ঢাকা ০৪:১০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তিন দিনের উত্তেজনার পর বেরোবিতে একই কর্মসূচিতে ছাত্রদল-শিবির

দর্পণ ডেক্স
  • আপডেট সময় : ০৯:৪৫:৩২ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬
  • / ১৫ বার পঠিত

টানা তিন দিনের উত্তেজনা, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও দফায় দফায় সংঘর্ষের পর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) একই কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা। জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত বৃক্ষরোপণ ও শোভাযাত্রায় দুই সংগঠনের নেতাকর্মীদের একসঙ্গে অংশ নিতে দেখা যায়।

বুধবার (৫ আগস্ট) সকালে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্যোগে আনন্দ শোভাযাত্রা, বৃক্ষরোপণ এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এতে উপাচার্য, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। দিনভর বৃষ্টিপাতের মধ্যেও কর্মসূচিগুলো নির্ধারিত সময়েই অনুষ্ঠিত হয়।

ছাতা হাতে অংশগ্রহণকারীরা ক্যাম্পাসের প্রধান সড়ক ও আবু সাঈদ চত্বর প্রদক্ষিণ করে শোভাযাত্রা সম্পন্ন করেন। পরে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করা হয়। এর আগে গত সোমবার সন্ধ্যায় যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে দণ্ডিত কয়েকজন নেতার ছবি প্রদর্শনীকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হন, যাদের মধ্যে পাঁচজনের অবস্থা গুরুতর ছিল।

ওই ঘটনার পর মঙ্গলবার একই স্থানে পৃথক কর্মসূচি ঘোষণা করে দুই সংগঠন। এতে নতুন করে সংঘর্ষের আশঙ্কা দেখা দিলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থান নেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারির আবেদনও করেছিল। এমন উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির পর জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবসের কর্মসূচিতে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের একই মঞ্চে দেখা যাওয়ায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্টদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসে। তাদের মতে, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও তা যেন কোনোভাবেই সহিংসতায় রূপ না নেয়। বিশ্ববিদ্যালয়ে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান ও সংলাপের সংস্কৃতি বজায় রাখাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

বেরোবি শাখা ছাত্রদলের সভাপতি ইয়ামিন ইসলাম বলেন, “জুলাই যেমন আমাদের ঐক্যবদ্ধ করেছিল, সেই ঐক্য ধরে রেখেই আমরা নতুন বাংলাদেশ গড়তে চাই। মতবিরোধ থাকলেও তা সংঘাতে রূপ নেওয়া উচিত নয়। একটি সুন্দর, গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে ছাত্রসমাজের ঐক্যবদ্ধ থাকা জরুরি।”

ছাত্রশিবিরের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি মো. আব্দুর রাকিব মুরাদ বলেন, “ক্যাম্পাসে ফ্যাসিবাদবিরোধী সব ছাত্রশক্তির সহাবস্থান নিশ্চিত হোক—এটাই আমরা চাই। সেই ভাবনা থেকেই আলোচনার মাধ্যমে আবারও একই মঞ্চে এসেছি। ভবিষ্যতেও পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহাবস্থানের পরিবেশ বজায় রাখতে চাই।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলী বলেন, “২০২৪ সালের জুলাইয়ে ছাত্র-জনতা যেভাবে ঐক্যবদ্ধ হয়ে গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে এনেছিল, সেই ঐক্য আমাদের ধরে রাখতে হবে। আমাদের কোনো ভুলের কারণে যেন অতীতের অগণতান্ত্রিক পরিস্থিতি ফিরে না আসে। আজ ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির একই মঞ্চে অবস্থান করে প্রমাণ করেছে যে ক্যাম্পাসে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা সম্ভব।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা, সাম্প্রতিক সংঘর্ষের পুনরাবৃত্তি আর হবে না। মতের ভিন্নতা আলোচনা, সহনশীলতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার মধ্য দিয়ে সমাধান করে ক্যাম্পাসে শিক্ষা, গবেষণা ও ইতিবাচক ছাত্ররাজনীতির পরিবেশ আরও সুদৃঢ় হবে।

ট্যাগস :

তিন দিনের উত্তেজনার পর বেরোবিতে একই কর্মসূচিতে ছাত্রদল-শিবির

আপডেট সময় : ০৯:৪৫:৩২ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬

টানা তিন দিনের উত্তেজনা, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও দফায় দফায় সংঘর্ষের পর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) একই কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা। জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত বৃক্ষরোপণ ও শোভাযাত্রায় দুই সংগঠনের নেতাকর্মীদের একসঙ্গে অংশ নিতে দেখা যায়।

বুধবার (৫ আগস্ট) সকালে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্যোগে আনন্দ শোভাযাত্রা, বৃক্ষরোপণ এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এতে উপাচার্য, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। দিনভর বৃষ্টিপাতের মধ্যেও কর্মসূচিগুলো নির্ধারিত সময়েই অনুষ্ঠিত হয়।

ছাতা হাতে অংশগ্রহণকারীরা ক্যাম্পাসের প্রধান সড়ক ও আবু সাঈদ চত্বর প্রদক্ষিণ করে শোভাযাত্রা সম্পন্ন করেন। পরে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করা হয়। এর আগে গত সোমবার সন্ধ্যায় যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে দণ্ডিত কয়েকজন নেতার ছবি প্রদর্শনীকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হন, যাদের মধ্যে পাঁচজনের অবস্থা গুরুতর ছিল।

ওই ঘটনার পর মঙ্গলবার একই স্থানে পৃথক কর্মসূচি ঘোষণা করে দুই সংগঠন। এতে নতুন করে সংঘর্ষের আশঙ্কা দেখা দিলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থান নেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারির আবেদনও করেছিল। এমন উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির পর জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবসের কর্মসূচিতে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের একই মঞ্চে দেখা যাওয়ায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্টদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসে। তাদের মতে, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও তা যেন কোনোভাবেই সহিংসতায় রূপ না নেয়। বিশ্ববিদ্যালয়ে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান ও সংলাপের সংস্কৃতি বজায় রাখাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

বেরোবি শাখা ছাত্রদলের সভাপতি ইয়ামিন ইসলাম বলেন, “জুলাই যেমন আমাদের ঐক্যবদ্ধ করেছিল, সেই ঐক্য ধরে রেখেই আমরা নতুন বাংলাদেশ গড়তে চাই। মতবিরোধ থাকলেও তা সংঘাতে রূপ নেওয়া উচিত নয়। একটি সুন্দর, গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে ছাত্রসমাজের ঐক্যবদ্ধ থাকা জরুরি।”

ছাত্রশিবিরের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি মো. আব্দুর রাকিব মুরাদ বলেন, “ক্যাম্পাসে ফ্যাসিবাদবিরোধী সব ছাত্রশক্তির সহাবস্থান নিশ্চিত হোক—এটাই আমরা চাই। সেই ভাবনা থেকেই আলোচনার মাধ্যমে আবারও একই মঞ্চে এসেছি। ভবিষ্যতেও পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহাবস্থানের পরিবেশ বজায় রাখতে চাই।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলী বলেন, “২০২৪ সালের জুলাইয়ে ছাত্র-জনতা যেভাবে ঐক্যবদ্ধ হয়ে গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে এনেছিল, সেই ঐক্য আমাদের ধরে রাখতে হবে। আমাদের কোনো ভুলের কারণে যেন অতীতের অগণতান্ত্রিক পরিস্থিতি ফিরে না আসে। আজ ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির একই মঞ্চে অবস্থান করে প্রমাণ করেছে যে ক্যাম্পাসে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা সম্ভব।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা, সাম্প্রতিক সংঘর্ষের পুনরাবৃত্তি আর হবে না। মতের ভিন্নতা আলোচনা, সহনশীলতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার মধ্য দিয়ে সমাধান করে ক্যাম্পাসে শিক্ষা, গবেষণা ও ইতিবাচক ছাত্ররাজনীতির পরিবেশ আরও সুদৃঢ় হবে।