ঢাকা ০৩:৩৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬, ১৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
কয়রায় ব্যতিক্রমী মধু মেলা

সুন্দরবনের বিকল্প জীবিকায় মৌচাষের সম্ভাবনা

দর্পণ ডেক্স
  • আপডেট সময় : ০৭:৩৪:৪৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬
  • / ৪৭ বার পঠিত

খুলনার কয়রায় সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে টেকসই ও বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে কমিউনিটি ভিত্তিক মৌচাষিদের অংশগ্রহণে ব্যতিক্রমী মধু মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত মধুর প্রচার, বাজার সম্প্রসারণ এবং মৌচাষে আগ্রহ বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে এ মেলার আয়োজন করা হয়।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেল ৩টায় উপজেলার উত্তর বেদকাশী ইউনিয়ন পরিষদ মাঠে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘প্রত্যাশী’ এ মেলার আয়োজন করে। এতে স্থানীয় মৌচাষিরা তাদের উৎপাদিত মধু ও মধুভিত্তিক বিভিন্ন পণ্য প্রদর্শন করেন।

প্রত্যাশীর প্রকল্প সমন্বয়কারী মো. সোহেল হোসেনের সভাপতিত্বে এবং কমিউনিটি মোবিলাইজার আলমগীর হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন উত্তর বেদকাশী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সরদার নূরুল ইসলাম। এছাড়া বক্তব্য দেন কাশিয়াবাদ ফরেস্ট স্টেশনের স্টেশন কর্মকর্তা ও রেঞ্জার মো. নাসির উদ্দীন, কয়রা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বন মামলা পরিচালক মো. সাদেকুর রহমান, কয়রা উপজেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. রিয়াছাদ আলী, সাংবাদিক ফরহাদ হোসেন, মৌচাষি গ্রুপ ফ্যাসিলিটেটর মোল্যা মনিরুজ্জামান, প্রত্যাশীর প্রকল্প কর্মকর্তা কল্যাণ বসাক, কমিউনিটি মোবিলাইজার রেশমা খাতুনসহ স্থানীয় মৌচাষিরা।

মৌচাষি ফাতেমা খাতুন বলেন, “আমাদের এলাকায় আগে কখনো বাক্স পদ্ধতিতে মধু চাষ হতো না। প্রত্যাশীর সহযোগিতায় প্রশিক্ষণ নিয়ে একটি বাক্স দিয়ে মধু চাষ শুরু করি। বর্তমানে বাণিজ্যিকভাবে মধু উৎপাদনে সফল হয়েছি। ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে মৌচাষ সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।”

মেলায় বিভিন্ন স্টলে মৌচাষিদের উৎপাদিত খাঁটি মধু, মৌচাষের সরঞ্জাম এবং মধুভিত্তিক বিভিন্ন পণ্য প্রদর্শন করা হয়। দর্শনার্থীরা স্টল ঘুরে দেখে মধুর গুণাগুণ ও আধুনিক মৌচাষ পদ্ধতি সম্পর্কে ধারণা নেন।

বক্তারা বলেন, মৌচাষ একটি পরিবেশবান্ধব ও লাভজনক জীবিকা। উপকূলীয় অঞ্চলে কমিউনিটি ভিত্তিক মৌচাষ সম্প্রসারণের মাধ্যমে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর আয় বৃদ্ধি, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা সম্ভব। একই সঙ্গে এটি সুন্দরবনের প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে টেকসই জীবিকা নিশ্চিত করতে সহায়তা করবে।

ট্যাগস :

কয়রায় ব্যতিক্রমী মধু মেলা

সুন্দরবনের বিকল্প জীবিকায় মৌচাষের সম্ভাবনা

আপডেট সময় : ০৭:৩৪:৪৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬

খুলনার কয়রায় সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে টেকসই ও বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে কমিউনিটি ভিত্তিক মৌচাষিদের অংশগ্রহণে ব্যতিক্রমী মধু মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত মধুর প্রচার, বাজার সম্প্রসারণ এবং মৌচাষে আগ্রহ বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে এ মেলার আয়োজন করা হয়।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেল ৩টায় উপজেলার উত্তর বেদকাশী ইউনিয়ন পরিষদ মাঠে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘প্রত্যাশী’ এ মেলার আয়োজন করে। এতে স্থানীয় মৌচাষিরা তাদের উৎপাদিত মধু ও মধুভিত্তিক বিভিন্ন পণ্য প্রদর্শন করেন।

প্রত্যাশীর প্রকল্প সমন্বয়কারী মো. সোহেল হোসেনের সভাপতিত্বে এবং কমিউনিটি মোবিলাইজার আলমগীর হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন উত্তর বেদকাশী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সরদার নূরুল ইসলাম। এছাড়া বক্তব্য দেন কাশিয়াবাদ ফরেস্ট স্টেশনের স্টেশন কর্মকর্তা ও রেঞ্জার মো. নাসির উদ্দীন, কয়রা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বন মামলা পরিচালক মো. সাদেকুর রহমান, কয়রা উপজেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. রিয়াছাদ আলী, সাংবাদিক ফরহাদ হোসেন, মৌচাষি গ্রুপ ফ্যাসিলিটেটর মোল্যা মনিরুজ্জামান, প্রত্যাশীর প্রকল্প কর্মকর্তা কল্যাণ বসাক, কমিউনিটি মোবিলাইজার রেশমা খাতুনসহ স্থানীয় মৌচাষিরা।

মৌচাষি ফাতেমা খাতুন বলেন, “আমাদের এলাকায় আগে কখনো বাক্স পদ্ধতিতে মধু চাষ হতো না। প্রত্যাশীর সহযোগিতায় প্রশিক্ষণ নিয়ে একটি বাক্স দিয়ে মধু চাষ শুরু করি। বর্তমানে বাণিজ্যিকভাবে মধু উৎপাদনে সফল হয়েছি। ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে মৌচাষ সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।”

মেলায় বিভিন্ন স্টলে মৌচাষিদের উৎপাদিত খাঁটি মধু, মৌচাষের সরঞ্জাম এবং মধুভিত্তিক বিভিন্ন পণ্য প্রদর্শন করা হয়। দর্শনার্থীরা স্টল ঘুরে দেখে মধুর গুণাগুণ ও আধুনিক মৌচাষ পদ্ধতি সম্পর্কে ধারণা নেন।

বক্তারা বলেন, মৌচাষ একটি পরিবেশবান্ধব ও লাভজনক জীবিকা। উপকূলীয় অঞ্চলে কমিউনিটি ভিত্তিক মৌচাষ সম্প্রসারণের মাধ্যমে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর আয় বৃদ্ধি, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা সম্ভব। একই সঙ্গে এটি সুন্দরবনের প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে টেকসই জীবিকা নিশ্চিত করতে সহায়তা করবে।