জেলহাজতে থাকা প্রধান শিক্ষকের বহিষ্কার নিয়ে প্রশ্ন!
কালীগঞ্জে এডহক কমিটির সভাপতির বিরুদ্ধে তথ্য গোপনের অভিযোগ
- আপডেট সময় : ১০:৩৫:১৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ২৭ বার পঠিত

সাতক্ষীরার কালীগঞ্জে একাধিক নাশকতা মামলায় জেলহাজতে থাকা কালীগঞ্জ আদর্শ মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জি এম শফিকুল ইসলামকে সাময়িক বহিষ্কারের বিষয়টি নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। বহিষ্কারের কথা জানানো হলেও এ-সংক্রান্ত কোনো কাগজপত্র গণমাধ্যম, উপজেলা প্রশাসন কিংবা সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্মকর্তাদের কাছে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।
বিদ্যালয়টির এডহক কমিটির সভাপতি শেখ আলাউদ্দিন সোহেলের বিরুদ্ধে বিষয়টি নিয়ে তথ্য গোপন ও গোপন সমঝোতার মাধ্যমে অর্থ বাণিজ্যের অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহলের কেউ কেউ। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আলাউদ্দিন সোহেল।
জানা গেছে, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতা হিসেবে পরিচিত প্রধান শিক্ষক জি এম শফিকুল ইসলাম বর্তমানে নাশকতার মামলায় কারাগারে রয়েছেন। এ অবস্থায় তাঁকে সাময়িক বহিষ্কার এবং সহকারী প্রধান শিক্ষক জালাল উদ্দিনকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছেন এডহক কমিটির সভাপতি শেখ আলাউদ্দিন সোহেল।
তবে সহকারী প্রধান শিক্ষক জালাল উদ্দিন বলেন, প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলামকে সাময়িক বহিষ্কার এবং তাঁকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দেওয়ার কথা তিনি শুনেছেন। কিন্তু এখনো কোনো রেজুলেশন বা লিখিত কাগজপত্র তাঁর হাতে দেওয়া হয়নি। সভাপতির নির্দেশ ছাড়া তিনি কোনো কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারছেন না বলেও জানান।
বিষয়টি জানতে অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জয়নাল আবেদীনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, কোনো শিক্ষককে সাময়িক বহিষ্কার করা হলে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ড, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, জেলা ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে অবহিত করার কথা। কিন্তু এ বিষয়ে এখনো তাঁকে কোনো চিঠি দিয়ে জানানো হয়নি।
এ সময় বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জালাল উদ্দিনের সঙ্গে ফোনে বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি সভাপতির সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন। পরদিন সভাপতির কাছ থেকে কাগজপত্র পাওয়ার কথা থাকলেও পরে তাঁকে পাওয়া যায়নি বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে ঘুষ, নিয়োগ বাণিজ্য, চাঁদাবাজি ও দখল বাণিজ্যসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের প্রতিবাদে অতীতে অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের আন্দোলন ও সড়ক অবরোধের ঘটনাও ঘটেছে বলে দাবি তাঁদের। পরে উপজেলা প্রশাসন ও যৌথ বাহিনীর হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, নাশকতার একটি মামলায় ২০২৫ সালের ২১ ডিসেম্বর পুলিশ শফিকুল ইসলামকে প্রথম গ্রেফতার করে। পরবর্তীতে কৃষ্ণনগর ইউনিয়ন বিএনপি কার্যালয়ে বোমা বিস্ফোরণ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় গত ১৫ আগস্ট তাঁকে আবারও নাশকতার মামলায় গ্রেফতার করা হয়। বর্তমানে তিনি ওই মামলায় জেলহাজতে রয়েছেন।
শিক্ষা বিভাগের সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, কোনো শিক্ষক ফৌজদারি মামলায় গ্রেফতার হয়ে জেলহাজতে গেলে বিধি অনুযায়ী সাময়িক বরখাস্তের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করার প্রক্রিয়া রয়েছে। এ ক্ষেত্রে সেই প্রক্রিয়া যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
এদিকে অর্থ বাণিজ্য বা গোপন সমঝোতার অভিযোগ অস্বীকার করে এডহক কমিটির সভাপতি শেখ আলাউদ্দিন সোহেল বলেন, গত ১৬ আগস্টের সভায় প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলামকে সাময়িক বহিষ্কার এবং সহকারী প্রধান শিক্ষক জালাল উদ্দিনকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে এ সিদ্ধান্তের স্বপক্ষে কোনো কাগজপত্র তিনি তাৎক্ষণিকভাবে দেখাতে পারেননি।
প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর সত্যতা এবং সাময়িক বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্রের বিষয়ে প্রশাসনিকভাবে যাচাই-বাছাই প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহলের অনেকে।
























