সরকারি পাওনা আদায়ে প্রশংসিত ডুমুরিয়া মৎস্য বিভাগ
- আপডেট সময় : ০৮:২০:৪৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬
- / ১০২ বার পঠিত

খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলায় মৎস্য বিভাগের বিশেষ উদ্যোগে দীর্ঘদিনের বকেয়া সরকারি ঋণ আদায়ে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জিত হয়েছে। বছরের পর বছর অনাদায়ী থাকা মৎস্য ঋণ আদায়ে মাঠপর্যায়ে জোরদার কার্যক্রম পরিচালনার ফলে ঋণগ্রহীতাদের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া দেখা দিয়েছে। এ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল ও মৎস্যচাষীরা।
উপজেলা মৎস্য দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে এ পর্যন্ত মোট ৪ লাখ ৪৬ হাজার টাকা সরকারি ঋণ আদায় করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আশা করছেন, চলতি মাসের মধ্যেই আদায়ের পরিমাণ ৫ লাখ টাকা ছাড়িয়ে যাবে।
সূত্র জানায়, আদায়কৃত ঋণের অধিকাংশই ১৫ থেকে ১৭ বছর ধরে বকেয়া ছিল। দীর্ঘদিনের এসব অনাদায়ী ঋণ আদায়ে উপজেলা মৎস্য দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা স্বল্প জনবল নিয়েই বাড়ি বাড়ি গিয়ে ঋণগ্রহীতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। পাশাপাশি নোটিশ প্রদান, গ্রাম পুলিশের সহায়তায় ঋণগ্রহীতাদের শনাক্তকরণ এবং স্থানীয় ইউপি সদস্যদের মাধ্যমে নিয়মিত তাগিদ দেওয়া হচ্ছে।
এ কার্যক্রমের ফলে দীর্ঘদিন প্রশাসনের নজরের বাইরে থাকা অনেক ঋণগ্রহীতাও ঋণ পরিশোধে এগিয়ে আসছেন। সম্প্রতি আমেনা বেগম গং তাদের সম্পূর্ণ বকেয়া ঋণ পরিশোধ করেছেন। এছাড়া নীহার কবিরাজ, চৈতন্য কবিরাজ, অভিজিৎ কুণ্ডু ও মো. রুহুল শেখসহ আরও কয়েকজন ঋণগ্রহীতা তাদের বকেয়া ঋণের সম্পূর্ণ অর্থ পরিশোধ করেছেন।
সরকারি পাওনা আদায়ের এ কার্যক্রমে উপজেলা প্রশাসন, ডুমুরিয়া উপজেলা মৎস্য দপ্তর এবং জেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয় প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এ ধরনের সমন্বিত উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে দীর্ঘদিনের অনাদায়ী সরকারি ঋণ দ্রুত আদায় করা সম্ভব হবে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ঋণগ্রহীতা জানান, দীর্ঘদিন কেউ খোঁজ না নেওয়ায় তারা ভেবেছিলেন ঋণ হয়তো মওকুফ হয়ে গেছে। তবে বর্তমানে মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তারা সরাসরি বাড়িতে গিয়ে যোগাযোগ করায় তারা ঋণ পরিশোধে আগ্রহী হয়েছেন। ঋণ পরিশোধ করতে পেরে তারা মানসিক স্বস্তি অনুভব করছেন বলেও জানান।
স্থানীয় সচেতন মহল ও মৎস্যচাষীরা বলেন, দীর্ঘদিন পর সরকারি পাওনা আদায়ে এমন কার্যকর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে। এ ধারা অব্যাহত থাকলে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ বা বকেয়া রেখে দেওয়ার প্রবণতা কমে আসবে।
এ বিষয়ে ডুমুরিয়া উপজেলার সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা সোহেল মো. জিল্লুর রহমান রিগান বলেন, “সরকারি অর্থ পুনরুদ্ধারের পাশাপাশি মৎস্যচাষী ও মৎস্যজীবীদের সেবা প্রদান এবং মাছ-চিংড়ির উৎপাদন বৃদ্ধি করাই আমাদের মূল লক্ষ্য। ভবিষ্যতেও বকেয়া ঋণ আদায়ে এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।”

























