সংবাদ সম্মেলন
চার জেলায় ২,২১২ গ্রামীণ ডাককর্মীর ১৩ দিনের বেতন কর্তনের অভিযোগ
- আপডেট সময় : ০৮:২৮:৫০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬
- / ২৫ বার পঠিত

বর্তমান বাজারমূল্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বেতন তিন গুণ বৃদ্ধি, নির্দিষ্ট পে-স্কেল ও উৎসব ভাতার দাবিতে আন্দোলন করায় যশোর, মাগুরা, নড়াইল ও ঝিনাইদহের ২ হাজার ২১২ জন গ্রামীণ ডাককর্মীর ১৩ দিনের বেতন কর্তনের অভিযোগ উঠেছে। কর্তন করা বেতন ফেরতসহ ন্যূনতম ২০ হাজার টাকা বেতন নির্ধারণ, পে-স্কেল ও উৎসব ভাতার দাবিতে আন্দোলনরত কর্মচারীরা ১৫ কর্মদিবসের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে অনশনসহ সারা দেশে কঠোর ধর্মঘটের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। শনিবার যশোরে গ্রামীণ ডাক-কর্মচারী ইউনিয়নের জেলা শাখার আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আকাশ খান। তিনি বলেন, যশোরে ৫৫৩ জনসহ খুলনা বিভাগের চার জেলায় প্রায় ২ হাজার ২১২ জন গ্রামীণ ডাককর্মী দীর্ঘদিন ধরে চরম বৈষম্য ও মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
তিনি জানান, বর্তমানে একজন পোস্টমাস্টারের মাসিক বেতন ৪ হাজার ৪৬০ টাকা, পিয়নের ৪ হাজার ৩৫৪ টাকা, রানারের ৪ হাজার ১৭৭ টাকা এবং অফিস সহায়কের বেতন ৪ হাজার ৬০ টাকা। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ঊর্ধ্বমুখী দামের বাজারে এই বেতন দিয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে জীবনযাপন করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
আকাশ খান বলেন, এসব দাবিতে সম্প্রতি তাঁরা টানা ১৩ দিন ধর্মঘট পালন করেন। পরে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টার আশ্বাসে ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হয়। সে সময় কোনো কর্মচারীর বেতন বা ভাতা কর্তন করা হবে না এবং প্রতি মাসের ১ থেকে ২ তারিখের মধ্যে বেতন দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল।
তবে ধর্মঘট প্রত্যাহারের পর চলতি মাসের বেতন দেওয়ার সময় ১৩ দিনের বেতন কেটে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর দাবি, খুলনা বিভাগীয় পোস্টমাস্টার জেনারেল ও ডেপুটি পোস্টমাস্টার জেনারেলের নির্দেশে এই বেতন কর্তন করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ধর্মঘট শেষে গ্রামীণ ডাককর্মীরা গ্রাহকদের বিভিন্ন ডকুমেন্ট ও ভূমির পরচা পৌঁছে দেওয়া, ড্রাইভিং লাইসেন্স, জরুরি চিঠিপত্র, ভিপি ও মানি অর্ডারসহ ডাক বিভাগের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সেবা মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার কাজ করছেন। এর পরও তাঁদের ১৩ দিনের বেতন কেটে নেওয়া হয়েছে।
গ্রামীণ ডাক-কর্মচারী ইউনিয়নের নেতারা কর্তন করা বেতন দ্রুত ফেরত দেওয়ার পাশাপাশি বর্তমান বাজারমূল্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ন্যূনতম ২০ হাজার টাকা বেতন নির্ধারণের দাবি জানান। একই সঙ্গে নির্দিষ্ট পে-স্কেল ও উৎসব ভাতা চালু, গ্রামীণ ডাককর্মীদের পদোন্নতি, ডাক বিভাগে অভিজ্ঞ কর্মীদের নিয়োগ এবং দাপ্তরিক কাজের সুবিধার্থে বাইসাইকেল ও প্রয়োজনীয় পোশাক সরবরাহের দাবি জানানো হয়।
নেতারা বলেন, আগামী ১৫ কর্মদিবসের মধ্যে বেতন কর্তনের বিষয়টির সমাধান এবং তাঁদের ন্যায্য দাবিগুলো পূরণ না হলে অনশনসহ সারা দেশে কঠোর ধর্মঘট কর্মসূচি পালন করা হবে। সংবাদ সম্মেলনে যশোর, মাগুরা, নড়াইল ও ঝিনাইদহের গ্রামীণ ডাক-কর্মচারী ইউনিয়নের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
























