ঢাকা ১২:৫১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ১৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্যাহত পাঠদান

ডুমুরিয়ার ৭৮ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নেই প্রধান শিক্ষক

শেখ মাহতাব হোসেন,
  • আপডেট সময় : ০৯:১২:২১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬
  • / ২৪ বার পঠিত

খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার ২১৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৭৮টিতেই নেই নিয়মিত প্রধান শিক্ষক। এর মধ্যে ৬২টি বিদ্যালয়ে জ্যেষ্ঠ সহকারী শিক্ষকরা অনানুষ্ঠানিকভাবে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন। আর ১৬টি বিদ্যালয়ে উপজেলা শিক্ষা অফিসের অনুমোদনে সহকারী শিক্ষকেরা চলতি দায়িত্বে রয়েছেন।

প্রধান শিক্ষক না থাকায় এসব বিদ্যালয়ে প্রশাসনিক কার্যক্রমের পাশাপাশি শ্রেণিকক্ষে পাঠদানও ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষক, অভিভাবক ও উপজেলা শিক্ষা অফিসের কর্মকর্তারা। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পাওয়া সহকারী শিক্ষকদের একটি বড় অংশকে দাপ্তরিক কাজ, সভা, নথিপত্র ও প্রশাসনিক কার্যক্রম সামলাতে হচ্ছে। ফলে তাঁদের নিয়মিত পাঠদানেও ব্যাঘাত ঘটছে।

ডুমুরিয়া উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ২১৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষক মিলিয়ে ১১৯টিরও বেশি পদ শূন্য রয়েছে। এসব শূন্যপদের বিস্তারিত তালিকা তৈরি করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে।

শরাফপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক অভিভাবক আরিফা বেগম বলেন, ‘স্কুলে প্রধান শিক্ষক না থাকায় অন্য শিক্ষকেরা সব ক্লাস ঠিকমতো নিতে পারেন না। যিনি ভারপ্রাপ্ত দায়িত্বে থাকেন, তাঁকে অফিসের কাজ ও সভা নিয়ে ব্যস্ত থাকতে হয়। ফলে বাচ্চারা সময়মতো পড়াশোনা শেষ করতে পারছে না। আমরা দ্রুত স্থায়ী প্রধান শিক্ষক নিয়োগের দাবি জানাচ্ছি।’

শিক্ষক ও অভিভাবকদের ভাষ্য, নিয়মিত প্রধান শিক্ষক না থাকায় বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রমের মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতি তৈরি হচ্ছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে দাপ্তরিক কাজে সময় দিতে গিয়ে নির্ধারিত শ্রেণিকক্ষে পাঠদান থেকে বিরত থাকতে হচ্ছে। এতে শিক্ষকসংকট আরও প্রকট হয়ে উঠছে।

ডুমুরিয়া উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বলেন, এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য থাকা নিঃসন্দেহে বড় চ্যালেঞ্জ। প্রধান শিক্ষক একটি বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও একাডেমিক চালিকাশক্তি। তিনি না থাকায় ভারপ্রাপ্ত বা চলতি দায়িত্বে থাকা সহকারী শিক্ষকদের দাপ্তরিক কাজ, সভা ও প্রশাসনিক ফাইল সামলাতে হয়। এতে শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের জন্য তাঁদের পর্যাপ্ত সময় পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।

অভিভাবকদের অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, বিষয়টি শিক্ষা অফিস গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। সংকট সামাল দিতে বিদ্যমান সহকারী শিক্ষকদের মধ্য থেকে জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে ভারপ্রাপ্ত ও চলতি দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, যাতে বিদ্যালয়ের প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রম থেমে না যায়। পাশাপাশি রুটিন সমন্বয় করে কোনো শ্রেণিকক্ষ যেন শিক্ষকশূন্য না থাকে, সে বিষয়ে শিক্ষকদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা জানান, ডুমুরিয়ার ২১৪টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষক মিলিয়ে ১১৯টিরও বেশি পদ শূন্য রয়েছে। শূন্যপদের বিস্তারিত তালিকাসহ সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে।

তিনি বলেন, প্রধান শিক্ষক পদে পদায়ন মূলত সহকারী শিক্ষকদের পদোন্নতি এবং সরাসরি নিয়োগের মাধ্যমে হয়ে থাকে। সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর এ বিষয়ে কাজ করছে। আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষ করে পদোন্নতি ও নতুন নিয়োগ সম্পন্ন হলে স্থায়ী প্রধান শিক্ষক পদায়ন করা সম্ভব হবে বলে আশা করছে উপজেলা শিক্ষা অফিস।

প্রধান শিক্ষক পদ দীর্ঘদিন শূন্য থাকায় বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক তদারকিতেও প্রভাব পড়ছে। নিয়মিত প্রধান শিক্ষক না থাকায় বিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা, শিক্ষক-কর্মচারীদের কাজের সমন্বয় এবং শিক্ষার্থীদের শিখন কার্যক্রম তদারকিতে ঘাটতি তৈরি হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন।

শিক্ষাবিদ ও অভিভাবকদের মতে, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ভিত্তি গড়ে ওঠে এই পর্যায়েই। তাই দীর্ঘদিন প্রধান শিক্ষকবিহীন বিদ্যালয় চলতে থাকলে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক শিখন কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। দ্রুত শূন্যপদ পূরণ করে বিদ্যালয়গুলোতে নিয়মিত প্রধান শিক্ষক পদায়নের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

ট্যাগস :

ব্যাহত পাঠদান

ডুমুরিয়ার ৭৮ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নেই প্রধান শিক্ষক

আপডেট সময় : ০৯:১২:২১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬

খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার ২১৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৭৮টিতেই নেই নিয়মিত প্রধান শিক্ষক। এর মধ্যে ৬২টি বিদ্যালয়ে জ্যেষ্ঠ সহকারী শিক্ষকরা অনানুষ্ঠানিকভাবে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন। আর ১৬টি বিদ্যালয়ে উপজেলা শিক্ষা অফিসের অনুমোদনে সহকারী শিক্ষকেরা চলতি দায়িত্বে রয়েছেন।

প্রধান শিক্ষক না থাকায় এসব বিদ্যালয়ে প্রশাসনিক কার্যক্রমের পাশাপাশি শ্রেণিকক্ষে পাঠদানও ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষক, অভিভাবক ও উপজেলা শিক্ষা অফিসের কর্মকর্তারা। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পাওয়া সহকারী শিক্ষকদের একটি বড় অংশকে দাপ্তরিক কাজ, সভা, নথিপত্র ও প্রশাসনিক কার্যক্রম সামলাতে হচ্ছে। ফলে তাঁদের নিয়মিত পাঠদানেও ব্যাঘাত ঘটছে।

ডুমুরিয়া উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ২১৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষক মিলিয়ে ১১৯টিরও বেশি পদ শূন্য রয়েছে। এসব শূন্যপদের বিস্তারিত তালিকা তৈরি করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে।

শরাফপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক অভিভাবক আরিফা বেগম বলেন, ‘স্কুলে প্রধান শিক্ষক না থাকায় অন্য শিক্ষকেরা সব ক্লাস ঠিকমতো নিতে পারেন না। যিনি ভারপ্রাপ্ত দায়িত্বে থাকেন, তাঁকে অফিসের কাজ ও সভা নিয়ে ব্যস্ত থাকতে হয়। ফলে বাচ্চারা সময়মতো পড়াশোনা শেষ করতে পারছে না। আমরা দ্রুত স্থায়ী প্রধান শিক্ষক নিয়োগের দাবি জানাচ্ছি।’

শিক্ষক ও অভিভাবকদের ভাষ্য, নিয়মিত প্রধান শিক্ষক না থাকায় বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রমের মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতি তৈরি হচ্ছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে দাপ্তরিক কাজে সময় দিতে গিয়ে নির্ধারিত শ্রেণিকক্ষে পাঠদান থেকে বিরত থাকতে হচ্ছে। এতে শিক্ষকসংকট আরও প্রকট হয়ে উঠছে।

ডুমুরিয়া উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বলেন, এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য থাকা নিঃসন্দেহে বড় চ্যালেঞ্জ। প্রধান শিক্ষক একটি বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও একাডেমিক চালিকাশক্তি। তিনি না থাকায় ভারপ্রাপ্ত বা চলতি দায়িত্বে থাকা সহকারী শিক্ষকদের দাপ্তরিক কাজ, সভা ও প্রশাসনিক ফাইল সামলাতে হয়। এতে শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের জন্য তাঁদের পর্যাপ্ত সময় পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।

অভিভাবকদের অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, বিষয়টি শিক্ষা অফিস গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। সংকট সামাল দিতে বিদ্যমান সহকারী শিক্ষকদের মধ্য থেকে জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে ভারপ্রাপ্ত ও চলতি দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, যাতে বিদ্যালয়ের প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রম থেমে না যায়। পাশাপাশি রুটিন সমন্বয় করে কোনো শ্রেণিকক্ষ যেন শিক্ষকশূন্য না থাকে, সে বিষয়ে শিক্ষকদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা জানান, ডুমুরিয়ার ২১৪টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষক মিলিয়ে ১১৯টিরও বেশি পদ শূন্য রয়েছে। শূন্যপদের বিস্তারিত তালিকাসহ সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে।

তিনি বলেন, প্রধান শিক্ষক পদে পদায়ন মূলত সহকারী শিক্ষকদের পদোন্নতি এবং সরাসরি নিয়োগের মাধ্যমে হয়ে থাকে। সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর এ বিষয়ে কাজ করছে। আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষ করে পদোন্নতি ও নতুন নিয়োগ সম্পন্ন হলে স্থায়ী প্রধান শিক্ষক পদায়ন করা সম্ভব হবে বলে আশা করছে উপজেলা শিক্ষা অফিস।

প্রধান শিক্ষক পদ দীর্ঘদিন শূন্য থাকায় বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক তদারকিতেও প্রভাব পড়ছে। নিয়মিত প্রধান শিক্ষক না থাকায় বিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা, শিক্ষক-কর্মচারীদের কাজের সমন্বয় এবং শিক্ষার্থীদের শিখন কার্যক্রম তদারকিতে ঘাটতি তৈরি হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন।

শিক্ষাবিদ ও অভিভাবকদের মতে, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ভিত্তি গড়ে ওঠে এই পর্যায়েই। তাই দীর্ঘদিন প্রধান শিক্ষকবিহীন বিদ্যালয় চলতে থাকলে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক শিখন কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। দ্রুত শূন্যপদ পূরণ করে বিদ্যালয়গুলোতে নিয়মিত প্রধান শিক্ষক পদায়নের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।