ঢাকা ০৫:৫৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা

হিসাবরক্ষককে পিটিয়ে টাকা দাবির অভিযোগে যশোরে সংবাদ সম্মেলন

রোহিত হোসেন রনি
  • আপডেট সময় : ০৬:০৩:২৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ১১ বার পঠিত

ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডুতে একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার (এনজিও) শাখায় কর্মরত হিসাবরক্ষক সেলিম রেজাকে মারধর করে জোরপূর্বক স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়া এবং তাঁর পরিবারের কাছে ৩৭ লাখ ৬০ হাজার টাকা দাবি করার অভিযোগ উঠেছে সংস্থাটির প্রধান কার্যালয়ের কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে যশোর প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী সেলিম রেজা। তিনি যশোরের চৌগাছা উপজেলার স্বরূপদাহ গ্রামের বাসিন্দা।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সেলিম রেজা জানান, প্রায় দুই বছর ধরে তিনি ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলার চাঁদপুর শাখায় হিসাবরক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তাঁর দাবি, শাখার গ্রাহকদের কাছ থেকে ঋণের কিস্তির টাকা আদায় না হলে প্রধান কার্যালয় থেকে তাঁকে মৌখিকভাবে আদায় দেখানোর জন্য চাপ দেওয়া হতো। পরে টাকা আদায় হলে তা জমা দেখানোর কথা বলা হতো। কিন্তু মাঠপর্যায়ে অনাদায়ী টাকা পড়ে থাকায় একপর্যায়ে সেই টাকা তাঁকে ব্যক্তিগতভাবে পরিশোধের জন্য চাপ দেওয়া শুরু হয়।

সেলিম রেজার অভিযোগ, গত ৯ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৭টার দিকে প্রধান কার্যালয়ের হিসাবরক্ষক বদরুল আলম, এমআইএস কর্মকর্তা রাজু আহম্মেদ, ডিজি মেহেদী হাসান, অডিট পরিচালক মিজানুর রহমান, এইচআর কর্মকর্তা ফয়সাল মাহমুদ সাকিসহ অডিট বিভাগের কয়েকজন কর্মী এবং বহিরাগত ৪-৫ জন তাঁকে অনাদায়ী টাকা পরিশোধের জন্য চাপ দেন।

তিনি দাবি করেন, মাঠপর্যায়ের কর্মীদের কাছ থেকে টাকা আদায় করে দেওয়ার কথা বললে তাঁকে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে তাঁর দুই হাত পেছনে বেঁধে কাঠের চেলা দিয়ে পায়ের পাতায় ৬০-৭০টি আঘাত করা হয়। পরে প্রাণভয়ে তিনি টাকা পরিশোধের স্বীকৃতি দিয়ে তিনটি ১০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করেন। এর মধ্যে একটি স্ট্যাম্পে ৩৪ লাখ ৬০ হাজার টাকা উল্লেখ করা হয় এবং অন্য দুটি স্ট্যাম্পে কোনো লেখা ছাড়াই তাঁর স্বাক্ষর নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ সময় তাঁর বক্তব্যের ভিডিও ধারণ করা হয় বলেও দাবি করেন সেলিম।

লিখিত বক্তব্যে তিনি আরও জানান, তাঁকে আটকে রেখে পরিবারের সদস্যদের ফোন করে টাকা নিয়ে অফিসে আসতে বলা হয়। পরদিন ১০ সেপ্টেম্বর দুপুরে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা একটি মাইক্রোবাস নিয়ে তাঁর গ্রামের বাড়িতে যান। সেখানে তাঁর বাবা মো. হায়দার আলী ও চাচাদের অফিসে নিয়ে আসা হয়।

সেলিম রেজার অভিযোগ, তাঁর বাবা ও চাচারা অফিসে পৌঁছানোর পর তাঁদের কাছ থেকে দুই মাসের মধ্যে ৩৭ লাখ ৬০ হাজার টাকা পরিশোধের অঙ্গীকারসংবলিত একটি ১০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেওয়া হয়। এ সময় তাঁকে অন্য একটি কক্ষে আটকে রাখা হয়েছিল এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি।

তিনি জানান, ১১ সেপ্টেম্বর রাত ১০টার দিকে অফিস থেকে পালিয়ে বাড়িতে ফিরে আসেন। পরদিন শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে পরিবারের সদস্যরা তাঁকে চৌগাছা সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে দুই দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর চিকিৎসকের পরামর্শে বাড়ি ফেরেন।

সংবাদ সম্মেলনে সেলিম রেজা আরও অভিযোগ করেন, তাঁর মোটরসাইকেল, মোটরসাইকেলের কাগজপত্র ও চাবি, মোবাইল ফোন এবং মূল শিক্ষাগত সনদও আটকে রাখা হয়েছে। তিনি এসব মালামাল এবং জোরপূর্বক নেওয়া স্ট্যাম্প ফেরত দেওয়ার দাবি জানান।

ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ, নিজের ও পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট এনজিওর নিবন্ধন বাতিলের জন্য তিনি প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান।

তবে সংবাদ সম্মেলনে যাঁদের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ করা হয়েছে, তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ট্যাগস :

প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা

হিসাবরক্ষককে পিটিয়ে টাকা দাবির অভিযোগে যশোরে সংবাদ সম্মেলন

আপডেট সময় : ০৬:০৩:২৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডুতে একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার (এনজিও) শাখায় কর্মরত হিসাবরক্ষক সেলিম রেজাকে মারধর করে জোরপূর্বক স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়া এবং তাঁর পরিবারের কাছে ৩৭ লাখ ৬০ হাজার টাকা দাবি করার অভিযোগ উঠেছে সংস্থাটির প্রধান কার্যালয়ের কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে যশোর প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী সেলিম রেজা। তিনি যশোরের চৌগাছা উপজেলার স্বরূপদাহ গ্রামের বাসিন্দা।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সেলিম রেজা জানান, প্রায় দুই বছর ধরে তিনি ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলার চাঁদপুর শাখায় হিসাবরক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তাঁর দাবি, শাখার গ্রাহকদের কাছ থেকে ঋণের কিস্তির টাকা আদায় না হলে প্রধান কার্যালয় থেকে তাঁকে মৌখিকভাবে আদায় দেখানোর জন্য চাপ দেওয়া হতো। পরে টাকা আদায় হলে তা জমা দেখানোর কথা বলা হতো। কিন্তু মাঠপর্যায়ে অনাদায়ী টাকা পড়ে থাকায় একপর্যায়ে সেই টাকা তাঁকে ব্যক্তিগতভাবে পরিশোধের জন্য চাপ দেওয়া শুরু হয়।

সেলিম রেজার অভিযোগ, গত ৯ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৭টার দিকে প্রধান কার্যালয়ের হিসাবরক্ষক বদরুল আলম, এমআইএস কর্মকর্তা রাজু আহম্মেদ, ডিজি মেহেদী হাসান, অডিট পরিচালক মিজানুর রহমান, এইচআর কর্মকর্তা ফয়সাল মাহমুদ সাকিসহ অডিট বিভাগের কয়েকজন কর্মী এবং বহিরাগত ৪-৫ জন তাঁকে অনাদায়ী টাকা পরিশোধের জন্য চাপ দেন।

তিনি দাবি করেন, মাঠপর্যায়ের কর্মীদের কাছ থেকে টাকা আদায় করে দেওয়ার কথা বললে তাঁকে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে তাঁর দুই হাত পেছনে বেঁধে কাঠের চেলা দিয়ে পায়ের পাতায় ৬০-৭০টি আঘাত করা হয়। পরে প্রাণভয়ে তিনি টাকা পরিশোধের স্বীকৃতি দিয়ে তিনটি ১০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করেন। এর মধ্যে একটি স্ট্যাম্পে ৩৪ লাখ ৬০ হাজার টাকা উল্লেখ করা হয় এবং অন্য দুটি স্ট্যাম্পে কোনো লেখা ছাড়াই তাঁর স্বাক্ষর নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ সময় তাঁর বক্তব্যের ভিডিও ধারণ করা হয় বলেও দাবি করেন সেলিম।

লিখিত বক্তব্যে তিনি আরও জানান, তাঁকে আটকে রেখে পরিবারের সদস্যদের ফোন করে টাকা নিয়ে অফিসে আসতে বলা হয়। পরদিন ১০ সেপ্টেম্বর দুপুরে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা একটি মাইক্রোবাস নিয়ে তাঁর গ্রামের বাড়িতে যান। সেখানে তাঁর বাবা মো. হায়দার আলী ও চাচাদের অফিসে নিয়ে আসা হয়।

সেলিম রেজার অভিযোগ, তাঁর বাবা ও চাচারা অফিসে পৌঁছানোর পর তাঁদের কাছ থেকে দুই মাসের মধ্যে ৩৭ লাখ ৬০ হাজার টাকা পরিশোধের অঙ্গীকারসংবলিত একটি ১০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেওয়া হয়। এ সময় তাঁকে অন্য একটি কক্ষে আটকে রাখা হয়েছিল এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি।

তিনি জানান, ১১ সেপ্টেম্বর রাত ১০টার দিকে অফিস থেকে পালিয়ে বাড়িতে ফিরে আসেন। পরদিন শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে পরিবারের সদস্যরা তাঁকে চৌগাছা সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে দুই দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর চিকিৎসকের পরামর্শে বাড়ি ফেরেন।

সংবাদ সম্মেলনে সেলিম রেজা আরও অভিযোগ করেন, তাঁর মোটরসাইকেল, মোটরসাইকেলের কাগজপত্র ও চাবি, মোবাইল ফোন এবং মূল শিক্ষাগত সনদও আটকে রাখা হয়েছে। তিনি এসব মালামাল এবং জোরপূর্বক নেওয়া স্ট্যাম্প ফেরত দেওয়ার দাবি জানান।

ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ, নিজের ও পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট এনজিওর নিবন্ধন বাতিলের জন্য তিনি প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান।

তবে সংবাদ সম্মেলনে যাঁদের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ করা হয়েছে, তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।