ঢাকা ০৩:২৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চুরি ঠেকাতে রাতে পাহারায় নির্ঘুম মনিরামপুরবাসী

এস এম তাজাম্মুল হোসেন
  • আপডেট সময় : ১০:৪১:৫২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬
  • / ২৪ বার পঠিত

চুরি-ছিনতাইয়ের আতঙ্কে নিজেদের জানমালের নিরাপত্তায় রাত জেগে দলবদ্ধভাবে পাহারা দিচ্ছেন যশোরের মণিরামপুর উপজেলার ভোজগাতী ইউনিয়নের বাসিন্দারা। প্রশাসনের ওপর আস্থা থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক চুরির ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে নিজেরাই পাহারার ব্যবস্থা করেছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

শুক্রবার দিবাগত রাত ২৮ আগস্ট ভোজগাতী ইউনিয়নের বেগারীতলা এলাকায় এলাকাবাসীকে দলবদ্ধভাবে রাত জেগে পাহারা দিতে দেখা যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে বিষয়টি জানার পর সরেজমিনে গিয়ে এমন চিত্র দেখা যায়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, গত তিন মাসে মণিরামপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অর্ধশতাধিক চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় থানায় ও স্থানীয় পুলিশ ফাঁড়িতে অভিযোগ দেওয়া হলেও অনেক ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত সহযোগিতা পাওয়া যায়নি বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা।

বেগারীতলা এলাকার বাসিন্দা গাজী এনামুল হোসেন জানান, এক মাসের ব্যবধানে তাঁর বাড়িতে দুবার চুরির ঘটনা ঘটেছে। প্রায় এক মাস আগে তাঁর বাড়ি থেকে ২৪ হাজার টাকা মূল্যের নতুন বৈদ্যুতিক তারসহ বিভিন্ন মালামাল চুরি হয়। এরপর গত ২৫ আগস্ট রাত ২টার দিকে আবারও চোর তাঁর বাড়িতে ঢুকে ইজিবাইক চুরির চেষ্টা করে। এ সময় ইজিবাইকের চার্জার নিয়ে যায় চোরেরা।

এনামুল হোসেন আরও বলেন, যশোর-সাতক্ষীরা মহাসড়কের বেগারীতলার জামতলা মোড়ের দুটি দোকানেও চুরি হয়েছে। সর্বশেষ বেগারীতলা বাজারে মারুফের গ্রিলের দোকানে চুরির ঘটনা ঘটে। ওই দোকান থেকে ২৭টি গ্রিল নিয়ে যায় চোরেরা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব ঘটনায় মণিরামপুর থানায় অভিযোগ করা হলেও তদন্তে পুলিশ সদস্যদের তৎপরতা দেখা যায়নি। ফলে চুরি ঠেকাতে নিজেদের উদ্যোগেই রাতে পাহারা দিতে হচ্ছে তাঁদের।

রাতে পাহারায় থাকা কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, সন্ধ্যার পর থেকেই এলাকায় অপরিচিত লোকজনের চলাচল নিয়ে তাঁরা সতর্ক থাকছেন। চুরি-ডাকাতির আতঙ্কে অনেকেই রাতে ঠিকমতো ঘুমাতে পারছেন না। দ্রুত চুরি বন্ধে পুলিশের টহল ও নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানান তাঁরা।

এ বিষয়ে মণিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বলেন, চুরি অনেক বেড়ে গেছে এবং থানায় অনেক অভিযোগ এসেছে। গোয়েন্দা পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে মণিরামপুর থানা পুলিশ কাজ করছে। অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রত্যাশা, রাতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশি টহল ও নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি চুরির ঘটনাগুলো দ্রুত তদন্ত করে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে।

ট্যাগস :

চুরি ঠেকাতে রাতে পাহারায় নির্ঘুম মনিরামপুরবাসী

আপডেট সময় : ১০:৪১:৫২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬

চুরি-ছিনতাইয়ের আতঙ্কে নিজেদের জানমালের নিরাপত্তায় রাত জেগে দলবদ্ধভাবে পাহারা দিচ্ছেন যশোরের মণিরামপুর উপজেলার ভোজগাতী ইউনিয়নের বাসিন্দারা। প্রশাসনের ওপর আস্থা থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক চুরির ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে নিজেরাই পাহারার ব্যবস্থা করেছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

শুক্রবার দিবাগত রাত ২৮ আগস্ট ভোজগাতী ইউনিয়নের বেগারীতলা এলাকায় এলাকাবাসীকে দলবদ্ধভাবে রাত জেগে পাহারা দিতে দেখা যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে বিষয়টি জানার পর সরেজমিনে গিয়ে এমন চিত্র দেখা যায়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, গত তিন মাসে মণিরামপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অর্ধশতাধিক চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় থানায় ও স্থানীয় পুলিশ ফাঁড়িতে অভিযোগ দেওয়া হলেও অনেক ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত সহযোগিতা পাওয়া যায়নি বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা।

বেগারীতলা এলাকার বাসিন্দা গাজী এনামুল হোসেন জানান, এক মাসের ব্যবধানে তাঁর বাড়িতে দুবার চুরির ঘটনা ঘটেছে। প্রায় এক মাস আগে তাঁর বাড়ি থেকে ২৪ হাজার টাকা মূল্যের নতুন বৈদ্যুতিক তারসহ বিভিন্ন মালামাল চুরি হয়। এরপর গত ২৫ আগস্ট রাত ২টার দিকে আবারও চোর তাঁর বাড়িতে ঢুকে ইজিবাইক চুরির চেষ্টা করে। এ সময় ইজিবাইকের চার্জার নিয়ে যায় চোরেরা।

এনামুল হোসেন আরও বলেন, যশোর-সাতক্ষীরা মহাসড়কের বেগারীতলার জামতলা মোড়ের দুটি দোকানেও চুরি হয়েছে। সর্বশেষ বেগারীতলা বাজারে মারুফের গ্রিলের দোকানে চুরির ঘটনা ঘটে। ওই দোকান থেকে ২৭টি গ্রিল নিয়ে যায় চোরেরা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব ঘটনায় মণিরামপুর থানায় অভিযোগ করা হলেও তদন্তে পুলিশ সদস্যদের তৎপরতা দেখা যায়নি। ফলে চুরি ঠেকাতে নিজেদের উদ্যোগেই রাতে পাহারা দিতে হচ্ছে তাঁদের।

রাতে পাহারায় থাকা কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, সন্ধ্যার পর থেকেই এলাকায় অপরিচিত লোকজনের চলাচল নিয়ে তাঁরা সতর্ক থাকছেন। চুরি-ডাকাতির আতঙ্কে অনেকেই রাতে ঠিকমতো ঘুমাতে পারছেন না। দ্রুত চুরি বন্ধে পুলিশের টহল ও নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানান তাঁরা।

এ বিষয়ে মণিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বলেন, চুরি অনেক বেড়ে গেছে এবং থানায় অনেক অভিযোগ এসেছে। গোয়েন্দা পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে মণিরামপুর থানা পুলিশ কাজ করছে। অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রত্যাশা, রাতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশি টহল ও নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি চুরির ঘটনাগুলো দ্রুত তদন্ত করে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে।