বিশ্ববাজারে আবারও বাড়ছে তেলের দাম
- আপডেট সময় : ০৮:২৮:১৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
- / ৭১ বার পঠিত

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা সৃষ্টি হওয়ার পর আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে আবারও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংঘাতের আশঙ্কা বৃদ্ধি এবং যুক্তরাষ্ট্রে অপরিশোধিত তেলের মজুত কমে যাওয়ার প্রভাবে বিশ্ববাজারে তেলের দাম পুনরায় ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে নতুন হামলা চালানোর পর বুধবার (১০ জুন) বিশ্ববাজারে তেলের দাম প্রায় ১ শতাংশ বেড়েছে। এর আগে যুদ্ধবিরতির প্রভাবে তেলের দাম সাত সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে গেলেও সাম্প্রতিক উত্তেজনার কারণে বাজারে আবারও মূল্যবৃদ্ধির প্রবণতা দেখা দিয়েছে।
একটি মার্কিন অ্যাপাচি অ্যাটাক হেলিকপ্টার ভূপাতিত হওয়ার ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কঠোর প্রতিক্রিয়ার হুঁশিয়ারি দেন। এর পরপরই মার্কিন বাহিনী ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায়। এতে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চলমান ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি নতুন করে সংকটের মুখে পড়ে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির আশঙ্কা বাড়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক তেলবাজারে।
বুধবার লন্ডন বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৮৩ সেন্ট বা ০.৯ শতাংশ বেড়ে ৯২ দশমিক ২৯ ডলারে পৌঁছায়। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ৬৮ সেন্ট বা ০.৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ব্যারেলপ্রতি ৮৮ দশমিক ৯৭ ডলারে দাঁড়ায়। এর আগে মঙ্গলবার যুদ্ধবিরতির ইতিবাচক প্রভাবে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম গত ১৭ এপ্রিলের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছিল। একইভাবে ডব্লিউটিআই ক্রুডও ২৯ মে-র পর সর্বনিম্ন দামে পৌঁছেছিল।
এদিকে ইরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে। বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। অপরদিকে যুক্তরাষ্ট্রও ইরানের কয়েকটি বন্দরে অবরোধ আরোপ করায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ শৃঙ্খলে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি বাজারেও চাপের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। আমেরিকান পেট্রোলিয়াম ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে অপরিশোধিত তেলের মজুত টানা অষ্টম সপ্তাহের মতো কমেছে। ৫ জুন শেষ হওয়া সপ্তাহে অপরিশোধিত তেলের মজুত ৯১ লাখ ২০ হাজার ব্যারেল এবং পেট্রোলের মজুত ১১ লাখ ৯০ হাজার ব্যারেল হ্রাস পেয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা, হরমুজ প্রণালির অনিশ্চয়তা এবং যুক্তরাষ্ট্রে তেলের মজুত কমে যাওয়ার কারণে আগামী দিনগুলোতে আন্তর্জাতিক তেলবাজার আরও অস্থির হতে পারে। পরিস্থিতির অবনতি হলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের সংকট এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সামগ্রিকভাবে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সামরিক উত্তেজনা, সরবরাহ ব্যবস্থার ঝুঁকি এবং যুক্তরাষ্ট্রের মজুত হ্রাস—এই তিনটি কারণ বিশ্ব তেলবাজারে নতুন চাপ সৃষ্টি করেছে। ফলে সাময়িক পতনের পর আবারও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে জ্বালানি তেলের দাম।

























