ঢাকা ১২:৩১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ১৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
পার্টনার ফিল্ড স্কুল কংগ্রেস-২০২৬

জলবায়ু সহনশীল কৃষি ও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে ডুমুরিয়ায় কর্মশালা 

ডুমুরিয়া (খুলনা) প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৩:১২:৫৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ জুন ২০২৬
  • / ৭০ বার পঠিত

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা, নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি এবং কৃষকদের আধুনিক কৃষি প্রযুক্তিতে দক্ষ করে তুলতে খুলনার ডুমুরিয়ায় অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘পার্টনার ফিল্ড স্কুল কংগ্রেস-২০২৬’।

রবিবার (৭ জুন) সকালে ডুমুরিয়া উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের বাস্তবায়নে এবং কৃষি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন ‘প্রোগ্রাম অন এগ্রিকালচারাল অ্যান্ড রুরাল ট্রান্সফরমেশন ফর নিউট্রিশন, এন্টারপ্রেনরশিপ অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স ইন বাংলাদেশ (PARTNER)’ প্রকল্পের অধীনে দিনব্যাপী এ কংগ্রেস ও আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে ডুমুরিয়া উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নের প্রগতিশীল কৃষক, কৃষি কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও গণমাধ্যমকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন।

আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ নাজমুল হুদা। প্রধান অতিথি ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর খুলনা জেলার প্রশিক্ষক মহাদেব চন্দ্র সানা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত উপপরিচালক (উদ্যান) আব্দুস সামাদসহ কৃষি বিভাগের বিভিন্ন কর্মকর্তা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মহাদেব চন্দ্র সানা বলেন, “পার্টনার প্রকল্পের মাধ্যমে আগামী পাঁচ বছরে দেশব্যাপী তিন লাখ হেক্টর জমিকে উত্তম কৃষি চর্চার আওতায় আনা হবে। এর একটি বড় অংশ থাকবে উপকূলীয় অঞ্চলের লবণাক্ত ও পতিত জমি। কৃষকদের আধুনিক ও উচ্চফলনশীল জাত চাষে উদ্বুদ্ধ করার পাশাপাশি দেশের প্রায় ২ কোটি ৮৭ লাখ কৃষককে স্মার্ট এগ্রিকালচারাল কার্ড প্রদান করা হবে। এছাড়া মাটি ও পানির স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য বিশেষায়িত ল্যাব স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”

অতিরিক্ত উপপরিচালক (উদ্যান) আব্দুস সামাদ বলেন, “নিরাপদ ও টেকসই খাদ্য উৎপাদন বর্তমান সময়ের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। পার্টনার ফিল্ড স্কুলের মাধ্যমে কৃষকদের দলগত প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে, যা নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি এবং কৃষকদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”

অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে স্থানীয় সফল কৃষক হাবিবুর রহমান বলেন, “ডুমুরিয়ার প্রধান সমস্যা মাটি ও পানির লবণাক্ততা। আগে লবণাক্ততার কারণে অনেক জমি পতিত পড়ে থাকত। পার্টনার ফিল্ড স্কুলে প্রশিক্ষণ নিয়ে এখন আমরা লবণাক্ততা সহনশীল জাত ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে সফলভাবে চাষাবাদ করছি। এতে পতিত জমি আবাদের আওতায় এসেছে এবং ফলনও বেড়েছে।”

আলোচনায় বক্তারা বলেন, উপকূলীয় অঞ্চলে বিষমুক্ত সবজি, ফল ও মাছ চাষ সম্প্রসারণের মাধ্যমে নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনের পাশাপাশি গ্রামীণ বেকার যুবকদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে। কৃষকদের শুধু উৎপাদক নয়, আধুনিক কৃষি উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলাই এ প্রকল্পের অন্যতম লক্ষ্য।

দিনব্যাপী অনুষ্ঠানে সফল মাঠ স্কুলের কৃষকদের পুরস্কৃত করা হয়। পাশাপাশি আধুনিক কৃষি তথ্যসেবা কেন্দ্র, ডিজিটাল কৃষি প্রযুক্তি এবং কৃষকদের জন্য বিভিন্ন অনলাইন সেবার দিকনির্দেশনা তুলে ধরা হয়। বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে কংগ্রেসের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

ট্যাগস :

পার্টনার ফিল্ড স্কুল কংগ্রেস-২০২৬

জলবায়ু সহনশীল কৃষি ও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে ডুমুরিয়ায় কর্মশালা 

আপডেট সময় : ০৩:১২:৫৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ জুন ২০২৬

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা, নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি এবং কৃষকদের আধুনিক কৃষি প্রযুক্তিতে দক্ষ করে তুলতে খুলনার ডুমুরিয়ায় অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘পার্টনার ফিল্ড স্কুল কংগ্রেস-২০২৬’।

রবিবার (৭ জুন) সকালে ডুমুরিয়া উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের বাস্তবায়নে এবং কৃষি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন ‘প্রোগ্রাম অন এগ্রিকালচারাল অ্যান্ড রুরাল ট্রান্সফরমেশন ফর নিউট্রিশন, এন্টারপ্রেনরশিপ অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স ইন বাংলাদেশ (PARTNER)’ প্রকল্পের অধীনে দিনব্যাপী এ কংগ্রেস ও আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে ডুমুরিয়া উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নের প্রগতিশীল কৃষক, কৃষি কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও গণমাধ্যমকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন।

আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ নাজমুল হুদা। প্রধান অতিথি ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর খুলনা জেলার প্রশিক্ষক মহাদেব চন্দ্র সানা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত উপপরিচালক (উদ্যান) আব্দুস সামাদসহ কৃষি বিভাগের বিভিন্ন কর্মকর্তা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মহাদেব চন্দ্র সানা বলেন, “পার্টনার প্রকল্পের মাধ্যমে আগামী পাঁচ বছরে দেশব্যাপী তিন লাখ হেক্টর জমিকে উত্তম কৃষি চর্চার আওতায় আনা হবে। এর একটি বড় অংশ থাকবে উপকূলীয় অঞ্চলের লবণাক্ত ও পতিত জমি। কৃষকদের আধুনিক ও উচ্চফলনশীল জাত চাষে উদ্বুদ্ধ করার পাশাপাশি দেশের প্রায় ২ কোটি ৮৭ লাখ কৃষককে স্মার্ট এগ্রিকালচারাল কার্ড প্রদান করা হবে। এছাড়া মাটি ও পানির স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য বিশেষায়িত ল্যাব স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”

অতিরিক্ত উপপরিচালক (উদ্যান) আব্দুস সামাদ বলেন, “নিরাপদ ও টেকসই খাদ্য উৎপাদন বর্তমান সময়ের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। পার্টনার ফিল্ড স্কুলের মাধ্যমে কৃষকদের দলগত প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে, যা নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি এবং কৃষকদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”

অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে স্থানীয় সফল কৃষক হাবিবুর রহমান বলেন, “ডুমুরিয়ার প্রধান সমস্যা মাটি ও পানির লবণাক্ততা। আগে লবণাক্ততার কারণে অনেক জমি পতিত পড়ে থাকত। পার্টনার ফিল্ড স্কুলে প্রশিক্ষণ নিয়ে এখন আমরা লবণাক্ততা সহনশীল জাত ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে সফলভাবে চাষাবাদ করছি। এতে পতিত জমি আবাদের আওতায় এসেছে এবং ফলনও বেড়েছে।”

আলোচনায় বক্তারা বলেন, উপকূলীয় অঞ্চলে বিষমুক্ত সবজি, ফল ও মাছ চাষ সম্প্রসারণের মাধ্যমে নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনের পাশাপাশি গ্রামীণ বেকার যুবকদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে। কৃষকদের শুধু উৎপাদক নয়, আধুনিক কৃষি উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলাই এ প্রকল্পের অন্যতম লক্ষ্য।

দিনব্যাপী অনুষ্ঠানে সফল মাঠ স্কুলের কৃষকদের পুরস্কৃত করা হয়। পাশাপাশি আধুনিক কৃষি তথ্যসেবা কেন্দ্র, ডিজিটাল কৃষি প্রযুক্তি এবং কৃষকদের জন্য বিভিন্ন অনলাইন সেবার দিকনির্দেশনা তুলে ধরা হয়। বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে কংগ্রেসের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।