ট্রাইব্যুনালে দুই অভিযোগ
ফেঁসে যেতে পারেন সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন
- আপডেট সময় : ০১:৫০:২৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬
- / ১০ বার পঠিত

রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করে বঙ্গভবন ছাড়ার পর সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে ঘিরে আইনি পদক্ষেপের সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সরকার বলছে, তার অতীত কার্যক্রম নিয়ে ওঠা অভিযোগগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। অন্যদিকে, মানবতাবিরোধী অপরাধের তদন্ত চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশনের কাছে পৃথক দুটি অভিযোগও জমা পড়েছে।
শুক্রবার পদত্যাগ করার পর রোববার বঙ্গভবন ছেড়ে রাজধানীর গুলশানে নিজ বাসভবনে ওঠেন মো. সাহাবুদ্দিন। সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি দায়িত্বে থাকা অবস্থায় তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি কার্যক্রম গ্রহণের সুযোগ না থাকলেও, দায়িত্ব গ্রহণের আগে বা পরে সংঘটিত কর্মকাণ্ডের বিষয়ে সাংবিধানিক সুরক্ষা নিয়ে স্পষ্ট কোনো বিধান না থাকায় এ নিয়ে নানা আলোচনা চলছে।
রোববার আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের অতীত কার্যক্রম নিয়ে ওঠা অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষ হলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি জানান, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কমিশনার এবং ইসলামী ব্যাংকের পরিচালক থাকাকালে তার কর্মকাণ্ড যাচাই করা হচ্ছে। অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
এদিকে সাবেক রাষ্ট্রপতিকে গ্রেপ্তারের দাবির বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি সাংবিধানিক সুরক্ষার আওতায় ছিলেন। ওই সময়ে তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা বা আদালতে কোনো কার্যক্রম গ্রহণের সুযোগ ছিল না।
তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনকালে সরকার তার সহযোগিতা পেয়েছে। তবে দায়িত্বের বাইরের সময়ের বিষয়ে কেউ অভিযোগ করলে তা করার স্বাধীনতা রয়েছে। যদিও সরকার এখন পর্যন্ত আমলে নেওয়ার মতো কোনো বিষয় দেখেনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি হিসেবে আইন অনুযায়ী মো. সাহাবুদ্দিন সব ধরনের প্রাপ্য সুবিধা পাবেন। তার নিরাপত্তার জন্য বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী (এসএসএফ), প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট (পিজিআর) এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা রাখা হবে।
রোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশনের কাছে মো. সাহাবুদ্দিন ও সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের তদন্ত চেয়ে পৃথক দুটি অভিযোগ জমা দেয় বাংলাদেশ আজাদ পার্টি ও রাষ্ট্রসংলাপ ফোরাম (এসডিএফ)।
চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, অভিযোগ দুটি তদন্ত সংস্থার কাছে পাঠানোর প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে। তদন্তের পরই এ বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারিত হবে।
বাংলাদেশ আজাদ পার্টির আহ্বায়ক অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল হাসিনুর অভিযোগ করেন, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় রাষ্ট্রের সর্বাধিনায়ক হিসেবে মো. সাহাবুদ্দিন কার্যকর ভূমিকা পালন করেননি। একই সঙ্গে গুম, খুন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলোতেও তিনি নীরব ছিলেন বলে দাবি করেন তিনি।
অন্যদিকে রাষ্ট্রসংলাপ ফোরামের কেন্দ্রীয় সদস্য সচিব আল নূর মো. আয়াস অভিযোগ করেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান, মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং গুম-নির্যাতনের ঘটনায় সাবেক রাষ্ট্রপতির ভূমিকা স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা প্রয়োজন।
সাবেক রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে আলাদা কোনো আর্থিক অনিয়মের তদন্ত করবে না বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে আলাদা তদন্তের পরিকল্পনা নেই। তবে কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের চলমান তদন্তে তার বা অন্য কারও সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে ইসলামী ব্যাংকের প্রায় ৮০ হাজার কোটি টাকার শেয়ার ও ঋণ-সংক্রান্ত অনিয়মের ঘটনায় বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) একটি প্রতিবেদনে মো. সাহাবুদ্দিন এবং তার প্রতিষ্ঠান জেএমসি বিল্ডার্সের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে হাইকোর্ট দুদককে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। মামলাটি আগামী বুধবার বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়ার নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চে শুনানির জন্য রয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৭ সালে জেএমসি বিল্ডার্সের মনোনীত পরিচালক হিসেবে ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে যোগ দেন মো. সাহাবুদ্দিন। পরে তিনি ভাইস চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন এবং ২০২৩ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের আগ পর্যন্ত ওই পদে বহাল ছিলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই সময়ে ২৪টি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রায় ৮০ হাজার কোটি টাকা ঋণ বিতরণ করা হয়, যার মধ্যে জেএমসি বিল্ডার্সও একটি। ঋণের অর্থ এখনো পরিশোধ হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, প্রতিবেদনে উল্লিখিত অভিযোগগুলো সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও সংগঠনগুলোর দাবি এবং চলমান আইনি ও তদন্ত প্রক্রিয়ার অংশ। এসব অভিযোগের বিষয়ে আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি।




















