা করা হচ্ছে বলে তারা দাবি করেন।

স্থানীয় একাধিক সূত্রের ভাষ্য, ঘটনাটি নিয়ে একটি রাজনৈতিক দলের অভ্যন্তরে ভিন্নমত দেখা দিয়েছে। দলের একটি পক্ষ অভিযোগটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে এবং চাঁদা দাবির ঘটনায় তাদের কয়েকজনের সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে। অন্যদিকে একই দলের আরেকটি পক্ষ নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছে।

এ ছাড়া বিরোধী একটি রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরাও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনার ভিডিও প্রকাশ করে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা এবং নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাদের অভিযোগ, বিপুলের পরিবারকে মামলা না করতে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে।

এ ঘটনায় যশোরজুড়ে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। বাঘারপাড়ায় যুবদল নেতা রুবেল হত্যার কয়েক দিনের মধ্যেই আরেক যুবদল নেতার রহস্যজনক মৃত্যু স্থানীয় রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।

এ বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিহতের পরিবার আইনি সহায়তা চাইলে পুলিশ সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে। একই সঙ্গে ঘটনাটির প্রকৃত রহস্য উদ্‌ঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ট্যাগস :

অপহরণ, নির্যাতন নাকি আত্মহত্যা

যশোরে আবারও যুবদল নেতার মরদেহ উদ্ধার

আপডেট সময় : ০৪:৪৭:২০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬

যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলায় প্রকাশ্যে যুবদল নেতা রুবেল হোসেন হত্যার ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার সদর উপজেলার ইছালী ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সহ-সভাপতি বিপুল কুমার ঘোষের (৩৫) রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার হয়েছে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার বারোবাজার এলাকা থেকে। ঘটনাটি ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনসহ স্থানীয় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহতের পরিবার এটিকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড দাবি করলেও পুলিশ বলছে, তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে।

পুলিশ জানায়, শুক্রবার সকালে বারোবাজার এলাকার রেললাইনের পাশ থেকে স্থানীয়দের দেওয়া খবরের ভিত্তিতে বিপুল কুমার ঘোষের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। ময়নাতদন্ত শেষে শনিবার সকাল ১০টার দিকে তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়।

নিহতের পরিবার ও স্থানীয় একাধিক সূত্রের অভিযোগ, গত ১৫ জুলাই রাত সাড়ে ১০টার দিকে কয়েকজন যুবক বিপুলকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। এরপর পাশের একটি শ্মশানে তাকে রাতভর আটকে রেখে নির্যাতন করা হয়। এ সময় তার কাছে চাঁদা দাবি করা হয় এবং প্রাণনাশের পাশাপাশি বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তারা।

পরিবারের দাবি, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের পেছনে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী রাজনৈতিক পক্ষের আশ্রয়-প্রশ্রয় রয়েছে। তাদের ভাষ্য, ঘটনার রাতে ইউনিয়ন বিএনপির কয়েকজন নেতা বিপুলের বাড়িতে গিয়ে পরিবারকে আশ্বস্ত করেছিলেন। কিন্তু পরদিন সকালে তারা জানতে পারেন, ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার বারোবাজার এলাকায় রেললাইনের পাশ থেকে বিপুলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

স্বজনদের অভিযোগ, ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে প্রকৃত ঘটনা আড়াল করারও চেষ্টা করা হচ্ছে বলে তারা দাবি করেন।

স্থানীয় একাধিক সূত্রের ভাষ্য, ঘটনাটি নিয়ে একটি রাজনৈতিক দলের অভ্যন্তরে ভিন্নমত দেখা দিয়েছে। দলের একটি পক্ষ অভিযোগটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে এবং চাঁদা দাবির ঘটনায় তাদের কয়েকজনের সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে। অন্যদিকে একই দলের আরেকটি পক্ষ নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছে।

এ ছাড়া বিরোধী একটি রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরাও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনার ভিডিও প্রকাশ করে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা এবং নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাদের অভিযোগ, বিপুলের পরিবারকে মামলা না করতে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে।

এ ঘটনায় যশোরজুড়ে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। বাঘারপাড়ায় যুবদল নেতা রুবেল হত্যার কয়েক দিনের মধ্যেই আরেক যুবদল নেতার রহস্যজনক মৃত্যু স্থানীয় রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।

এ বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিহতের পরিবার আইনি সহায়তা চাইলে পুলিশ সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে। একই সঙ্গে ঘটনাটির প্রকৃত রহস্য উদ্‌ঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।